প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪১ পিএম (ভিজিট : )
দুই বাংলাদেশীর মৃত্যুদন্ড: সোস্যাল মিডিয়ায় বিষক্রিয়া, সত্য/মিথ্যা না জেনেই পোষ্ট!
তাজাখবর২৪.কম, ডেস্ক নিউজ: মসজিদ আল হারাম মক্কায় (নাজ্জাফা পদে) কাজ করেন অনেক বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, ইন্ডিয়ান মুসলিম, ইন্দোনেশিয়ান !! সহকর্মী নাজ্জাফাদের বর্ননা…২০২২/২৩ সালের করনাকালীন সময়ের ঘটনা এটি। এতদিন পর্যন্ত বিচার প্রক্রিয়াধীন থাকলেও শিরুচ্ছেদ কার্যকর করা হয় গত ১৪ ই অক্টোবর ২০২৬।
অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি হুদুদে; আরও নির্ধারিত করে বললে মসজিদে হেরেমের ভেতরেই অনৈতিক কাজ করেছে। হারামে এমন কাজ করেছে কথাটা বিশ্বাস করতে চাইনি। অনৈতিক বলতে পুরো ভ্যাভিচার করেছে? নাকি প্রাথমিক কিছু কাজ। কিসিং বা জড়িয়ে ধরা এই টাইপ।
তাদের বর্ননা একদম সবটাই করেছে এবং ছেলে মেয়ে উভয়েই নাজ্জাফার কাজ করতেন। তাঁরা একসঙ্গেই কাজ করতেন এমন দাবি তাঁর। ভিডিও করা ছেলেটা ইন্ডিয়ান মুসলিম উত্তরপ্রদেশের উর্দু ভাষী হওয়াতে অনেকেই পাকিস্তানি বলেছিল, সে নিজেও মেয়েটার সঙ্গে অনৈতিক কাজ করতে চেয়েছিল। ছেলে-মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক, প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করাতে ছেলেটা ভিডিওটা পাবলিশ করে দেয়।
টিকটকসহ বেশ কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সে এটা আপলোড করলে রাতারাতি ভাইরাল হয় এবং সৌদি সরকার এটা নিয়ে ধরপাকড় শুরু করে।
ভিডিওটা সৌদি পুলিশ পরবর্তীতে যাদের ফোনে সেইভ পেয়েছে তাঁদের অনেককেও গ্রেফতার/এক্সিটসহ নানারকম শাস্তি দিয়েছে! হেরেমের অনেক নাজ্জাফার কর্মী এর ভুক্তভোগী। এমনকি ভিডিও করার অপরাধে উর্দুভাষী ছেলেটার ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে সৌদি সরকার।
এখানে অপরাধ ও শাস্তির আলাপ তুললে, মসজিদের মতন পবিত্র জায়গায় এমন ব্যাভিচার! হুদুদের এরিয়ায় গাছের পাতাও ছেঁড়া যেখানে নিষিদ্ধ কাজ সেখানে এমন একটা অপ্রীতিকর জঘন্য ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সৌদি সরকারের জন্য হয়তো প্রয়োজনীয় ছিল।
তাজির হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের সমালোচনা যারা করছেন তাঁরা নিজ দেশের নাগরিকদের নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলুন। তাছাড়া তাজির কুরআন ও সুন্নাহর সমন্বিত রায় দিতে পারা বিজ্ঞ ও অভিজ্ঞ আলেমদের নিজেদের নির্ধারণ করা শাস্তি প্রয়োগ। এটাকে ডিরেক্ট কুরআন সুন্নাহ বহির্ভূত বলার সুযোগ নেই। তো সৌদি মুফতিদের এই রায়ের পর পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ ছিল। বাংলাদেশ সরকার এটা নিয়ে দীর্ঘ ৪-৬ বছরেও কোনও পদক্ষেপ নেয়নি কেন? তাঁরা কেনইবা জানতেন না সেই প্রশ্ন তোলাটা বাঞ্ছনীয়।
দুজন অপরাধী সম্পর্কে বলি। মৃত্যুদণ্ড দেয়ার আগে উনারা তওবা করেছিলেন আশাবাদী। দুনিয়ায় করা অপকর্মের শাস্তি আল্লাহ তাঁদেরকে দিয়েছেন। আখেরাতে তাঁদেরকে ক্ষমাপ্রাপ্তদের দলভুক্ত করে দিন। জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন।
এমন অবৈধ কাজ থেকে আল্লাহ আমাদেরকেও হেফাজত করুন। হুদুদ ও মসজিদে হেরেমের পবিত্রতা রক্ষা করার তাওফিক আল্লাহ গোটা মুসলিম উম্মাহকে দিক।
বিশেষ ভাবে উল্লেখ, যে সব ছবি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যাচ্ছে, সবই প্রোপাগন্ডা ।আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোন শাস্তিপ্রাপ্তদের ছবি প্রকাশ করা হয়নি!
তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩, ০৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮