মোহাম্মদ খোরশেদ হেলালী,তাজাখবর২৪.কম,কক্সবাজার প্রতিনিধি: অভিবাসন নিশ্চিতকরণ, অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা এবং অভিবাসন সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার লক্ষ্যে কক্সবাজারে নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।প্রত্যাশী কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন Strengthened and Informative Migration Systems (SIMS) প্রকল্পের উদ্যোগে কক্সবাজারের হোটেল বীচ পার্কের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যাশী সিমস্ প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার বশির আহম্মদ মনি (সূফি মনি)-এর সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ দাউদ হাসান, চীফ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও যুগ্ম জেলা জজ, কক্সবাজার।সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, জেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সুব্রত বিশ্বাস, জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ সরোয়ার আকবর, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল আউয়াল, জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ পরিদর্শক (প্রশাসন) আমির হোসেন এবং কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ দাউদ হাসান বলেন, “নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থা, ভুয়া এজেন্সি বন্ধ এবং অভিবাসনবিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় জরুরি। অভিবাসীরা আমাদের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাই তাঁদের অধিকার সুরক্ষা এবং প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের অর্থ উদ্ধারে লিগ্যাল এইড ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”
সুইজারল্যান্ড সরকার ও হেলভেটাস বাংলাদেশের সহায়তায় বাস্তবায়িত প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ সভায় বিশেষ অতিথিরা তাঁদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অভিবাসী কর্মী ও তাঁদের পরিবারের জন্য বিদ্যমান সরকারি সেবাসমূহ তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এবং স্থানীয় পর্যায়ের অংশীজনদের সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। সঠিক তথ্য প্রদান, প্রয়োজনীয় পরামর্শ, আইনগত সহায়তা এবং কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিদেশগমন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করা সম্ভব।
বক্তারা বিদেশগামী কর্মীদের সঙ্গে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ন্যায্য ও স্বচ্ছ চুক্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, বিদেশ যাওয়ার আগে সঠিক তথ্য যাচাই, প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন এবং অভিবাসনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে প্রতারণা, অতিরিক্ত ব্যয় ও অনিরাপদ অভিবাসনের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। সভায় নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ উঠে আসে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—উপজেলা পর্যায়ে ইমামদের নিয়ে নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক ওরিয়েন্টেশনের আয়োজন, যাতে তাঁরা ধর্মীয় ও সামাজিক পরিসরে এ বিষয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে পারেন; ইউনিয়ন পর্যায়ে ভিসা ও বিদেশগমন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের সেবা সহজলভ্য করা; বিদেশ যাওয়ার আগে দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ গ্রহণে অভিবাসন প্রত্যাশীদের উৎসাহিত করা; এবং স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে প্রতি মাসে অন্তত একটি করে অভিবাসন বিষয়ক সচেতনতামূলক ক্লাস বা সেশনের আয়োজন করা। বিশেষ করে, পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়া যেসব তরুণ বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় কক্সবাজারে কর্মরত বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, আইনজীবী, গণমাধ্যমকর্মী এবং অভিবাসনবিষয়ক সেবাগ্রহীতারা উপস্থিত ছিলেন। মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীরা তাঁদের অভিজ্ঞতা, মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন। আলোচনায় অভিবাসীদের জন্য বিদ্যমান সেবাসমূহের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অভিবাসন প্রত্যাশী, বিদেশে কর্মরত ও বিদেশফেরত কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের জন্য আরও নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩, ০৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮