প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৫ পিএম (ভিজিট : )
কেন্দুয়ায় পল্লীবিদ্যুতের ৮ হাজার মিটার নষ্ট! অতিরিক্ত বিলের চাপে গ্রাহক
রাখাল বিশ্বাস,তাজাখবর২৪.কম,কেন্দুয়া (নেত্রকোনা): নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় দুই বছর ধরে চলছে পল্লীবিদ্যুতের মিটার সংকট। উপজেলার ৯০ হাজার গ্রাহকের মাঝে ৮ হাজারের উপরে মিটার নষ্ট রয়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। সময় মত নষ্ট মিটার পরিবর্তন না হওয়ায় অনেক গ্রাহককে রাখা হয়েছে গড় বিলের আওতায়। এতে প্রকৃত বিদ্যুত ব্যবহারের তুলনায় অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে বলে ভূক্তভোগীদের অভিযোগ।নেত্রকোনা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কেন্দুয়া জোনাল অফিস সূত্রে জানা যায়,আবাসিক,সেচ ও শিল্প খাতে উপজেলায় গ্রাহক রয়েছেন ৯০ হাজারের উপরে। ২ বছর আগে থেকে মিটারের সংকট হয়।চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় নষ্ট মিটার পরিবর্তন করা যাচ্ছে না। এতে মিটার সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। গত বছর নষ্ট মিটারের সংখ্যা ছিল ৬ হাজারের কিছু উপরে। বর্তমানে তা ৮ হাজারে ছাড়িয়েছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানান পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
গ্রাহকদের অভিযোগ,মিটার নষ্ট হওয়ার পর পরিবর্তনের জন্য আবেদন করে দীর্ঘ দিনেও প্রতিকার মিলছে না। সেই সাথে অফিসে আসা যাওয়ার হয়রানি তো আছেই। গ্রাহকরা জানান,প্রতি মাসে গড় হিসেবের ভিত্তিতে বিদ্যুৎ বিল তৈরী করা হচ্ছে। কোন কোন মাসে আগের মাসের তুলনায় দ্বিগুণ বা তারও বেশী বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে একদিকে বাড়তি বিলের চাপ,অন্য দিকে নষ্ট মিটার পরিবর্তনের জন্য মাসের পর মাস বিদ্যুৎ অফিসে ধরনা দিতে হচ্ছে। গ্রাহকরা আরও বলেন, মিটার নষ্ট হওয়ার পর অফিসে যোগাযোগ করলে বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য নিয়ে গড় বিল করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর থেকে সেই হিসেবেই মাসিক গড় বিল তৈরী করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন মিটার পরিবর্তন না হওয়ায় 'গড়বিল' ব্যবস্থাই এখন অনেকের জন্য নতুন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এনিয়ে প্রতিদিনই বিদ্যুৎ অফিসে এসে অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন গ্রাহকরা। অতিরিক্ত বিল নিয়ে কোন কোন গ্রাহকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কথা কাটাকাটি ও অপ্রীতিকর বচসার ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে।
গ্রাহকদের দাবি,দ্রুত সময়ের মধ্যে নষ্ট মিটার পরিবর্তন করে প্রকৃত বিদ্যুৎ ব্যবহারের ভিত্তিতে বিল নির্ধারণ করা হোক। এমন অভিযোগ সম্পর্কে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মজনু বলেন,প্রতিদিন অন্তত ৩০/৪০ জন বিদ্যুৎগ্রাহক আমাকে ফোন করে মিটার ও অতিরিক্ত বিলের সমস্যার কথা জানান। তারা অভিযোগ করেন,কারও মিটার সমস্যা কারও বিল বেশী ইত্যাদি। এসব অভিযোগ শুনতে শুনতে এখন অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে মিটার সমস্যা ও সংকট সমাধেনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরী পদক্ষেব গ্রহনের দাবি জানান।এব্যপারে কেন্দুয়া জোনাল অফিসের ডিজিএম প্রকৌশলী ওমর ফারুক বলেন,মিটার সরবরাহ পাওয়ার পর জরুরী প্রয়োজন বিবেচনায় সেচ ও শিল্প গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দিয়ে মিটার পরিবর্তন করা হচ্ছে। নষ্ট মিটারের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি খুব শিঘ্রী এই পরিস্থিতির অবসান হবে।
তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩, ২৪ রবউসি সানি ১৪৪৮