কেন্দুয়ার রাজেশ্বরী লঞ্চঘাট বাণিজ্যের স্মৃতি থেকে পর্যটনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা!
রাখাল বিশ্বাস,তাজাখবর২৪.কম,কেন্দুয়া (নেত্রকোনা): নেত্রকোনার কেন্দুয়ার মধ্যযুগের কবি কঙ্ক স্মৃতি বিজড়িত একসময়ের স্রোতশ্বিনী রাজ-রাজেশ্বরী নদীপথ ছিল হাওরাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ ও বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র।কেন্দুয়া সদরের গোডাউন সংলগ্ন উপজেলার লঞ্চঘাটটিতে ভিড়ত যাত্রীবাহী ট্রলারসহ পণ্যবাহী নৌযান।মাঝিমাল্লার কণ্ঠের গান আর সরগমে মুখরিত থাকতো নৌঘাটটি। দিনরাত আসতো হাওরের নানা কৃষিপণ্য।আবার এখান থেকেই তা ছড়িয়ে পড়ত দেশের নানা প্রান্তে। কিন্তু ২০০১ সালে কান্দিউড়া ইউনিয়নের কুন্ডলী-বেজগাতি ও জফরপুর-বেজগাতি ২টি নিচুসেতু নির্মাণের সময় নৌযান চলাচলের বিষয়টি নকশায় না রাখায় ধীরে ধীরে থমকে যায় সেই ব্যস্ততা।
অতিনিচু সেতু নির্মাণের কারণে নৌ-ট্রলার চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।ফলে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে লঞ্চঘাটটি এখন নীরব উন্নয়নের এক অসমাপ্ত সমীকরণের প্রতীক হয়ে পরিত্যক্ত রয়েছে।তবে নদীটিকে খাল বানিয়ে ফেলায় বিভিন্ন স্থান দখল হয়ে গেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তারা বলেন,সরকারের খনন কর্মর্সূচির আওতায় এনে রাজ-রাজেশ্বরী নদীটি খনন করা হলে নদী ও জলভূমি এখনও যে অবস্থায় আছে,বর্ষায় সেই জলপথ ধরে ট্রলারে চড়ে পৌঁছানো যাবে বিস্তীর্ণ হাওরে। খোলা জলরাশি, জেলেজীবন আর সূর্যাস্ত এসব মিলিয়ে পুরনো লঞ্চঘাটকে গড়ে তোলা যায় হাওরভিত্তিক নৌপর্যটনের প্রবেশদ্বার হিসেবে। সঙ্গে যুক্ত হতে পারে রোয়াইলবাড়ি দুর্গের প্রত্নসম্পদ, বেতাই নদী ও প্রাচীন খোজারদিঘি যা মিলে কেন্দুয়াকে একটি সম্পূর্ণ পর্যটন রুটে রূপ দিতে পারে।এখানে বড় স্থাপনা নয়, প্রয়োজন পরিকল্পনা। যেমন সম্ভাবনাময় নৌরুট ও দর্শনীয় স্থান চিহ্নিতকরণ,নিরাপদ ঘাট, লাইফ জ্যাকেট, প্রশিক্ষিত নৌ-গাইড,তথ্যকেন্দ্র, শৌচাগার ও স্থানীয় হোটেল ব্যবস্থাপনা।
নিচু বিদ্যমান সেতু দুটির কারিগরি সমীক্ষা নৌচলাচল উপযোগী করতে উঁচু সেতু নির্মাণ করে তরুণদের নৌ-গাইড হিসেবে প্রশিক্ষণ, স্থানীয় বাজার ও কর্মসংস্থান তৈরি হলে পর্যটনের সুফল ছড়িয়ে পড়বে জনপদে। তবে অতিরিক্ত নৌযান, প্লাস্টিক বর্জ্য বা অপরিকল্পিত স্থাপনা যেন হাওরের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি না করে সেই দিক লক্ষ্য করে লঞ্চঘাটের ব্যবস্থা করতে পারলে, একসময় যে জলপথে বয়ে আসতো হাওরের সম্পদ, ভবিষ্যতে সেই একই পথে আসতে পারে মানুষ হাওরের সৌন্দর্য দেখতে। বাণিজ্যের নৌঘাট থেকে পর্যটনের নৌদ্বার হয়ে ওঠার এই সম্ভাবনাটিই এখন আবার নতুন করে কাজে লাগাতে পারলে পর্যটনস্পট হয়ে উঠতে পারে রাজরাজেশ্বরী নদীর কূল,রাজস্বও আসবে সরকারের।
তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩, ১৫ রবউিস সানি ১৪৪৮