তাজাখবর২৪.কম,শেরপুর জেলা প্রতিনিধি: শারদীয় দুর্গাপূজার আগমনী বার্তায় উৎসবের রঙে সাজতে শুরু করেছে শেরপুর। পূজার দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে মণ্ডপে মণ্ডপে ব্যস্ততা। কোথাও প্রতিমা নির্মাণ ও রং-তুলির কাজ চলছে, কোথাও চলছে মণ্ডপ সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার প্রস্তুতি। সব মিলিয়ে এখন ঢাকের বাদ্যির অপেক্ষায় শেরপুরের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।এবার জেলার পাঁচ উপজেলায় ১৭৭টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের তুলনায় পূজার আয়োজন ও মণ্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পূজাকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নিয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ সরবরাহ, যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পূজা কমিটিগুলোকেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।শেরপুর শহরসহ বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা তৈরির কারিগররা দিন-রাত কাজ করছেন। মণ্ডপে চলছে বাঁশ, কাপড় ও অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে সাজসজ্জার কাজ। পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও দর্শনার্থীদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা জানান, এবারের দুর্গাপূজাকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের প্রস্তুতি ও সহযোগিতায় তারা নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে পারবেন বলে আশা করছেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনেকে বলেন, দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সামাজিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যেরও উৎসব। প্রতি বছর শেরপুরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবে অংশ নেন।এদিকে পূজাকে কেন্দ্র করে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সহায়তা ও নিরাপত্তামূলক প্রস্তুতি নেওয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে এবারের দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে।প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূজা কমিটি ও স্থানীয় জনগণকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো ধরনের সমস্যা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্যও বলা হয়েছে।সব মিলিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে শেরপুর এখন উৎসবের অপেক্ষায়। মণ্ডপে মণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি আর মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস জানান দিচ্ছে।
তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩, ২৪ রবউসি সানি ১৪৪৮