ক্ষমতার অহংকারে সংযম হারালে তার মূল্যও একসময় দিতে হয়
প্রকাশ: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৬ পিএম  (ভিজিট : )
ক্ষমতার অহংকারে সংযম হারালে তার মূল্যও একসময় দিতে হয়

ক্ষমতার অহংকারে সংযম হারালে তার মূল্যও একসময় দিতে হয়

হেলাল উদ্দিন,তাজাখবর২৪.কম,সিনিয়র সাংবাদিক,ফেইসবুক  পোস্টে থেকে: পিটাবো ধইরা’, ‘ঘাড় ধরে বের করে দিবো’—এ কোন মেজর আখতার!বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার সময় একজন যাত্রীর ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে যে মেজাজে এবং যে ভাষায় কথা বলতে দেখা গেছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়।জমজমের পানি পেতে দেরি হয়েছে, মেজাজ খারাপ হতেই পারে। তাই বলে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে একজন 

সরকারি কর্মকর্তাকে 
‘পিটাবো ধইরা’, ‘ঘাড় ধরে বের করে দিবো’—এখানেই থামেননি মেজর আখতার।ভাইরাল ভিডিওতে তাকে আরও বলতে শোনা যায়, “আপনাদের সবাইকে বিমানবন্দরে বেঁধে পিটানো দরকার, যাতে তারেক রহমান এটি দেখেন। তখন আপনারা সোজা হবেন।” বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করেও তিনি অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন।এটা কোনো রাজনৈতিক সভা নয়—শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই স্থাপনা।সেখানে একজন প্রবীণ রাজনীতিক ও অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের এভাবে হুমকি দেবেন—এটা শুধু ঔদ্ধত্যের প্রশ্ন নয়, আইনশৃঙ্খলা ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তারও প্রশ্ন।

রাগের সঙ্গে কি হিতাহিত জ্ঞানও হারিয়েছিলেন মেজর আখতার?
একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রবীণ রাজনীতিকের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।বিমানবন্দরের মতো সংরক্ষিত ও স্পর্শকাতর স্থানে এত ঔদ্ধত্য আসে কোথা থেকে? বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক এমপি কিংবা প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতা—কোনো পরিচয়ই কাউকে সরকারি কর্মকর্তাকে পেটানো বা ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয়ার অধিকার দেয় না।মেজর আখতার রাজনীতিতেও দীর্ঘদিন বিতর্কিত। একসময় বিএনপিতে সক্রিয় ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে একাধিকবার বহিষ্কৃত হওয়ার পর তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।

শেষ পর্যন্ত বিমানবন্দরের ঘটনায় জামায়াত নেতা মেজর আখতার গ্রেপ্তার হয়েছেন। সরকারের সিগন্যাল স্পষ্ট হওয়া দরকার—দলীয় পরিচয়, রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা ক্ষমতার দাপট; কোনোটিই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।সরকারি কর্মকর্তা অন্যায় করলে প্রতিবাদ করুন, ব্যবস্থা চান। কিন্তু ক্ষমতার দম্ভে হুমকি দেওয়ার অধিকার কারও নেই।ক্ষমতা আসে, ক্ষমতা যায়। ক্ষমতার অহংকারে সংযম হারালে তার মূল্যও একসময় দিতে হয়।

তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩, ২১ রবউসি সানি ১৪৪৮

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদক: কায়সার হাসান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু, সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল: ০১৭৫৫৩৭৬১৭৮,০১৮১৮১২০৯০৮, ই-মেইল: [email protected], [email protected]
সম্পাদক: কায়সার হাসান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু, সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল: ০১৭৫৫৩৭৬১৭৮,০১৮১৮১২০৯০৮, ই-মেইল: [email protected], [email protected]
🔝