মা-ছেলেকে অমানবিক নির্যাতনের পর ৩ দিন বন্দি বানিয়ে রাখেন চুন্নু
প্রকাশ: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০১ পিএম  (ভিজিট : )
মা-ছেলেকে অমানবিক নির্যাতনের পর ৩ দিন বন্দি বানিয়ে রাখেন চুন্নু

মা-ছেলেকে অমানবিক নির্যাতনের পর ৩ দিন বন্দি বানিয়ে রাখেন চুন্নু

তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: পাঁচ হাজার টাকা চুরির অপবাদে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধরে নিয়ে অমানবিক নির্যাতনের পর গোয়ালঘরে পায়ে শিকল বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তার বিধবা মাও।অভিযোগ, মা-ছেলেকে টানা প্রায় দুই ঘণ্টা মারধরের পর চিকিৎসা নিতে যেতে দেওয়া হয়নি। তিন দিন বাড়িতে অবরুদ্ধ থাকার পর তীব্র যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে এক ব্যক্তির সহযোগিতায় পালিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তারা।ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার গামুড়িবুনিয়া গ্রামে। বর্তমানে কলাপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিধবা নাজমা বেগম ও তার ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে জিসান হোসেন। তাদের শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নু তালুকদার ও তার ভাই উপজেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল হাই তালুকদারের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

নাজমা বেগমের ভাষ্য, কলাপাড়া উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের তারিকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী জিসান। শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে গামুড়িবুনিয়া গ্রামের বাড়ি থেকে আব্দুল হাই তালুকদার তার ছেলেকে ধরে নিয়ে যান। পরে পাঁচ হাজার টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে জিসানকে এলোপাতাড়ি পেটানো হয়। একপর্যায়ে তাকে গোয়ালঘরে নিয়ে পায়ে শিকল বেঁধে রাখা হয়।ছেলের এমন খবর পেয়ে সেখানে গেলে নাজমার সামনেই জিসানকে আবারও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। ছেলেকে আর না মারার অনুরোধ করলে তাকেও নির্যাতন করা হয় বলে দাবি তার।

নাজমা বেগমের অভিযোগ, তার স্বামী বাচ্চু হাওলাদার প্রায় দেড় বছর আগে ব্রেন স্ট্রোকে মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি জমি কেনার জন্য আব্দুল হাই তালুকদারকে এক লাখ টাকা দিয়ে যান। সেই টাকা ফেরত না দেওয়া এবং জমি না দেওয়ার উদ্দেশ্যেই চুরির অভিযোগ তুলে মা-ছেলেকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।নির্যাতনের শিকার জিসান জানায়, তাকে মারধর করতে করতে প্রস্রাব করে দেওয়ার পরও পেটানো হয়। পরে লোকজন দিয়ে বাড়িতে পাহারা বসিয়ে তাকে ও তার মাকে তিন দিন গৃহবন্দী করে রাখা হয়, যাতে তারা হাসপাতালে যেতে না পারে। বর্তমানে হাসপাতাল থেকেও তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তার।জিসানের ছোট বোন ও তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মুন আক্তার জানায়, মা ও ভাইকে মারধরের পর তাদের ওষুধ খেতেও যেতে দেওয়া হয়নি। ঘরে বসে মা ও ভাই যন্ত্রণায় কাঁদতেন। মুনের অভিযোগ, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের ভয়ে কেউ কথা বলতে পারেন না।

মা-ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রদল নেতা জানান, সোমবার রাতে তারা পালিয়ে তার বাড়িতে আশ্রয় নেন। তাদের শরীরে আঘাতের অসংখ্য চিহ্ন দেখে তিনি প্রথমে ভয় পেয়ে যান। পরে তাদের শারীরিক অবস্থা দেখে ভোররাতে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তারও সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান চুন্নু বলেন, ওই ছেলে চুরি করে। তাদের বাড়ি থেকে মানিব্যাগ চুরি করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তার ভাই উপজেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল হাই বলেন, ছেলেটি চোর, তাই তাকে চর-থাপ্পড় দেওয়া হয়েছে। তবে তার মাকে কেন মারধর করা হয়েছে— এ প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি তিনি। টাকা পাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টাকা পাবেন বলেই তাদের জমি চাষ করতে দেওয়া হয়। এ সময় আহত মা-ছেলে কোন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তা জানতে চান তিনি।কলাপাড়া হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, মা ও ছেলে দুজনের শরীরেই অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিষয়টি পুলিশি হওয়ায় তা লিপিবদ্ধ করে রাখা হয়েছে।কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। তিনি হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে দেখবেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩,  ১১ রবউিস সানি ১৪৪৮

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদক: কায়সার হাসান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু, সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল: ০১৭৫৫৩৭৬১৭৮,০১৮১৮১২০৯০৮, ই-মেইল: [email protected], [email protected]
সম্পাদক: কায়সার হাসান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু, সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল: ০১৭৫৫৩৭৬১৭৮,০১৮১৮১২০৯০৮, ই-মেইল: [email protected], [email protected]
🔝