রাখাল বিশ্বাস,তাজাখবর২৪.কম,কেন্দুয়া(নেত্রকোনা): নেত্রকোনার কেন্দুয়ার পাইকুড়া ইউনিয়নটি সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত।অথচ দশক দুই আগেও যেখানে ক্ষতিকর তামাক চাষ করা হতো সেখানে আজ বিস্তৃত হাওরে সবজি চাষে সবুজের সমারোহ। মাচায় ঝুলছে সিম গাছের লতা-গুল্ম।ফুল আসতে শুরু করেছে ক্ষেতের মাচার অধিকাংশ সিম গাছে, কোথাও ঝুলছে থোকাবাঁধা সিমের ছড়া। দিন রাত চলছে হাওরের মাঠজুড়ে কৃষকের ব্যস্ততা। নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুরা ইউনিয়নের সম্ভাবনাময় এই ফসল চাষে এবার বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে উৎপাদন খরচ। কৃষক ইসলাম উদ্দিন জানান,গত বছর ১২ কাঠা জমিতে সিম চাষ করলেও এবার করেছেন মাত্র চার কাঠায়। কৃষকদের অভিযোগ, সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ায় বিনিয়োগ কমাতে হচ্ছে। সরকারি সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁদের। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কৃষি বিভাগ বলছে, মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে নিয়মিত।
কৃষক কাঞ্চন মিয়া,বাবলু মিয়াসহ অনেকেই জানান,পাইকুড়া ইউনিয়নের অধিকাংশ ফসলী জমির মাটি খুবই উর্ব্বর। একসময় তামাক চাষের জন্য বিখ্যাত ছিল এই অঞ্চল।কিন্তু যখন থেকে জানা গেলো তামাক চাষের ক্ষতিকর দিক তখন থেকেই তামাক চাষ ছেড়ে সবজি চাষে আগ্রহী হই আমরা। সবজির পাশাপাশি ধান চাষও হয় প্রচুর। একটি জমিতে তিনটি সবজি চাষ করা যেতো এবং লাভবান হতেন কৃষকরা।কিন্তু এবার আনুসাঙ্গিক খরচ, সার ও কীট নাশকের দাম অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় সবজি চাষ কমাতে বাধ্য হচ্ছি। তারা জানান, আমাদের হাওরে লাউ,মিষ্টি কুমড়া,আলু,মুলা,বেগুন,সিম,কপি,টমেটো,পটলসহ উৎপাদিত শস্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাইকারদের মাধ্যমে বিক্রি হতো। এখন সেই ঐতিহ্য অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছ।শীত আগত কিন্তু এবার এখন পর্যন্ত শীতের সবজি বাজারে তুলতে পরছি না। চাষীরা শীত ও বর্ষার সবজি চাষে কৃষি বিভাগসহ সরকারী সহযোগীতা কামনা করছেন।