গাজর-সবজির স্যুপের পাত্রে মিলল মডেলের খুলি, আদালতে হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা
প্রকাশ: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৭ পিএম  (ভিজিট : )
গাজর-সবজির স্যুপের পাত্রে মিলল মডেলের খুলি, আদালতে হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা

গাজর-সবজির স্যুপের পাত্রে মিলল মডেলের খুলি, আদালতে হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা

তাজাখবর২৪.কম,বিনোদন ডেস্ক: হংকংয়ের মডেল ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাবি চোই হত্যাকাণ্ডের বিচার চলাকালে আদালতে উঠে এসেছে নৃশংস হত্যার ভয়াবহ বিবরণ। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর অ্যাবির দেহ টুকরো টুকরো করা হয়।পরে গাজর ও অন্যান্য সবজি দিয়ে রান্না করা স্যুপের একটি বড় পাত্রে পাওয়া যায় তার খুলি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তার সাবেক স্বামীসহ তিনজন আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি নিয়ে বিরোধের জেরে অ্যাবিকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ প্রসিকিউশনের। ২৮ বছর বয়সী এই মডেল ২১ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হন। তিন দিন পর হংকংয়ের তাই পো এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার দেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে পুলিশ।মামলায় অ্যাবির সাবেক স্বামী অ্যালেক্স কোয়ং, সাবেক শ্বশুর কোয়ং কাউ এবং দেবর অ্যান্থনি কোয়ংকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বুধবার হংকংয়ের হাইকোর্টে তারা তিনজনই হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

প্রসিকিউশনের দাবি, অ্যাবির সাবেক শ্বশুর কোয়ং কাউ তার দুই ছেলেকে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এর পেছনে মূল কারণ ছিল একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে বিরোধ।হো ম্যান টিনের কাদোরিয়া আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ফ্ল্যাটটির মূল্য ছিল ৭ কোটি ২০ লাখ হংকং ডলার। ২০১৯ সালে অ্যাবি ৬ কোটি হংকং ডলারে ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন। তার দুই সন্তান যেন তাদের বাবার পরিবারের দাদা-দাদির কাছে থাকতে পারে, সেই সুবিধার কথা বিবেচনা করেই তিনি ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন বলে আদালতে জানানো হয়।প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিক সম্পত্তির মালিকদের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত স্ট্যাম্প ডিউটি এড়াতে ফ্ল্যাটটি কোয়ং কাউয়ের নামে নিবন্ধন করা হয়েছিল। পরে অ্যাবি ফ্ল্যাটটি বিক্রি করতে চাইলে বিরোধ তীব্র হয়ে ওঠে।আদালতে জানানো হয়, হত্যাকাণ্ডের পর অ্যাবির দেহ খণ্ডিত করা হয়েছিল। তাই পো এলাকার ভাড়া বাসাটি কার্যত অস্থায়ী কসাইখানার মতো ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন।পুলিশ ওই বাসা থেকে মাংস কাটার যন্ত্র, বৈদ্যুতিক করাত ও পোশাক উদ্ধার করে। অ্যাবির খুলি গাজর ও অন্যান্য সবজিসহ একটি বড় পাত্রে পাওয়া যায়। তার দুই পা উদ্ধার করা হয় বাসাটির একটি ফ্রিজ থেকে।প্রসিকিউশনের অভিযোগ, রক্তের দাগ আড়াল করতে বাসার দেয়াল ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। দেহ খণ্ডিত করার সময় রক্ত যাতে পোশাকে না লাগে, সে জন্য মুখের ঢাল ও রেইনকোটও ব্যবহার করা হয়েছিল বলে আদালতে জানানো হয়।

শুনানিতে অ্যাবির মায়ের কাছে পাঠানো একটি ব্যক্তিগত অডিও বার্তাও শোনানো হয়। সেখানে সাবেক শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন অ্যাবি। কোয়ং কাউকে ‘প্রতারক’ এবং তার স্ত্রীকে ‘ভূত’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।প্রসিকিউশনের দাবি, অ্যাবি মনে করতেন, কোয়ং কাউ তার সঙ্গে এবং তার দুই সন্তানের সঙ্গে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করছিলেন। একপর্যায়ে তিনি সাবেক শ্বশুরকে ফ্ল্যাট থেকে বের করে দেন। এরপর কোয়ং কাউকে তার বড় ছেলের সঙ্গে শুং ম্যান কোর্টের একটি এক শয়নকক্ষের ফ্ল্যাটে থাকতে হয়।আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অ্যাবির পরিবার আর্থিকভাবে সচ্ছল ছিল। তার নতুন সঙ্গী ক্রিস টামের পরিবারও ধনী ছিল। বিপরীতে, কোয়ং পরিবার তুলনামূলকভাবে কম সচ্ছল ছিল। প্রসিকিউশনের দাবি, সম্পত্তি ও অর্থসংক্রান্ত বিরোধই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ।অ্যাবি চোই একটি সচ্ছল পরিবারে বেড়ে ওঠেন। ১৮ বছর বয়সে অ্যালেক্স কোয়ংকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের সংসারে দুই সন্তান ছিল। পরে বিচ্ছেদ হলেও সাবেক স্বামীর পরিবারের সদস্যদের আর্থিকভাবে সহায়তা করতেন অ্যাবি।

পরবর্তী সময়ে নতুন সঙ্গীর সঙ্গে তার আরও দুই সন্তান হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফ্যাশন শো, ফটোশুট ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের ছবি প্রকাশের মাধ্যমে পরিচিতি পান তিনি। মৃত্যুর কয়েক দিন আগেও প্যারিস ফ্যাশন উইকে ক্রিশ্চিয়ান ডিওরের একটি শোতে অংশ নেওয়ার ছবি প্রকাশ করেছিলেন এই মডেল।এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, অ্যাবির দেহের কিছু অংশ হয়তো ফেলে দেওয়া হয়েছিল। দেহের সব অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলেও ধারণা প্রকাশ করেছিলেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।অ্যাবি চোই হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া আরও আট সপ্তাহ চলতে পারে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। পরবর্তী শুনানিতে প্রসিকিউশন তাদের বক্তব্য উপস্থাপন অব্যাহত রাখবে।

তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩, ২১ রবউসি সানি ১৪৪৮

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদক: কায়সার হাসান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু, সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল: ০১৭৫৫৩৭৬১৭৮,০১৮১৮১২০৯০৮, ই-মেইল: [email protected], [email protected]
সম্পাদক: কায়সার হাসান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু, সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল: ০১৭৫৫৩৭৬১৭৮,০১৮১৮১২০৯০৮, ই-মেইল: [email protected], [email protected]
🔝