প্রকাশ: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৫ পিএম (ভিজিট : )
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ
তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।শুক্রবার (২ অক্টোবর) দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে দেশটির পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রথম ভাইস মিনিস্টার পার্ক ইউন-জু এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার লি ডু-হির সঙ্গে পৃথক বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী এ আমন্ত্রণ জানান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, পার্ক ইউন-জুর সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এসময় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন প্রতিমন্ত্রী।বৈঠকে হুমায়ুন কবির বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, দেশটির উন্নয়ন অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। দুই দেশের মধ্যে চলমান পররাষ্ট্র দপ্তরের পরামর্শ এবং উচ্চপর্যায়ের সফর ও যোগাযোগে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সেপা) স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে এর দ্রুত সমাপ্তির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।
একইসঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো, বাংলাদেশি পণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিকস, জাহাজ নির্মাণ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, উচ্চমানের তৈরি পোশাক ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ প্রযুক্তিনির্ভর খাতে কোরীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।কৃষি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, লজিস্টিকস, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও সেবা খাতেও সহযোগিতার সুযোগ তুলে ধরেন হুমায়ুন কবির।বাংলাদেশি দক্ষ ও আধাদক্ষ কর্মীদের জন্য কোরিয়ার অ্যামপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম (ইপিএস)-এর আওতায় আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর অনুরোধ জানান তিনি।জলবায়ু সহনশীলতা, অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তিতে কোরিয়ার সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। রোহিঙ্গাদের প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার মানবিক সহায়তার প্রশংসা করে তাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনে কোরিয়ার অব্যাহত সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
অন্যদিকে, জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার লি ডু-হির সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতার বিষয়গুলো বৈঠকে গুরুত্ব পায়।বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতার প্রশংসা করে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের সুযোগ আরও বাড়ানোর অনুরোধ জানান প্রতিমন্ত্রী। একইসঙ্গে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষায়িত কোর্সে কোরীয় সামরিক সদস্যদের অংশগ্রহণেরও আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে হুমায়ুন কবির জানান, বাংলাদেশ একটি প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এ উদ্যোগে প্রযুক্তি, শিল্প সহযোগিতা ও পারস্পরিক অর্থনৈতিক সুবিধা বাড়াতে কোরীয় বিনিয়োগের সুযোগ অন্বেষণের জন্য দেশটির প্রতি আহ্বান জানান তিনি।বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদারে আগ্রহের কথা জানিয়ে কোরীয় পক্ষ প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রমসহ পারস্পরিকভাবে সম্মত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ অনুসন্ধানের প্রস্তুতির কথা জানায়।দুই বৈঠকেই বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় এবং পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণে উভয় পক্ষের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হয়।
তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩, ২০ রবউসি সানি ১৪৪৮