ট্রাম্পের শুল্ককে ‘হামলা’ বলে কানাডার পাল্টা জবাবের ঘোষণা
তাজাখবর২৪.কম,আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে ভুল হিসাব এবং হামলা হিসেবে আখ্যা দিয়ে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর শনিবার (২২ আগস্ট) তিনি বলেন, দুই দেশ এখন বাণিজ্যযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে।কার্নি বলেন, ‘তারা অনেক বেশি চেয়েছে, কিন্তু বিনিময়ে খুব কম প্রস্তাব দিয়েছে।’ যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ককে কানাডার ওপর আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আক্রমণ করা হলে সেটি যুদ্ধ। আমাদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে।’আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্কের সমপরিমাণ শুল্ক ‘ডলার বিনিময়ে ডলার’ ভিত্তিতে পাল্টা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী। ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও বিভিন্ন ধরনের পণ্যের ওপর এই পাল্টা শুল্ক কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। এর বাইরে কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি ও কাঠের ওপর আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক রয়েছে।তবে নতুন ৫০ শতাংশ শুল্কের আওতা তুলনামূলকভাবে সীমিত। প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্য এতে অন্তর্ভুক্ত, যা দেশটির যুক্তরাষ্ট্রে মোট রপ্তানির প্রায় ৫ শতাংশ। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে মদ, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক ও হকি সরঞ্জাম।কার্নি জানিয়েছেন, নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য অনিচ্ছা সত্ত্বেও কানাডা পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে পাল্টা শুল্কের বিস্তারিত তালিকা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।
শেষ মুহূর্তে আলোচনা ভেঙে গেল
চলতি সপ্তাহের শুরুতেও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি হওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে নতুন শর্ত যোগ করার অভিযোগ তোলে। কানাডার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র শেষ মুহূর্তে এমন কিছু পরিবর্তন এনেছে, যা তাদের কাছে অন্যায্য ও অর্থনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য।অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার অভিযোগ করেছেন, কানাডা আগে সম্মত হওয়া বিষয়গুলো থেকে সরে গিয়ে নতুন দাবি তুলেছে। তিনি জানিয়েছেন, আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন করে আলোচনা শুরুর কোনো পরিকল্পনা নেই।কার্নি অবশ্য এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, কানাডা নতুন কোনো দাবি তোলেনি। বরং আলোচনায় কী প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে, তা পরিষ্কার করার পরও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে হতাশাজনক উত্তর পাওয়া গেছে।
কানাডায় রাজনৈতিক ঐকমত্য
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের বিরুদ্ধে কার্নির অবস্থানকে সমর্থন করেছেন কানাডার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও কয়েকটি প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী।কানাডার সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ অন্টারিওর মুখ্যমন্ত্রী ডগ ফোর্ড বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিশ্বাস করা যায় না। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার মুখ্যমন্ত্রী ডেভিড ইবি বলেছেন, কানাডার অন্য দেশের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি করার ক্ষমতা সীমিত করার মার্কিন দাবি মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।বিরোধী কনজারভেটিভ দলের নেতা পিয়ের পয়লিয়েভরও নতুন মার্কিন শুল্ককে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন। তবে তেলসমৃদ্ধ আলবার্টা প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ড্যানিয়েল স্মিথ দুই পক্ষকেই আবার আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন।কুইবেকের মুখ্যমন্ত্রী ক্রিস্টিন ফ্রেশেত বলেছেন, নতুন শুল্কের কারণে চাকরি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোকে সহায়তা দিতে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
উত্তর আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও শঙ্কা
এক বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা চলছিল। সাম্প্রতিক সময়ে নতুন শুল্ক আরোপের সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় আলোচনা আরও জোরদার হয়েছিল।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে বিদ্যমান উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বাধ্যতামূলক পর্যালোচনাও চলছে। প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প পুরোনো উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পরিবর্তে বর্তমান চুক্তিটি করেছিলেন।এই চুক্তির আওতায় তিন দেশের মধ্যে বছরে প্রায় ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য হয়। কানাডা ও মেক্সিকো চলতি বছরের শুরুতে চুক্তিটি আরও ১৬ বছরের জন্য নবায়নের অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান কাঠামোয় চুক্তি নবায়নে রাজি হয়নি।শুক্রবারের (২১ আগস্ট) বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার প্রভাব উত্তর আমেরিকার এই বাণিজ্য চুক্তিতে পড়বে কি না, জানতে চাইলে কার্নি বলেন, বিষয়টি নিশ্চিতভাবেই ভালো খবর নয়।সূত্র: বিবিসি
তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩, ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮