প্রকাশ: রোববার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৭ পিএম (ভিজিট : )
বইয়ের পাতার আলো নাকি এআই-এর প্রমোদ: কোন পথে আগামী প্রজন্ম?
ইকরামুল কবির জাহিন,তাজাখবর২৪.কম,নরসিংদী সদর: বর্তমান যুগ প্রযুক্তির যুগ। আর এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় উপহার হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)। চ্যাটজিপিটি (ChatGPT) কিংবা ওপেনএআই-এর মতো মাধ্যমগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে যেমন সহজ করে দিয়েছে, তেমনি বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি এক বড় ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।শিক্ষকদের দেওয়া কোনো অ্যাসাইনমেন্ট, হোমওয়ার্ক বা রচনার বিষয় পেলেই শিক্ষার্থীরা এখন আর নিজের মেধা খাটাতে চায় না। কোনো কিছু নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা বা নিজের মতো করে একটি বিষয় ফুটিয়ে তোলার সুপ্ত প্রতিভাকে তারা কাজে লাগাতে ভুলে যাচ্ছে। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে ফোন বা কম্পিউটার হাতে নিয়ে সরাসরি চ্যাটবটের কাছে লিখে দেওয়া হচ্ছে‘আমাকে এই বিষয়ে একটি রচনা লিখে দাও।’
এই এক ক্লিকেই সমাধান পাওয়ার প্রবণতা শিক্ষার্থীদের চরমভাবে অলস করে তুলছে। নিজে বই পড়া, তথ্য খুঁজে বের করা এবং নোট তৈরি করার কষ্টকর কিন্তু শিক্ষণীয় প্রক্রিয়া থেকে তারা দূরে সরে থাকছে। দীর্ঘমেয়াদে এই অভ্যাস মানুষের বুদ্ধিভিত্তিক বিকাশ ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতাকে স্থবির করে দিচ্ছে। বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রাথমিক বা মাধ্যমিক পর্যায় (যেমন ক্লাস ফাইভ, সিক্স, সেভেন) যা মেধা বিকাশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বা প্রাইম টাইম, সেই বয়সেই শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
আমাদের সাহিত্যিক ইতিহাস যদি আমরা দেখি, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কিংবা সুকান্ত ভট্টাচার্যের মতো প্রথিতযশা লেখকেরা তাদের নিজস্ব মৌলিক চিন্তা ও সুপ্ত প্রতিভাকে কাজে লাগিয়েই অমর সৃষ্টি রেখে গেছেন। অথচ বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা এআই-জেনারেটেড লেখা হুবহু ব্যবহার করার ফলে তাদের নিজস্ব লেখার শৈলী, শব্দভাণ্ডার (Vocabulary) এবং ভাষাগত দক্ষতা চিরতরে হারিয়ে ফেলছে।একই সঙ্গে তাদের ধৈর্য ও মনোযোগেও মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। শিক্ষার্থীরা এখন মনে করে, যে বিষয়টি এআই মাত্র কয়েক সেকেন্ডে এনে দিচ্ছে, তার জন্য দুই ঘণ্টা সময় ব্যয় করে বই পড়ার বা কষ্ট করার কী প্রয়োজন? ফলে তাদের মধ্যে এক ধরনের মানসিক আলস্য তৈরি হচ্ছে।
এআই প্রযুক্তি মানুষের উপকারের জন্যই আবিষ্কৃত হয়েছে, তাই একে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা কোনো সমাধান নয়। তবে এর অপব্যবহার রোধ করতে হবে। শিক্ষক এবং অভিভাবকদের এ বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন থাকতে হবে, যেন শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার ক্ষেত্রে অন্ধের মতো এআই-এর ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়ে। এআই ব্যবহার করা যেতে পারে সহায়িকা হিসেবে, কিন্তু তার আগে শিক্ষার্থীকে অবশ্যই নিজের মেধা, মনন ও বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে মৌলিক কাজটি সম্পন্ন করতে হবে। আগামী প্রজন্মকে মেধা শূন্যতা থেকে বাঁচাতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।