প্রকাশ: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম (ভিজিট : )
কেন্দুয়ার হকী ডেইরী ফার্ম অর্থনৈতিক উন্নয়নের বাতিঘর
রাখাল বিশ্বাস,তাজাখবর২৪.কম, কেন্দুয়া (নেত্রকোনা): নেত্রকোনার কেন্দুয়ার আশুজিয়া ইউনিয়নের বসুর বাজার সংলগ্ন পাটেশ্বরী নদীর তীরে প্রতিষ্ঠিত 'হকী ডেইরী ফার্ম ও হকী ডেইরী হাব' বর্তমানে জেলার অন্যতম আধুনিক ও বৃহৎ দুগ্ধ খামার হিসেবে পরিচিত। তাছাড়া একমাত্র (হাব) দুধ সংগ্রহ কেন্দ্র হিসেবেও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে এই ফার্মটি। যা অর্থনৈতিক উন্নয়নের বাতিঘর হিসেবে সুপরিচিত।সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ১৯৭৪ সাল থেকে পারিবারিকভাবে খামারটির কার্যক্রম শুরু হলেও ২০১৮ সালে এটি সরকারিভাবে নিবন্ধিত হয়।
প্রতিষ্ঠানটির মালিক কামরুজ্জামান জানান,খামারটিতে বর্তমানে প্রায় ১০০টি গাভী, ৪০টি বকনা, ৫০টি বাছুর এবং ১০০টি ষাঁড় রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০০ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে খামারে দুটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া খামারে ১৫ জন কর্মচারী নিয়মিত কাজ করছেন। মোটাতাজাকরণ কার্যক্রমের আওতায় প্রতি মাসে গড়ে ৩০ থেকে ৪০টি ষাঁড় বিক্রি করা হয়।খামারটির সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৪ সালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল আয়োজিত উপজেলা প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীতে দ্বিতীয় স্থান এবং ২০২৫ সালে প্রথম স্থান অর্জন করে।
অন্যদিকে হকী ডেইরী হাবে ২০টি বিএমসিসি (ভিলেজ মিল্ক কালেকশন সেন্টার) এর মাধ্যমে নেত্রকোণা সদর, আটপাড়া ও কেন্দুয়া উপজেলার প্রান্তিক কৃষক ও খামারিদের কাছ থেকে দৈনিক ২০ হাজার লিটার দুধ সংগ্রহের সক্ষমতা রয়েছে। প্রতিটি বিএমসিসিতেদুজন করে ৪০ জন এবং হাবে ১৫ জনসহ মোট ৫৫ জন কর্মচারী কর্মরত আছেন।হাবটি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এলডিপি প্রকল্প ও ব্যক্তিমালিকানাধীন যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। এখানে সংগ্রহকৃত দুধ নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পাস্তুরাইজেশনের মাধ্যমে ‘পল্লী মিল্ক’ নামে বাজারজাত করা হয়। ইতোমধ্যে গত ২৯ এপ্রিল বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর অনুমোদনের জন্য নমুনা জমা দেওয়া হয়েছে এবং অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ফার্ম ও হাবের ম্যানেজারের দায়িত্বে রয়েছেন মো. আবুল ফজল। তিনি জানান,ফার্ম ও হাবের স্বত্বাধিকারী মো. কামরুজ্জামান ডক্টর অব ভেটেরিনারি বিষয়ে ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস ও জার্মানি থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও সনদ লাভ করেছেন।
একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি পারিবারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত এই খামার ও হাবের দায়িত্ব পালন করছেকামরুজ্জামান বলেন, প্রান্তিক কৃষক ও খামারিদের জাতীয় উৎপাদনে সম্পৃক্ত করা এবং এলাকার বেকারত্ব নিরসনের লক্ষে আমি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান বলেন, হকী ডেইরী ফার্ম ও হাব এলাকায় প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নিরাপদ দুধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রান্তিক খামারিদের উৎপাদিত দুধের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতেও প্রতিষ্ঠানটি ইতিবাচক অবদান রাখছে। আমরাও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।
তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা:সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩, ২৮ জিলহ্বজ, ১৪৪৭