প্রাচীন বাংলার লোকসমাজ ও সংস্কৃতি-৪
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৪ পিএম  (ভিজিট : )
প্রাচীন বাংলার লোকসমাজ ও সংস্কৃতি-৪

প্রাচীন বাংলার লোকসমাজ ও সংস্কৃতি-৪

রাখাল বিশ্বাস,তাজাখবর২৪.কম,কেন্দুয়া প্রতিনিধিঃ সাহিত্য,সংস্কৃতি ও জীবনচারণে এ অঞ্চলের মানুষ ভারতের আর্য সংস্কৃতি ও ইন্দো-আর্যভাষীর উত্তরাধিকারী। প্রায় দুই হাজার বছরের বিবর্তনের ধারায় ভারতের আর্য সংস্কৃতি সামাজিক নিয়মে নানা পরিবর্তন,বিবর্তন ও রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এই দেশের প্রাচীন আদিবাসীদের জীবনযাত্রার সাথে মিশে ভারতের নিজস্ব সংস্কৃতিতে পরিণত হয়। প্রাচীন ইন্দো-আর্য সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ভেদে নানা স্তরে বিভক্ত ছিল। কিন্তু সমগ্র ভারত জুড়ে সাধারণের জীবনযাত্রা ছিল পল্লীসভ্যতা নির্ভর। জাতিভেদ প্রথা, কর্মফলে বিশ্বাস,আধ্যাত্মিকতায় নির্ভর ছিল সমাজের সাধারণ ঘটনা। সর্বভারতীয় জীবন সংস্কৃতির সাথে এই পূর্ব অংশের সংকর বাঙালি জাতির সামাজিক জীবনে আরও কিছু বৈশিষ্ট্য যুক্ত হয়ে ছিল যা বাঙালীর ধর্ম,সাহিত্য, সংস্কৃতি ও দর্শনকে ঐশ্বর্যমণ্ডিত করেছিল। বাঙালী সেই নিজস্ব বৈশিষ্ট্যগুলোই তাদের জীবনযাত্রায়, আচার নিয়ম,চিন্তা-চেতনায় ধারণ করেছিল যা পরবর্তীকালের রূপকথা,ব্রতকথা,প্রবাদ প্রবচন,লোককথা,ছড়া-কাব্য কবিতায় রক্ষিত ছিল। বাঙালী সাহিত্যিক ইন্দো-আর্য সংস্কৃতি এবং আর্য বহির্ভূত সমাজের লৌকিক ধারার সাথে তাদের আচার-আচরণ ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রেখে সাহিত্য-সংস্কৃতির উত্তরণ ঘটিয়েছিলেন। যদিও ব্রাহ্মণ্যবাদের প্রতাবে প্রচীন বাংলা সাহিত্যের যুগে লৌকিক দেবতা ও তাদের অনুসারীদের জীবনধারা সাহিত্যে প্রবেশ করার সুযোগ পায়নি। বিচ্ছিন্ন গণ্ডিবদ্ধ পল্লীসমাজের পরিবেশে বাংলা সাহিত্যের জন্ম।  জন্মের কয়েক'শ বছর ধরে প্রাচীন বাংলা সাহিত্য ছিল ইন্দো-আর্য সংস্কৃতির উত্তরাধিকার। বাঙালি রচিত সংস্কৃত সাহিত্য ও বাঙালি রচিত, অবহটঠে রচিত খণ্ড কবিতা ও শ্লোকে রয়েছে প্রাচীন যুগের বাঙালির জীবন ও সমাজের পরিচয়। 

অষ্ট্রিক-দ্রাবিড়-মঙ্গোল ও আর্য এই জাতি সমূহের জীবনাচরণে বিভিন্ন উপাদেনের সমন্বয়ে গড়ে উঠে প্রাচীন বাংলার দৈনন্দিন জীবন। ঐতিহাসিকদের তথ্য উপাত্তে প্রাচীন বাংলার দৈনন্দিন জীবনের পরিচয় পাওয়া যায়। সমতট,তাম্রলিপ্ত,পুণ্ড্রবর্ধন,কর্ণ-সুবর্ণ-গৌড় সব জায়গার বিদ্যোৎসাহী লোকদের মধ্যে জ্ঞানচর্চার ব্যাপকআগ্রহের কথা জানা যায়। সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্য আধুনিক ভারতের সব ভাষার সাহিত্য-সংস্কৃতির মূল উৎস। বাংলা ভাষা,বাঙালির সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সমাজ জীবনও তার ব্যতিক্রম নয়। তাই বাংলার জীবন ও সমাজ অনুসন্ধানে সংস্কৃত-প্রাকৃত-অপভ্রংশ ভাষায় রচিত সাহিত্যের কাছে আমাদের দ্বারস্থ হতে হয়। এসব দেশীয় ভাষা আমাদের ভাষার পূর্বসুরী। আর এদেশেরই বাঙালী কবিদের হাতে বাংলার জীবন ও চালচিত্র নিয়ে তা রচিত হয়েছিল। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের জন্মের আগে বাঙালি সাহিত্যচর্চা করেছে সংস্কৃত,প্রাকৃত, অপভ্রংশ ভাষায় আর বাংলা ভাষার উদ্ভব ও চর্যাপদ বিকাশের অনেক যুগ পরেও তা অব্যাহত ছিল। মৌর্যযুগ থেকে সংস্কৃতের আদর্শেই বাঙালি দীক্ষা গ্রহন করেছিল। পালযুগে সংস্কৃতের সাথে  নব-প্রতিষ্ঠিত  বাংলা ভাষায় চর্যাপদ ও অন্যান্য কবিতাংশ রচিত হলেও সে আমলের রাজসভায় সংস্কৃত কাব্যের অনুশীলন হয়েছে ব্যাপকভাবে। প্রাক গুপ্তযুগ থেকে বারো শতক পর্যন্ত সাহিত্য,শাস্ত্র,স্মৃতি-সংহিতা পুরাণ,ন্যায়দর্শন,ব্যাকরণ,অভিধান সবই সংস্কৃত ভাষায় রচিত হয়েছে।
তথ্যসূত্র- বাংলা সাহিত্য ও বাঙালি সমাজ।

তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩, ২২ জমাদিউল আউয়াল  ১৪৪৮

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদক: কায়সার হাসান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু, সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল: ০১৭৫৫৩৭৬১৭৮,০১৮১৮১২০৯০৮, ই-মেইল: [email protected], [email protected]
সম্পাদক: কায়সার হাসান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু, সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল: ০১৭৫৫৩৭৬১৭৮,০১৮১৮১২০৯০৮, ই-মেইল: [email protected], [email protected]
🔝