অষ্ট্রিক-দ্রাবিড়-মঙ্গোল ও আর্য এই জাতি সমূহের জীবনাচরণে বিভিন্ন উপাদেনের সমন্বয়ে গড়ে উঠে প্রাচীন বাংলার দৈনন্দিন জীবন। ঐতিহাসিকদের তথ্য উপাত্তে প্রাচীন বাংলার দৈনন্দিন জীবনের পরিচয় পাওয়া যায়। সমতট,তাম্রলিপ্ত,পুণ্ড্রবর্ধন,কর্ণ-সুবর্ণ-গৌড় সব জায়গার বিদ্যোৎসাহী লোকদের মধ্যে জ্ঞানচর্চার ব্যাপকআগ্রহের কথা জানা যায়। সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্য আধুনিক ভারতের সব ভাষার সাহিত্য-সংস্কৃতির মূল উৎস। বাংলা ভাষা,বাঙালির সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সমাজ জীবনও তার ব্যতিক্রম নয়। তাই বাংলার জীবন ও সমাজ অনুসন্ধানে সংস্কৃত-প্রাকৃত-অপভ্রংশ ভাষায় রচিত সাহিত্যের কাছে আমাদের দ্বারস্থ হতে হয়। এসব দেশীয় ভাষা আমাদের ভাষার পূর্বসুরী। আর এদেশেরই বাঙালী কবিদের হাতে বাংলার জীবন ও চালচিত্র নিয়ে তা রচিত হয়েছিল। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের জন্মের আগে বাঙালি সাহিত্যচর্চা করেছে সংস্কৃত,প্রাকৃত, অপভ্রংশ ভাষায় আর বাংলা ভাষার উদ্ভব ও চর্যাপদ বিকাশের অনেক যুগ পরেও তা অব্যাহত ছিল। মৌর্যযুগ থেকে সংস্কৃতের আদর্শেই বাঙালি দীক্ষা গ্রহন করেছিল। পালযুগে সংস্কৃতের সাথে নব-প্রতিষ্ঠিত বাংলা ভাষায় চর্যাপদ ও অন্যান্য কবিতাংশ রচিত হলেও সে আমলের রাজসভায় সংস্কৃত কাব্যের অনুশীলন হয়েছে ব্যাপকভাবে। প্রাক গুপ্তযুগ থেকে বারো শতক পর্যন্ত সাহিত্য,শাস্ত্র,স্মৃতি-সংহিতা পুরাণ,ন্যায়দর্শন,ব্যাকরণ,অভিধান সবই সংস্কৃত ভাষায় রচিত হয়েছে।
তথ্যসূত্র- বাংলা সাহিত্য ও বাঙালি সমাজ।
তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩, ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮