প্রকাশ: রোববার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৭ পিএম (ভিজিট : )
আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি
রাখাল বিশ্বাস,তাজাখবর২৪.কম,কেন্দুয়া (নেত্রকোণা): ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি প্রবহমান নদীর মতো। জাতি, কাল, ভাষা, ধর্মভেদে ঐতিহ্য সংস্কৃতি ভিন্ন হয়ে থাকে। বাংলার লোকজ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি মূলত গ্রামীণ মানুষের আচার-আচরণ, বিশ্বাস, মনন-রুচি, ধ্যান-ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। বাংলার লোকজ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বৈচিত্র্যমণ্ডিত ও বর্ধমান। লোকসংস্কৃতির মাধ্যমেই অতীতকালের মানুষের সুখ-দুঃখ, চিন্তাধারা, নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য, জাতিগত উপাদান প্রকাশ পায়। কিন্তু কালের পরিক্রমায় আমরা আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। আমরা ক্রমশ নিজস্বতা হারিয়ে ফেলতে বসেছি। বঙ্গদেশ যখন রাঢ় পুণ্ড্র,সমতট তখনের সংস্কৃতি ধরণ বিবর্তিত হয়ে নবধারার যে সংস্কৃতির ঐতিহ্য সুসমামন্ডিত হয়েছিল তারও ধারাবাহিকতা ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত বলবত ছিল। গ্রামীণ জনপদের বড় সংস্কৃতি ছিল সহনবাদ,ঔদার্য ও সমানুভূতির প্রাচুর্যে উজ্জ্বল্যমান। মানবতাবাদের উৎকর্ষতায় মোহবিষ্ট ছিল মানবপ্রাণ।
আমাদের দেশে লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতির গবেষকগণ গবেষণা কাজ করছেন বলা যায় দুই শতাধীক বছর ধরে।১৭৮৪ অব্দে বিচারপতি স্যার উইলিয়াম জোনস কলকাতা শহরে এশিয়টিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তখন থেকেই বলা যায় লোকঐতিহ্য,লোকসাহিত্য ও লোকসংস্কৃতির আনুষ্ঠানিক গবেষণাকর্ম শুরু হয়।আমাদের লোক সংস্কৃতির সঙ্গে স্বাজাত্যবোধ,জাতীয়তাবোধ এবং জাতিসত্তাবোধও জড়িত।পৃথিবীর যে দেশ অতীত ঐতিহ্য সংগ্রহে যতবেশী সংরক্ষণকামি,সে দেশ ততবেশী সমৃদ্ধ ও প্রশংসিত।
আমাদের দেশ লোকঐতিহ্য,লোকসাহিত্য ও লোকসংস্কৃতিতে অত্যন্ত সমৃদ্ধ নি:সন্দেহে, যা প্রবাদপ্রতিম ধানের দেশ ও গানের দেশ হিসেবে খ্যাত। যার সংস্কৃতির ঐতিহ্য অত্যন্ত প্রাচীন। যেখানে যুগে যুগে বিভিন্ন জাতি ও সম্প্রদায়ের সম্প্রীতির রয়েছে নিবিড় বন্ধন। তাই নিজস্ব সাহিত্য সংস্কৃতির বিকাশমানকে এগিয়ে নিতেই হবে। আজকের সমাজে তরুণদের একটি অংশ অবক্ষয়মান, এদেরকে প্রীতি ও ভালবাসায় সিক্ত করে মূলস্রোতে এনে ওদের হাতেও তুলে দিতে হবে বাঙালীর গৌরবময় সাহিত্য-সংস্কৃতির সুউন্নত ঝান্ডা। আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য, সাহিত্য সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে না পারলে জাতি পিছিয়ে যাবে অশুভের কালোছায়ায়। সমাজ ক্ষতিগ্রস্থ হবে।হতাশায় নিমজ্জিত হবে আগামী প্রজন্ম।তাই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ দেশের তরুণ ছাত্র সমাজকে আহ্বান করে বলেছিলেন-
"দেশের কাব্য গানে,কীটদষ্ট পুঁথির জীর্ণ পত্রে--
গ্রাম্য পার্বণে, ব্রতকথায় পল্লীর কৃষি কুটিরে,
প্রত্যক্ষ বাস্তবে,স্বাধীন চিন্তা ও গবেষণার দ্বারা
জানিবার জন্য,শিক্ষার বিষয়কে কেবল পুঁথি হইতে
মুখস্থ না করিয়া বিশ্বের সঙ্গে তাহাকে সন্ধান করিবার জন্য তোমাদিগকে আহ্বান করিতেছি।"