প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৫ পিএম (ভিজিট : )
মধ্যযুগের লোকসাহিত্য ও সমাজ-সংস্কৃতি চর্চা
রাখাল বিশ্বাস,তাজাখবর২৪.কম,কেন্দুয়া(নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: মধ্যযুগে রামায়ণ, মহাভারত, শ্রীমদ্ভাগবত গীতার আদর্শ সনাতনী মানুষকে উৎসাহ উদ্দীপনায় জাগিয়ে তোলে। সেই সময় ধর্মীয় উন্মাদনা ও জাতিগত আভিজাত্যে শাসকবর্গ সৃষ্টি করে বর্ণবৈষম্য। সমাজে বিস্তার লাভ করে ব্রতচর্চা,নানা কুসংস্কার, ধর্মীয় কঠোর অনুশাসন। মুসলমান শাসনামলে সমপর্যায়ের বিশ্বাসীদের মাধ্যে সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি হয়। পীর, ফকির,সুফিদের আগমনে এদেশে ইসলাম ব্যাপক বিস্তারে লাভ করে। এ সময়ে ইসলাম ধর্মের মতাদর্শে অন্য ধর্মেরও অনেকে অনুপ্রাণিত হয়। ইসলাম ধর্মের মতাদর্শে রাজ্য পরিচালনা, ধর্মীয় ভাবনায় আরবি ও ফারসি ভাষার সাহিত্য অনুবাদ হতে থাকে। মুসলমান শাসকবর্গের আনুকূল্যে সংস্কৃত ধ্রুপদী সাহিত্যের অনুবাদ মানুষের চিন্তার জগতে পরিবর্তন আনে। প্রসার ঘটে মানবিক মূল্যবোধের।বাংলাদেশের ইতিহাস ও জাতিগত ঐতিহ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় তখন যে ধর্মের শাসক এই অঞ্চল শাসন করেছেন,তখন তাদের মতাদর্শ এ দেশের মানুষের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। লেখক গোপাল হালদার বলেন,মধ্যযুগ পর্যন্ত রাজার ধর্মই ছিল প্রজার ধর্ম,তাদের মতাদর্শের ভাব জনসাধারণের উপর চাপিয়ে দেবার চেষ্টা করেছে কিন্তু শত প্রতিকূলতার মধ্যেও এদেশের মানুষ নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধরে রেখেছেন।আমাদের সমাজে রয়েছে জীবনযাপনে অসঙ্গতি। বাঙালি মধ্যবিত্তের এমন চিত্র ছিল মধ্যযুগের সাহিত্য জুড়ে।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত মুসলমান সুফি-সাধকদের ঔদার্য, মানবহিতৈষী মনোভাব ঐ সময় ইসলাম ধর্ম ও সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করে। তাঁদের অহিংস ও সাম্যবাদী আদর্শে সেই সময়ের সমাজে অসাম্প্রদায়িক সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠে। সেই সময় গ্রাম বাংলার সহজ সরল মানুষ অন্য ধর্মের অনুসারীদের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতো না- এরই ফলশ্রুতিতে এদেশে বৈষ্ণব সঙ্গীত, মরমী সঙ্গীত ও বাউল সঙ্গীতসহ নানান সঙ্গীতের উদ্ভব হয়। জাতি-ধর্ম-বর্ণ,গোত্র নির্বিশেষে সমষ্টিগত ঐতিহ্য সৃষ্টি করে বাঙালী সর্বজনীন ঐতিহ্যের ছায়াতলে মিলিত হয়েছিল।
করুণা রাণী সাহার' বাংরা সাহিত্য ও বাঙালি সমাজ' গ্রন্থসূত্রে আরও জানা যায়,বৃটিশ শাসনামলে এ দেশে পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটে; ইউরোপীয় সভ্যতা সংস্কৃতির স্পর্শে এই দেশের মানুষের মনোজগতে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। ইংরেজি ভাষার ব্যাপক চর্চা শুরু হয়। রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা আসে। সাহিত্য-সংস্কৃতিতে আসে আধুনিকতা। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের বিকাশ হয়। প্রতিষ্ঠিত হয় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ,হিন্দু কলেজ,প্রকাশিত হয় সংবাদপত্র। এদেশীয়দের চিত্তে ঘটে নবজাগরণ। । ফলে এদেশের সমাজ ব্যবস্থা অতীতের সমাজব্যবস্থার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠে এবং নব নব ধারায় সংস্কৃতি চর্চা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলশ্রুতিতে হাজার বছরের ঐতিহ্য সময়ের ব্যবধানে জাতি থেকে জাতিতে তা রূপান্তরিত হয়েছে। কোন সময় পথচ্যূত হলেও তা মূল ধারায় ফিরে এসে জাতির চেতনায় লালিত হয়েছে।