স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ৩৭ মামলার আসামিঃ বিগত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে কালীগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গন যখন মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের আতঙ্কে উত্তাল, তখন আন্দোলনের মাঠে সক্রিয় ছিলেন খালেকুজ্জামান বাবলু। দলীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় ৩৭টি মামলা।একটি নয়, দুটি নয় একের পর এক মামলার বোঝা নিয়ে তাকে রাজনৈতিক পথ চলতে হয়েছে। কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠও তাকে আন্দোলনের পথ থেকে ফিরিয়ে দিতে পারেনি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে বহুবার কারানির্যাতন সহ্য করেও তিনি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।তার রাজনৈতিক জীবনের গল্প যেন এক দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস যেখানে ভয় আছে, নির্যাতন আছে, মামলা আছে, কারাগার আছে; কিন্তু আছে অবিচল সাহস এবং দলের প্রতি অগাধ ভালোবাসাও।কর্মীরা যখন বিপদে, তখন পাশে ‘বাবলু ভাই’ দলের সুদিনে নেতার অভাব হয় না। কিন্তু প্রকৃত নেতার পরিচয় পাওয়া যায় দলের দুর্দিনে। যখন কর্মীরা হামলার শিকার হন, যখন মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান, যখন পরিবারের সদস্যরা অসহায় হয়ে পড়েন ঠিক তখনই প্রয়োজন হয় একজন প্রকৃত অভিভাবকের।
কালীগঞ্জের নেতাকর্মীদের কাছে সেই অভিভাবকের নাম খালেকুজ্জামান বাবলু। শুধু সহানুভূতির কথা বলেই তিনি দায়িত্ব শেষ করেননি। আটক নেতাকর্মীদের জামিনের ব্যবস্থা করা, কারাবন্দিদের খোঁজখবর নেওয়া, জেলখানায় তাদের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো দেখভাল করা এবং নির্যাতিত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এসব দায়িত্ব তিনি নীরবে পালন করেছেন বলে নেতাকর্মীরা জানান।অনেক কর্মী যখন রাজনৈতিক নির্যাতনের কারণে পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটিয়েছেন, তখন তাদের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বাবলু। কিন্তু বিনিময়ে তিনি চাননি প্রচার, চাননি ছবির সামনে দাঁড়িয়ে বাহবা। তিনি ছিলেন নীরব। কিন্তু সেই নীরবতাই আজ তাকে কর্মীদের হৃদয়ে আরও বেশি জায়গা করে দিয়েছে।প্রচারের আলোয় নয়, কর্মীদের হৃদয়ে তার অবস্থান। রাজনীতিতে আজ প্রচারের প্রতিযোগিতা বাড়লেও খালেকুজ্জামান বাবলুর রাজনৈতিক পথচলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তিনি কর্মীদের জন্য কাজ করেছেন, কিন্তু নিজের কাজের প্রচার নিয়ে ব্যস্ত হননি।দলের দুর্দিনে তিনি ছিলেন কর্মীবান্ধব নেতা। নির্যাতিত মানুষের কান্না, কারাবন্দি কর্মীর পরিবারের অসহায়ত্ব এবং আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের ভয় এসব ছিল তার রাজনৈতিক জীবনের বাস্তবতা।
তিনি শুধু নেতা হতে চাননি, হয়েছেন কর্মীদের আপনজন। আর এ কারণেই কালীগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি অনেকের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছেন ভালোবাসার এক নামে ‘বাবলু ভাই’। এই ‘বাবলু ভাই’ নামের মধ্যে রয়েছে কর্মীদের বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং দুঃসময়ের স্মৃতি।পরিবারের ওপরও নেমে এসেছে রাজনৈতিক প্রতিকূলতা। খালেকুজ্জামান বাবলুর রাজনৈতিক সংগ্রাম শুধু তার নিজের নির্যাতনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তার পরিবারকেও দিতে হয়েছে চরম মূল্য। দলের আন্দোলন-সংগ্রামকে কেন্দ্র করে তার তিন ভাইয়ের মধ্যে কারাবরণ করেননি এমন কেউ নেই বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানান। অর্থাৎ একটি পরিবারের একাধিক সদস্যকে রাজনীতির কারণে কারাগারের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।কিন্তু সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় ছিল তার একমাত্র সন্তানকে ঘিরে। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার একমাত্র ছেলে গুমের শিকার হয়েছিল। পরবর্তীতে মিথ্যা মামলায় তাকে প্রায় দেড় মাস কারাভোগ করতে হয়। একজন পিতার জন্য এর চেয়ে বড় কষ্ট আর কী হতে পারে?নিজে মামলার আসামি, নিজে কারানির্যাতনের শিকার তারপরও পরিবারের সদস্যদের ওপর নেমে আসা একের পর এক দুর্ভোগ। কিন্তু এত কিছুর পরও খালেকুজ্জামান বাবলু রাজনীতির মাঠ ছেড়ে যাননি ভেঙে পড়েননি। পিছিয়ে যাননি। বরং আরও দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছেন তার রাজনৈতিক বিশ্বাস ও আদর্শকে।
তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩, ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮