আজ খিটখিটে মেজাজ দিবস, গোমড়ামুখোদের জন্যই বিশেষ দিন!
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম  (ভিজিট : )
খিটখিটে মেজাজ।  ছবি: সংগৃহীত

খিটখিটে মেজাজ। ছবি: সংগৃহীত

তাজাখবর২৪.কম,ডেস্ক নিউজ: সব সময় হাসিখুশি থাকা কি সম্ভব? কাজের চাপ, ক্লান্তি কিংবা মনের অশান্তিতে কখনো কখনো বিরক্তি প্রকাশ পেতেই পারে। আর সেই খিটখিটে মেজাজ বা গোমড়ামুখো স্বভাব নিয়েই যদি থাকে একটি বিশেষ দিন, তাহলে মন্দ কী! প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর পালিত হয় খিটখিটে মেজাজ দিবস। দিনটি বদমেজাজি আচরণ নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করার পাশাপাশি নিজের অনুভূতি বুঝতে শেখারও সুযোগ করে দেয়।এই দিনে কেউ চাইলে কিছুটা গম্ভীর মুখে সময় কাটাতে পারেন, আবার পরিচিত খিটখিটে মানুষদের নিয়েও মজার ছলে আনন্দ করতে পারেন। তবে মজার ছলে কাউকে অপমান করা নয়, বরং নিজের ও অন্যের স্বভাবকে একটু অন্যভাবে দেখাই এই দিনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

খিটখিটে স্বভাবের জনপ্রিয় চরিত্র অস্কার
খিটখিটে মেজাজের কথা উঠলে অনেকেরই মনে পড়ে শিশুদের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘সেসামি স্ট্রিট’-এর অস্কার দ্য গ্রাউচের কথা। ১৯৬৯ সালে অনুষ্ঠানটিতে আত্মপ্রকাশ করে এই চরিত্র। পরে যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের কাছে এটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।সবুজ লোমশ এই পুতুলটির পরিচিতি তার গোমড়ামুখো স্বভাব, নানা বিষয়ে অভিযোগ করা এবং বিরক্তি প্রকাশের জন্য। এমনকি আবর্জনার পাত্রে থাকতেও তার বেশ পছন্দ। আবর্জনার প্রতি তার ভালোবাসা নিয়ে রয়েছে মজার গানও।তবে সব সময় বিরক্তি প্রকাশ করলেও অস্কারের আচরণের আড়ালে কখনো কখনো কোমল মনের পরিচয় পাওয়া যায়। এ কারণেই চরিত্রটি শুধু শিশুদের নয়, বড়দের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

এক ছাত্রীর মজার ভাবনা থেকেই দিবসটির শুরু
খিটখিটে মেজাজ দিবসের প্রচলনের পেছনে রয়েছে মজার একটি ঘটনা। ১৯৭৬ সালে ‘চেজেস ক্যালেন্ডার অব ইভেন্টস’-এর প্রকাশক বিল ও হেলেন চেজ তাদের নাতনি মনিকার কাছ থেকে দিবসটি উদ্‌যাপনের ধারণা পান।তখন মিশিগানের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মনিকার এক শিক্ষক ছিলেন অত্যন্ত খিটখিটে স্বভাবের। ওই শিক্ষকের জন্মদিন ছিল ১৫ অক্টোবর। তাই বন্ধুদের সঙ্গে মিলে মজার ছলে দিনটিকে খিটখিটে মেজাজ দিবস হিসেবে চিহ্নিত করে মনিকা।সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই মজার ভাবনা পরিচিতি পায়। পরে দিবসটির সঙ্গে অস্কার দ্য গ্রাউচের নামও জড়িয়ে যায়। বর্তমানে বিভিন্ন জায়গায় মানুষ নিজেদের মতো করে দিনটি পালন করেন। কেউ অস্কারের মজার কাণ্ডকারখানা মনে করেন, আবার কেউ পরিচিত বদমেজাজি মানুষদের নিয়ে হাসি-ঠাট্টায় মেতে ওঠেন।

কীভাবে উদযাপন করবেন খিটখিটে মেজাজ দিবস?
দিনটি পালনের জন্য বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন নেই। চাইলে কিছুটা সময় গম্ভীর মুখে কাটাতে পারেন কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে খিটখিটে স্বভাব নিয়ে মজার গল্প করতে পারেন। তবে হাসি-ঠাট্টা যেন কারও মনে আঘাত না দেয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।দিনটি নিজের অনুভূতি বোঝারও একটি সুযোগ। সব সময় হাসিখুশি থাকার চাপ না নিয়ে মন খারাপ, রাগ কিংবা বিরক্তির অনুভূতিকে স্বাভাবিকভাবে চিনতে শেখা দরকার। কী কারণে এমন অনুভূতি তৈরি হচ্ছে, তা বোঝার চেষ্টা করলে নিজের আবেগ সামলানোও সহজ হতে পারে।তবে রাগ বা বিরক্তি প্রকাশের ধরন এমন হওয়া উচিত নয়, যাতে নিজের কিংবা অন্যের ক্ষতি হয়।অস্কারের পুরোনো পর্ব দেখেও কাটাতে পারেন দিনটি

খিটখিটে মেজাজ দিবসকে আরও আনন্দময় করতে পরিবারের সঙ্গে দেখে নিতে পারেন ‘সেসামি স্ট্রিট’-এর পুরোনো পর্ব। বিশেষ করে অস্কার দ্য গ্রাউচকে নিয়ে তৈরি অংশগুলোতে রয়েছে তার গোমড়ামুখো আচরণ, মজার গান ও বিচিত্র কাণ্ডকারখানা।অস্কারকে নিয়ে রয়েছে আরও একটি মজার তথ্য। অনুষ্ঠানের প্রথম মৌসুমে তার গায়ের লোমের রং ছিল কমলা। দ্বিতীয় মৌসুমে সে সবুজ রঙের হয়ে ফিরে আসে। গল্পে বলা হয়, ছুটিতে গিয়ে কাদামাখা জলাভূমিতে থাকার কারণেই তার গায়ের রং বদলে গিয়েছিল।সব সময় হাসিখুশি থাকতেই হবে, এমন নয়

খিটখিটে মেজাজ দিবসের আনন্দ শুধু বদমেজাজি আচরণ নিয়ে হাসি-ঠাট্টায় সীমাবদ্ধ নয়। নিজের অনুভূতিকে স্বীকার করা, ছোটখাটো বিষয় নিয়ে হাসতে শেখা এবং অন্যের স্বভাবকে সহানুভূতির চোখে দেখার মধ্যেও রয়েছে এই দিনের তাৎপর্য।তাই আজ যদি আপনার মন ভালো না থাকে, নিজেকে জোর করে হাসিখুশি রাখার প্রয়োজন নেই। বরং নিজের অনুভূতিকে বোঝার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, সব সময় হাসিমুখে থাকা সম্ভব নয়; তবে রাগ, বিরক্তি কিংবা মন খারাপের মধ্যেও অন্যের প্রতি সম্মান বজায় রাখা জরুরি।

তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩, ০৪ জমাদিউল আউয়াল  ১৪৪৮

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদক: কায়সার হাসান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু, সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল: ০১৭৫৫৩৭৬১৭৮,০১৮১৮১২০৯০৮, ই-মেইল: [email protected], [email protected]
সম্পাদক: কায়সার হাসান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু, সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল: ০১৭৫৫৩৭৬১৭৮,০১৮১৮১২০৯০৮, ই-মেইল: [email protected], [email protected]
🔝