কর্ণফুলী ইপিজেডে বিনিয়োগে নতুন রেকর্ড, ২০ বছরে বেড়েছে ৪১২ গুণ
প্রকাশ: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৩ এএম  (ভিজিট : )
কর্ণফুলী ইপিজেড। ছবি: সংগৃহীত

কর্ণফুলী ইপিজেড। ছবি: সংগৃহীত

তাজাখবর২৪.কম,অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক: চট্টগ্রামের কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (কেইপিজেড) গত দুই দশকে বিদেশি ও স্থানীয় বিনিয়োগ বেড়েছে ৪১২ গুণ।বেপজা’র নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার পারভেজ জানান, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে মাত্র ১ দশমিক ৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ নিয়ে কর্ণফুলী ইপিজেডের কার্যক্রম শুরু হয়। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত এখানে মোট বিনিয়োগ বেড়ে ৭৮৭ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি।তিনি জানান, কেইপিজেডে ২৫৮টি শিল্প প্লট রয়েছে। প্রতিটি প্লটের আয়তন ২ হাজার বর্গমিটার। এসব প্লটে বড়, মাঝারি ও ছোট শ্রেণির মোট ৪০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন, তিনটি যৌথ বিনিয়োগের এবং আটটি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মালিকানাধীন। এ ছাড়া ৪৯ হাজার ৭৯৮ বর্গমিটার ফ্লোর স্পেসজুড়ে আরো পাঁচটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাস্তবায়ন কাজ চলছে।

বাংলাদেশ, চীন, তাইওয়ান, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা, জাপান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়াসহ ১৪টি দেশের উদ্যোক্তারা কেইপিজেডে নিজ নিজ শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনে বিনিয়োগ করেছেন।আনোয়ার পারভেজ জানান, কর্ণফুলী ইপিজেড ২০০৬ সালে কার্যক্রম শুরু করে এবং ২০০৭ সালের নভেম্বরে এখান থেকে রপ্তানি শুরু হয়। প্রথম বছরে (২০০৭-০৮) কর্ণফুলী ইপিজেড থেকে ৯ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়।সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত কেইপিজেড থেকে মোট ১৪ হাজার ১৫৬ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

বেপজা সূত্র জানায়, গত পাঁচ অর্থবছরে কেইপিজেডের রপ্তানি আয় ২০২১-২২ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৪৮ দশমিক ৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১ হাজার ৮৮৫ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ হাজার ১৮ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ হাজার ২৫৯ দশমিক ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১ হাজার ২৩০ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাকের পাশাপাশি কেইপিজেডের কারখানাগুলোতে মূলত তাঁবু ও ক্যাম্পিং সরঞ্জাম, বাইসাইকেল, চামড়াজাত পণ্য, আসবাবপত্র, ব্যাগ, ফ্যাশন পোশাক ও সেফটি স্যুট উৎপাদন করা হয়। এসব পণ্যের অনেকগুলোই বিশ্বের খ্যাতনামা ব্র্যান্ডের জন্য তৈরি করা হয়।কেইপিজেডের কারখানায় উৎপাদিত পণ্য বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে রপ্তানি হয়। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো ছাড়াও ইইউ’র বাইরের বিভিন্ন দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজার রয়েছে।

কেইপিজেডের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বেপজার নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, পণ্যের বহুমুখীকরণই কেইপিজেডের এ উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির অন্যতম কারণ।তিনি বলেন, বিপুল রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই এসেছে বিশ্বমানের পণ্যের বহুমুখীকরণের মাধ্যমে। কেইপিজেড বর্তমানে উচ্চমূল্যের ও বিশেষায়িত পণ্য উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিশ্বখ্যাত প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর ক্রীড়া পোশাক, ক্যাম্পিং তাঁবু, উচ্চপ্রযুক্তির সরঞ্জাম, বাইসাইকেল, সেফটি জুতা ও চামড়াজাত পণ্যসহ বিভিন্ন সামগ্রী বর্তমানে এখানে তৈরি হচ্ছে।

বেপজা চট্টগ্রাম স্টিল মিলস লিমিটেডের পরিত্যক্ত জমিতে এ বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলে। রাষ্ট্রায়ত্ত এই বৃহৎ ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯১ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি অব্যবস্থাপনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে লোকসানের মুখে পড়ে। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদনের স্বর্ণযুগে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক কর্মরত ছিল। একসময় হাজারো শ্রমিকের কর্মচাঞ্চল্যে মুখর এই বিশাল শিল্পাঞ্চলটি পতেঙ্গা শিল্পাঞ্চলকে প্রাণবন্ত করে রেখেছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হওয়ার পর পুরো এলাকা প্রাণহীন স্থানে পরিণত হয়।

তবে কর্ণফুলী নদীর তীরজুড়ে বিস্তৃত গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল পতেঙ্গা আবারও প্রাণ ফিরে পায়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার সেখানে বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চল হিসেবে কেইপিজেড প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দূরদর্শী ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এ শিল্পাঞ্চলে নতুন করে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসে।তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী এবং বর্তমানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উপস্থিতিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কেইপিজেডের উদ্বোধন করেন। এর মধ্য দিয়ে পতেঙ্গা শিল্পাঞ্চলে শিল্পায়নের নতুন যুগের সূচনা হয়। সূত্র: বাসস

তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩, ১৬ রবউিস সানি ১৪৪৮

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদক: কায়সার হাসান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু, সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল: ০১৭৫৫৩৭৬১৭৮,০১৮১৮১২০৯০৮, ই-মেইল: [email protected], [email protected]
সম্পাদক: কায়সার হাসান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু, সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল: ০১৭৫৫৩৭৬১৭৮,০১৮১৮১২০৯০৮, ই-মেইল: [email protected], [email protected]
🔝