জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার এক দিনেই চড়া নিত্যপণ্যের বাজার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৮ পিএম  (ভিজিট : )
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

তাজাখবর২৪.কম,অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক: জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে তেল, রসুন ও সবজিসহ নিত্যপণ্যের বাজারে। এক দিনের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১০ টাকা বেড়েছে।এছাড়াও চায়না রসুনের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা । একই সঙ্গে বেশির ভাগ সবজির দামও কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। বেড়েছে মাছ ও ডিমের দামও। এতে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা।

লালবাগে বাজার করতে আসা এক নারী বলেন 'ভাবছিলাম নতুন সরকার আসলে হয়তো বাজারের দাম কিছুটা কমবে। কিন্তু এখন দেখি উল্টো আরও বাড়ছে। সবজির দাম এমনিতেই বেশি ছিল, তার ওপর আবার একেকটা সবজির দাম বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য সংসার চালানো খুব কঠিন হয়ে যাবে।'মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। বাজারে খোলা সয়াবিন তেল ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২১০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে। পাম তেলের দামও লিটারে ৫ টাকা বেড়ে ১৯০ টাকা থেকে ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রসুনের দামেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। চায়না রসুনের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকা থেকে১৫০ টাকা হয়েছে। দেশি রসুনও ৯০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।এ ছাড়া বুটের দাম ১০৮ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকা এবং ছোলার দাম ৯০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকা হয়েছে। বেড়েছে চালের দাম। পায়জাম ও ২৮ চালের বস্তায়ও ১০০ টাকা করে দাম বেড়েছে।লালবাগের মুদি দোকানি বলেন, 'পাইজাম চাল আগে ১,৩০০ টাকা আর ২৮ চাল ১,৪০০ টাকা করে কিনতাম। আজকে দেখলাম দুটোর দামই বস্তায় ১০০ টাকা করে বেড়েছে। সকালে রসুন কিনতে গিয়েও অবাক হয়ে গেলাম, দাম এক লাফে অনেক বেড়ে গেছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে আমাদেরও তো বেশি দামে বিক্রি করতে হবে।'

এক দিনের ব্যবধানে বেড়েছে সবজির দাম
বাজারে এক দিনের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। শিম ২৪০ টাকা থেকে বেড়ে ২৪৫ টাকা, পেঁপে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা, বরবটি ১০০ থেকে ১০৫ টাকা এবং ঝিঙা ও চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ধুন্দল ও করলার দাম ৭৫ থেকে বেড়ে ৮৫ টাকা এবং পটল ৭০ থেকে বেড়ে ৭৫ টাকা হয়েছে। ঢ্যাঁড়স ৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫ টাকা, টমেটো ৯০ থেকে ১০০ টাকা, শসা ৮০ থেকে ৮৫ টাকা এবং গোল বেগুন ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।এ ছাড়া মিষ্টি কুমড়া ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ২০০ থেকে বেড়ে ২০৫ টাকা কেজি হয়েছে। লাউয়ের দাম প্রতি পিস ৬০–৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৬৫–৭৫ টাকা, জালি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ থেকে বেড়ে ৪৫ টাকা হয়েছে।লালবাগের সবজি বিক্রেতা বলেন, 'আমাদের তো হাত-পা বাঁধা। পাইকারি বাজার থেকে যে দামে কিনে আনি, তার সঙ্গে কিছু লাভ রেখে সেই দামেই বিক্রি করি। পাইকারিতে দাম বাড়লে আমাদেরও বাড়াতে হয়। আসলে আমরাও চাই না দাম বাড়ুক, কারণ দাম বেশি হলে ক্রেতারাও কম কিনেন।'

বেড়েছে ডিমের দামও
বাজারে ডিমের দাম ডজনপ্রতি ৫ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।তবে মুরগির বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ টাকা, সোনালি ৩১০–৩২০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০–৩০০ টাকা এবং লেয়ার ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছেও বাড়তি দাম
মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই ক্রেতাদের। গতকালের তুলনায় বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।বর্তমানে তেলাপিয়া ২৫০–২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০–২৫০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০–৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।এ ছাড়া পাবদা ৩৫০–৪০০ টাকা, মৃগেল ২৫০–৩০০ টাকা, দেশি কই ৭০০–৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা এবং পোয়া ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।আকারভেদে চাষের শিং মাছ ৩০০–৪৫০ টাকা এবং মাঝারি আকারের রুই ৩০০–৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।নিউমার্কেটের মাছ বিক্রেতা মফিজুল ইসলাম বলেন, 'মাছ তো বেশির ভাগই ঢাকার বাইরে থেকে আসে। শুনছি তেলের দাম বাড়ার কারণে পাইকাররাও মাছের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাই আমাদের এখানেও মাছের দাম ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সামনে পরিবহন খরচ আরও বাড়লে দাম আরও বাড়তে পারে।'

তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩,  ১০ রবউিস সানি ১৪৪৮

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদক: কায়সার হাসান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু, সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল: ০১৭৫৫৩৭৬১৭৮,০১৮১৮১২০৯০৮, ই-মেইল: [email protected], [email protected]
সম্পাদক: কায়সার হাসান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু, সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল: ০১৭৫৫৩৭৬১৭৮,০১৮১৮১২০৯০৮, ই-মেইল: [email protected], [email protected]
🔝