প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৩:০৪ পিএম (ভিজিট : )
রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবসে ক্যাম্পে নানা কর্মসূচি
মোহাম্মদ খোরশেদ হেলালী,তাজাখবর২৪.কম,কক্সবাজার: আজ ২৫ আগস্ট ৯ম বারের মতো পালিত হচ্ছে রোহিঙ্গা গণহত্যা ও স্মরণ দিবস। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতার পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা প্রতিবছরের মতো এবারও নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।দিবসটি উপলক্ষে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সমাবেশ, র্যালি, আলোচনা ও স্বরণ সভা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে ২০১৭ সালের সহিংসতায় নিহতদের স্মরণ করার পাশাপাশি মিয়ানমারে নিজেদের নিজ ভূমিতে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার দাবি তুলে ধরেন রোহিঙ্গারা।
রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবসে ক্যাম্পে নানা কর্মসূচি
রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস উপলক্ষে উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ক্যাম্প-১ ইস্ট ও ১ ওয়েস্টের লম্বাশিয়া-চারমুখা এলাকা থেকে অংশগ্রহণকারীরা ক্যাম্প-৪-এর খেলার মাঠে যাবে। ক্যাম্প-২ ইস্ট, ২ ওয়েস্ট ও ক্যাম্প-৬-এর কর্মসূচি মফিজের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। ক্যাম্প-৪ ও ৪ এক্সটেনশনের কর্মসূচি হবে খেলার মাঠ/ফুটবল মাঠে। ক্যাম্প-৭ ও ৯ থেকে একটি র্যালি প্রধান সড়ক দিয়ে ক্যাম্প-৪-এর দিকে যাবে। ক্যাম্প-১১-এর মেইন ব্লক-এ, সাব-ব্লক এ-১; ক্যাম্প-১২-এর মেইন ব্লক-এ সিআইসি অফিসের পাশে; ক্যাম্প-১৩-এর ব্লক এ-০২-এর ফুটবল মাঠে; ক্যাম্প-২২-এর সেন্ট্রাল এমপিসি (BRAC); ক্যাম্প-২৪ ও ২৫-এর জন্য ক্যাম্প-২৪-এর জানাজা মাঠে এবং এনআরসি ক্যাম্পের ব্লক-ই কমিউনিটি সেন্টারে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
রোহিঙ্গা কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের ভাষ্য, তারা বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে থাকতে চান না। মিয়ানমারে নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব ও মৌলিক অধিকার, নিজ ভূমিতে ফেরার সুযোগ এবং জমি-বাড়ির অধিকার নিশ্চিত করা হলে তারা নিজ দেশে ফিরে যেতে প্রস্তুত।জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত রাখাইনে চলমান সংঘাতের কারণে নতুন করে আরও প্রায় দুই লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৩ সালের শেষদিকে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র সংঘাত শুরু হওয়ার পর রাখাইনের পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘাত অব্যাহত থাকায় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াও জটিল হয়ে পড়েছে।রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (UCR)-এর নেতারা বলছেন, রোহিঙ্গাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হলো নিজ দেশে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে রোহিঙ্গা কমিউনিটিরা মনে করছেন, শুধু সীমান্তের ওপারে মানুষ পাঠিয়ে দিলেই প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হবে না। প্রত্যাবাসনের আগে রাখাইনে চলমান সংঘাত বন্ধ, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নিজ ভূমিতে ফেরার সুযোগ, জমি-বাড়ির অধিকার এবং নাগরিকত্বসহ মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।উখিয়া-টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দারাও রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকটের কারণে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে।রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবসের এবারের কর্মসূচিতে একই দাবি জোরালোভাবে উঠে আসছে—নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ।
তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮