রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ফলাফল প্রায় নিশ্চিত হলেও রাজনীতিতে নতুন মাত্রা
তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বৃহস্পতিবার হতে যাচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। এরইমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় অনেকটাই নিশ্চিত। তারপরও ভোটের মাঠ ছাড়েনি বিরোধী জোট। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য প্রার্থী করেছে এলডিপি সভাপতি অলি আহমদকে। ফলে ফলাফল প্রায় নিশ্চিত হলেও রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে এ নির্বাচন।রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে আবারও উত্তাপ। প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠে দুই প্রার্থী ক্ষমতাসীন বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বিরোধী জোটের প্রার্থী এলডিপি সভাপতি অলি আহমদ।
জানা যায়, রাষ্ট্রপতি পদে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯১ সালে। সেবার বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী। শেষ পর্যন্ত জয় পান আবদুর রহমান বিশ্বাস।৩৫ বছর পরের চিত্র অবশ্য ভিন্ন। সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ বিএনপি। ফলে তাদের মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় নিশ্চিত। তবুও নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ায়নি বিরোধী জোট। অলি আহমদকে প্রার্থী করে ভোটের মাঠে থাকার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে যদি রাষ্ট্রপতি হয় তাহলে তো একপেশে হচ্ছে না।তাদের মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে নিয়ে আসা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকেরা বলেন, সংবিধান ও নির্বাচন কাঠামোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার হলে সংসদ সদস্যদের মতামতের প্রকৃত প্রতিফলন আরও স্পষ্টভাবে ঘটতে পারে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন আহমেদ সময় সংবাদকে বলেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বিন্দ্বিতা থাকলে সেই নির্বাচন অর্থবহ হয়, মানুষের কাছে আবার গ্রহণযোগ্যতাও থাকে। এটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটা ধাপ, সেই ধাপটা আমার কাছে মনে হয় এটা সার্থক। ৭০ অনুচ্ছেদ, যারা গণতান্ত্রিক চর্চায় বিশ্বাস করে বা স্বাধীন মত প্রকাশে বিশ্বাস করে, তারা অবশ্যই এটাকে গ্রহণ করবে এবং তারা এটাকে সাধুবাদ জানাবে।
বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তকেও যৌক্তিক বলে মনে করেন এসব বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এবারের নির্বাচন শুধু কে রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয় বরং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দেওয়া, বিরোধী জোটের কৌশল এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বর্তমান কাঠামো—সবকিছু নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা।
তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩, ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮