হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকা সরবরাহ বন্ধ, মারাত্মত ঝুঁকিতে চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৪৩ এএম  (ভিজিট : )
ছবি সংগৃহীত

ছবি সংগৃহীত

তাজাখবর২৪.কম,চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে দুই মাস ধরে জলাতঙ্কের টিকা সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। অথচ প্রতিদিন প্রায় শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু কুকুর-বিড়ালের কামড় ও আঁচড়ের শিকার হচ্ছেন। ভ্যাকসিন সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এ রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যু ঝুঁকি বাড়বে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।জানা যায়, পোষা প্রাণি ও বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে প্রতিনিয়ত চুয়াডাঙ্গায় বাড়ছে জলাতঙ্ক রোগের শঙ্কা। এটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ। কুকুর, বিড়ালের কামড় ও আঁচড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আক্রান্তরা আসছেন হাসপাতালে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত টিকা। বাধ্য হয়ে তাদের বাইরে থেকে টিকা কিনে শরীরে পুশ করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে প্রাণির কামড়ে আক্রান্ত হয়েছে জেলার ১৫৮৭১ জন। আক্রান্তের হার প্রতিদিনই বাড়ছে। প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রাণির শরীরে চাহিদার তুলনায় সামান্য কিছু ভ্যাকসিন পুশ করেছে; যা দিয়ে জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এ রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি শতভাগ। বেড়াল পোষার কারণে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হতে পারে। বিড়াল বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে; যা থেকে মানুষ রোগ এবং মৃত্যুর মুখে পতিত হতে পারে।

প্রতিদিনই সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রাণিসম্পদ অফিসে সব বয়সের নারী-পুরুষ বিড়ালের আঁচড়ের চিকিৎসার জন্য ভিড় করছেন। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রতিদিন বিড়াল-কুকুরের কামড় ও আঁচড়ে আক্রান্ত হয়ে প্রায় শতাধিক নতুন রোগী আসছেন। আর পুরানো রোগী দুই শতাধিক এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন। প্রতিদিন সদর হাসপাতালে একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও দুজন জুনিয়র নার্স চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। তিনজনের পক্ষে এত রোগীর চাপ সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিদিনই বাড়ছে বিড়াল ও কুকুরের কামড়ের ক্ষত নিয়ে আসা রোগী। প্রয়োজনীয় লোকবল না বাড়ালে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে। জেলায় বাড়তে পারে জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যুর ঝুঁকি। সাধারণ মানুষ আতঙ্কের ভেতরে দিনযাপন করছেন। জলাতঙ্কের টিকা বাইরে থেকে কিনতে গিয়ে অনেকেই হিমশিম খাচ্ছেন। টিকা না দিয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে টিকা সরবরাহ করা হলে সাধারণ মানুষ অনেকটাই স্বস্তি পাবেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ভ্যাকসিনের চাহিদা দিয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতরে। ভ্যাকসিনের বরাদ্দ পেলেই স্বাভাবিক হবে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকা সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। জলাতঙ্ক রোগ থেকে বাঁচতে নিজেরাই বাইরে থেকে টিকা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা। টাকা দিয়ে টিকা কিনে নিয়ে হাসপাতালে এসে শরীরে পুশ করছেন। আক্রান্তরা নিয়ম মেনে শরীরে তিন ডোজ টিকা নিচ্ছেন।সূত্রটি আরও জানায়, আক্রান্ত যারা হাসপাতালে ফ্রি টিকা না পেয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন; তাদের জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঝুঁকির মধ্য বেশি। দূর-দুরন্ত থেকে আসা রোগীরা টিকার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে বাধ্য হয়েই বাইরে থেকে টিকা কিনছেন। চুয়াডাঙ্গাসহ মেহেরপুর, ঝিনাইদহ জেলা থেকেও আসছেন রোগী। যার কারণে অতিরিক্ত ভ্যাকসিনের চাহিদা বাড়ছে।

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সন্তোষপুর গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আয়নাল হক বলেন, ‘আমাকে কুকুরে কামড় দিয়েছে। জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরামর্শে চুয়াডাঙ্গায় যাই। হাসপাতালে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর জানতে পারি ভ্যাকসিন দুই মাস ধরে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বাধ্য হয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকে জলাতঙ্কের টিকা কিনে নিয়ে এসে শরীরে পুশ করি। চিকিৎসা না নিলে এ রোগে মৃত্যু অনিবার্য।চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার কলেজপাড়ার বাসিন্দা হাসিনা খাতুন বলেন, ‘আমার বাড়িতে কয়েকটি পোষা বিড়াল রয়েছে। বিড়ালে আমার ছোট মেয়েকে কামড় দিয়েছে। হাসপাতালে এসে দেখি সরকারিভাবে কোনো ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে না।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকা দেয়া এক সিনিয়র স্টাফ নার্স জানান, প্রতিদিন নতুন রোগী আসছেন প্রায় শতাধিক। আর পুরাতন রোগী আসছেন দুই শতাধিক। হাসপাতালে তিনজনের পক্ষে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রয়োজনীয় লোকবল থাকলে এই সমস্যায় পড়তে হতো না। আর ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকায় বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষকে কুকুর-বিড়ালের কামড় ও আঁচড় থেকে বাঁচতে সাবধান হতে হবে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস জানান, গত কয়েক মাস ধরে কুকুর ও বিড়ালের কামর এবং আঁচড়ের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। অতিরিক্ত ভ্যাকসিনের চাহিদাও বেড়েছে। ডিসেম্বর মাস থেকে ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। আমরা চাহিদা দিয়েছি বরাদ্দ পেলেই এটা স্বাভাবিক হবে।তিনি আরও জানান, সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে। জলাতঙ্ক রোগে মৃত্যু শতভাগ। ভ্যাকসিন নিলে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও সদর হাসপাতালে আসছে অনেক রোগী। দায়িত্বরত নার্সদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কুকুর বিড়ালকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে পারলে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে জানান চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ২০২৪ সালে কুকুর ও বিড়ালে কামড় এবং আঁচড় দেয় ১২৭৩২ জনকে। ২০২৫ সালে কামড় ও আঁচড় দেয় ১৫৮৭১ জনকে। জেলায় প্রায় ৫ হাজার কুকুর, দুই হাজার বিড়াল রয়েছে। কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বেঁজি, বানর ও বাদুড়ের কামড় এবং আঁচড় দিলে ভ্যাকসিন দিতে হয়। প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে চারটি উপজেলায় কুকুর ও বিড়ালের শরীরে জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধের জন্য ৮০০টি ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে।২০২৫ সালে চুয়াডাঙ্গায় সদর হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে প্রায় ১২০০০ হাজার টিকা সরবরাহ করা হয়।

তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫ই মাঘ ১৪৩২,৯ শাবান, ১৪৪৭

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদক: কায়সার হাসান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু, সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল: ০১৭৫৫৩৭৬১৭৮,০১৮১৮১২০৯০৮, ই-মেইল: [email protected], [email protected]
সম্পাদক: কায়সার হাসান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু, সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল: ০১৭৫৫৩৭৬১৭৮,০১৮১৮১২০৯০৮, ই-মেইল: [email protected], [email protected]
🔝