যশোর শহরে অসহনীয় যানজট, অতি শীঘ্রই যানজট নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামছে স্থানীয় প্রশাসন
প্রকাশ: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৩:১৬ পিএম আপডেট: ২২.০৮.২০২৬ ৩:২৩ পিএম  (ভিজিট : )
যশোর শহরে অসহনীয় যানজট, অতি শীঘ্রই যানজট নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামছে স্থানীয় প্রশাসন

যশোর শহরে অসহনীয় যানজট, অতি শীঘ্রই যানজট নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামছে স্থানীয় প্রশাসন

এসএম সেলিম,তাজাখবর২৪.কম, যশোর ব্যুরো: যশোর শহরে অনুমোদনবিহীন ইজিবাইক ও ব্যাটারি চালিত রিক্সা চলাচলে যানজট বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। বিগত ৫ ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের কয়েক মাস পর থেকে যশোর শহরে দিনে দিনে বৃদ্ধি পেয়েছে অসহনীয় যানজট। যানজটের কারণে নাকাল হয়ে পড়েছে যশোর বাসি। ট্রাফিক পুলিশের সীমিত জনবল দিয়ে যানজট দূর করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। যশোর শহর ঘুরে দেখা যায়, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যত্রতত্র পার্কিং, রাস্তার অর্ধেক দখল করে যাত্রী উঠানামা, মোড়ে মোড়ে কয়েক লাইন দিয়ে দাঁড়ানো, ট্রাফিক আইন অমান্য করে চলছে ইজিবাইক ও ব্যাটারি চালিত রিক্সা। তাদের নেই কেন গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা, নেই কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স, নেই কোন ট্যাক্স টোকেন। অল্প বয়সী ছেলে থেকে শুরু করে যে কোন লোক ইজিবাইক নিয়ে নেমে পড়েছেন রাস্তায়। যশোর জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বহিরাগতরা অনুমোদনবিহীন ইজিবাইক অথবা ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে শহরে প্রবেশ করে সকাল থেকে রাত অবধি শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ভাড়া খাটিয়ে আবার বিভিন্ন উপজেলায় চলে যান। ওই সকল অবৈধ ইজিবাইক ও ব্যাটারি চালিত রিকশা চলাচলের কারণে যানজট প্রকট আকার ধারন করেছে। 

যশোর পৌরসভার অধীনে শহরে ইজিবাইক চলাচলের অনুমতি আছে ৪.৪৭৮টি। কিন্তু শহরে চলছে ২০ থেকে ২৫ হাজার ইজি বাইক। ব্যাটারি চালিত রিক্সার কোন অনুমোদন নেই। যশোর শহরের অধিকাংশ রাস্তা সরু। সে আমলের রাস্তা দিয়ে চলছে যানবাহন। ফলে যানজট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। পৌর শহরে প্রতিদিন বাড়ছে অনুমোদন বিহীন ঝুঁকিপূর্ণ বাহন ইজিবাইক ও ব্যাটারি চালিত রিক্সা। শহরের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ জায়গা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যানজটের কবলে পড়ে অফিসগামী লোকজন স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় জ্যামে আটকে থাকতে হয়। বিশেষ করে অফিস ছুটির পর বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত যানজটে নাকাল শহরবাসী। অবস্থা বেগতিক দেখে স্থানীয় প্রশাসন ও যশোর পৌরসভা নড়ে চড়ে বসে। জেলার আইন-শৃঙ্খলা মিটিং এ জেলা প্রশাসক মোঃ আশেক হাসান এর উপস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মিটিং এ এই অনুমোদনবিহীন ইজিবাইক ও ব্যাটারি চালিত রিকশা শহরে চলাচল বন্ধে কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধে ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত অটো রিক্সার বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যশোর পৌরসভা। 

এ ব্যাপারে যশোর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মোঃ কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আগামী ২৪ শে আগস্ট থেকে যশোর পৌরসভা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী এই অভিযান শুরু হবে। শহরকে যানজট মুক্ত রাখতে যশোরবাসীকে স্বস্তি দিতে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে এই অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন ইতিমধ্যে তিন দিনব্যাপী শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ও অলিগলিতে সতর্কতামূলক ব্যাপক ভাবে মাইকিং করা হয়। পৌরসভার অনুমোদনকৃত বাহন ছাড়া ঐ সকল অনুমোদনবিহীন বাহনকে আটক করে ট্রাফিক পুলিশ অফিসে হস্তান্তর করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে যশোর পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা উত্তম কুমার কুন্ডু বলেন, যশোর পৌরসভা কর্তৃক ইস্যু করা লাইসেন্স ব্যতীত অন্য কোন অবৈধ বাহন শহরে চলাচল করা দন্ডনীয় অপরাধ। 

আগামী ২৪ আগস্ট ব্যাটারি চালিত রিক্সা ও অবৈধ ইজিবাইকের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, পৌরসভা জোরালো অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে। এই অভিযানের ফলে শহরে অবৈধ যানবাহনের সংখ্যা ও চলাচল কমবে এবং যানজট সহনীয় পর্যায়ে আসবে। এ ব্যাপারে যশোর পৌরসভার সহকারী লাইসেন্স পরিদর্শক মোহাম্মদ মনজুর হোসেনের সাথে কথা বলে জানা যায়, যশোর শহরে যখন সীমিত আকারে ইজিবাইক চলাচল শুরু করে তখন আমরা মালিকদেরকে ডেকে ডেকে লাইসেন্স দেয়া শুরু করি। ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মেয়র রেন্টু চাকলাদারের আমলে পৌর পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইজিবাইক লাইসেন্স ইস্যু করা হয়। লাইসেন্স ফি নির্ধারণ করা হয় ৭.০০০ হাজার টাকা। পরবর্তীতে শহরে বাহনের চাহিদা বাড়ায় পুনরায় ফি নির্ধারণ করা হয় ১০.০০০ হাজার টাকা। সাবেক মেয়র রেন্টুর আমলে ৩.২৭১ টি লাইসেন্স পৌর পরিষদের সম্মতিক্রমে বিতরণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পৌর মেয়র হায়দার গনী খান পলাশের সময়কালে আরো ১.২০৭ টি ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকের লাইসেস ইস্যু করা হয়। লাইসেন্স ফি বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১৩.০০০ হাজার টাকা। সেই থেকে সাবেক মেয়র রেন্টু ও পলাশের দায়িত্ব পালনকালীন পর্যন্ত যশোর পৌরসভা কর্তৃক লাইসেন্স প্রদান করা হয় সর্বমোট ৪.৪৭৮ টি। এরপর অদ্যাবধি আর কোন লাইসেন্স পৌরসভা কর্তৃক ইস্যু করা হয়নি। 

তবে প্রতিবছর অন্তর অন্তর লাইসেন্স ৩.০০০ হাজার টাকা ফি দিয়ে লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। এ পর্যন্ত যশোর পৌরসভার বৈধ অনুমোদন প্রাপ্ত ৪.৪৭৮ টি ইজিবাইক শহরে চলাচলের অনুমতি দেওয়া আছে। এখন আমরা দেখি অনুমোদন বিহীন যশোর পৌর শহরে আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ হাজার ইজিবাইক চলাচল করছে এগুলি সম্পূর্ণ অবৈধ যান। এদের বিরুদ্ধে যশোর পৌরসভা ও স্থানীয় প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশ অতি শীঘ্রই অবৈধ বাহন ব্যাটারি চালিত রিকশার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করবে। এ অটোরিক্সার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হলে যশোর শহর যানজটমুক্ত হবে যশোরবাসী সাচ্ছন্দে রাস্তায় যানজট মুক্ত পরিবেশে চলাচল করতে পারবে। যানজট নিয়ন্ত্রণে আসবে। যশোর বাসি উপকৃত হবে। ছোটখাটো দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পাবে। 

তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদক: কায়সার হাসান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু, সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল: ০১৭৫৫৩৭৬১৭৮,০১৮১৮১২০৯০৮, ই-মেইল: [email protected], [email protected]
সম্পাদক: কায়সার হাসান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু, সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল: ০১৭৫৫৩৭৬১৭৮,০১৮১৮১২০৯০৮, ই-মেইল: [email protected], [email protected]
🔝