কাঁচামাল ও ইন্টারমেডিয়েট পণ্যেই রফতানি বাড়ানোর সম্ভাবনা
প্রকাশ: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম  (ভিজিট : )
কাঁচামাল ও ইন্টারমেডিয়েট পণ্যেই রফতানি বাড়ানোর সম্ভাবনা

কাঁচামাল ও ইন্টারমেডিয়েট পণ্যেই রফতানি বাড়ানোর সম্ভাবনা

তাজাখবর২৪.কম,অর্থ-বাণিজ্য: ফিনিশিং পণ্য নয়, কাঁচামাল ও ইন্টারমিডিয়েট পণ্যের দেশীয় শিল্পই হতে পারে রফতানি, কর্মসংস্থান ও অভ্যন্তরীণ বাজারের বড় শক্তি। পাশাপাশি রফতানিমুখী ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বা এসএমই গড়ে তোলা, প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানো সম্ভব। এলডিসি উত্তরণের সময় ঘনিয়ে আসায় অর্থনীতির বহুমুখী সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও বিনিয়োগ সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশে রয়েছে বিপুল জনসংখ্যা, বড় অভ্যন্তরীণ বাজার ও তরুণ মানবসম্পদ। ১৭ থেকে ১৮ কোটি মানুষের এই দেশে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যেও ভোগ ব্যয় ছিল ২৩ লাখ কোটি টাকা। বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে ‘লার্জ অ্যান্ড গ্রোয়িং কাস্টমার মার্কেট’ হিসেবে পরিচিত এই সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারই বৈশ্বিক অস্থিরতায় বাংলাদেশের টিকে থাকার বড় হাতিয়ার হতে পারে।তবে রফতানিবিমুখ বৈশ্বিক বাজার এবং কাঁচামাল আমদানিতে অনিশ্চয়তা অভ্যন্তরীণ বাজারকে অস্থির করে তুলছে। উচ্চমূল্যের আমদানি বাড়াচ্ছে মূল্যস্ফীতিও। তাই কাঁচামাল ও ইন্টারমেডিয়েট পণ্যের দেশীয় শিল্প গড়ে তোলাই বাংলাদেশের শিল্পায়নের বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
 
বিসিসিসিআইয়ের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল মামুন মৃধা বলেন, যতদিন পর্যন্ত প্রতিযোগী দেশগুলোর মতো বাংলাদেশ নিজেদের সক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতে না পারবে, ততদিন এসব বিষয় মাথাব্যথার কারণ হয়ে থাকবে। এ জন্য ব্যাকওয়ার্ড ও ফরওয়ার্ড লিংকেজ, কাঁচামালের দেশীয় উৎস এবং নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনার ক্ষেত্রেও কাজ করতে হবে।বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫ সালের এপ্রিল-জুন সময়ের ‘কোয়ার্টারলি রিভিউ অব রেডিমেট গার্মেন্টস’ প্রতিবেদনে দেখা যায়, তৈরি পোশাক খাতে কাঁচামাল আমদানি হয়েছে ৩ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। অর্থাৎ রফতানি আয়ের তুলনায় আমদানি করা উৎপাদন উপকরণের পরিমাণ ৪৩ দশমিক ২২ শতাংশ।
 
অন্যদিকে নিটওয়্যার খাতের কাঁচামালের ৯০ শতাংশই দেশীয়। উচ্চ মূল্যসংযোজিত পণ্যের মধ্যে ৩৫ মিলিয়ন বর্গফুট প্রক্রিয়াজাত চামড়ার উৎসও দেশীয়। তবে ফুটওয়্যার খাতে আমদানিনির্ভরতা এই সম্ভাবনাকে কিছুটা ম্লান করছে। একইভাবে পাট, বাঁশ-বেত ও কাঠ শিল্পেও রয়েছে সম্ভাবনা।এসএমইমুখী রফতানি বাড়ানোর মাধ্যমে পণ্যের বৈচিত্র্য আনা, প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে এলডিসি উত্তরণের প্রভাবও অনেকটা প্রশমিত করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
 
অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, পাটজাত পণ্যের বিশেষ করে বৈচিত্র্যময় পণ্যের বিশাল বাজার রয়েছে, যা এখনো বাংলাদেশ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি। পাশাপাশি দেশীয় খাদ্যপণ্য মান বজায় রেখে বিপুল পরিমাণে রফতানি করা সম্ভব। হালাল পণ্য রফতানিরও বড় সম্ভাবনা রয়েছে।এছাড়া অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি রফতানি বাজার সম্প্রসারণে জোর দিলে বিদেশি শ্রমবাজারে বৈচিত্র্য আনা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা সম্ভব হবে। এতে আরও শক্তিশালী হবে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদক: কায়সার হাসান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু, সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল: ০১৭৫৫৩৭৬১৭৮,০১৮১৮১২০৯০৮, ই-মেইল: [email protected], [email protected]
সম্পাদক: কায়সার হাসান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু, সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল: ০১৭৫৫৩৭৬১৭৮,০১৮১৮১২০৯০৮, ই-মেইল: [email protected], [email protected]
🔝