তাজাখবর২৪.কম,অর্থ-বাণিজ্য: গরুর মাংসের দাম কমাতে সাময়িকভাবে আমদানি শুল্ক শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে দেশটির গবাদি পশু উৎপাদনকারীরা বলছেন, এই পদক্ষেপে গবাদি পশুর পাল পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অর্থনীতিবিদদেরও ধারণা, এতে গরুর মাংসের দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি নির্বাহী আদেশে সই করবেন ট্রাম্প। এর মাধ্যমে কম আমদানি শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া গরুর মাংসের পরিমাণ ৩ লাখ মেট্রিক টন বাড়ানো হবে। এই সিদ্ধান্ত ৯০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে। ভোক্তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামের চাপে থাকায় গরুর মাংসের দাম কমানোই এর লক্ষ্য।এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছিলেন, এই পরিকল্পনার আওতায় আমদানি করা গরুর মাংস বর্তমান বাজারদরের চেয়ে ২৫ শতাংশ কম দামে বিক্রি করা হবে; এ বিষয়ে তিনি ‘প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’।
তবে পরিকল্পনার বিস্তারিত আর কিছু জানাননি ট্রাম্প। কোন কোন দেশ থেকে গরুর মাংস আমদানি করা হবে কিংবা সরবরাহকারীরা রফতানি মূল্যে ছাড় দেবে কি না-রয়টার্সের এসব প্রশ্নেরও কোনো জবাব দেয়নি হোয়াইট হাউস। ট্রাম্প বলেন, ‘এই চুক্তি আমেরিকানদের জন্য দাম কমাবে এবং একই সঙ্গে আমাদের মহান আমেরিকান গরুর পালকে পুনরায় বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দেবে।’তবে যুক্তরাষ্ট্রের খামারি ও গবাদি পশু পালনকারীদের সবচেয়ে বড় লবিং সংগঠন ন্যাশনাল ক্যাটলমেন’স বিফ অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, ট্রাম্পের পরিকল্পনা কৃষক ও খামারিদের ক্ষতিগ্রস্ত করবে। একই সঙ্গে এতে যুক্তরাষ্ট্রে গবাদি পশুর সংখ্যা বাড়ানোর আগ্রহও কমে যেতে পারে।সংগঠনটির প্রধান নির্বাহী কলিন উডাল এক বিবৃতিতে বলেন, ভোক্তাদের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাশ্রয়ী রাখার লক্ষ্য গবাদি পশু উৎপাদনকারীদেরও রয়েছে। তবে সরকারি সহায়তায় বাজারদরের চেয়ে কম দামে গরুর মাংস দিয়ে বাজার ভরে ফেলা দেশের গবাদি পশুর পাল পুনর্গঠনের সঠিক উপায় নয়।
ইউনাইটেড স্টেটস ক্যাটলমেন’স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাস্টিন টাপারও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, মার্কিন গবাদি পশু উৎপাদনকারীদের সবার শেষে রেখে আমেরিকাকে অগ্রাধিকার দেয়া সম্ভব নয়। এই পদক্ষেপ বাজারকে দুর্বল করবে এবং খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে।নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্য ভোটারদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে জনঅসন্তোষের কারণে কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে চায় রিপাবলিকানরা।দীর্ঘদিনের খরা চারণভূমি ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি পশুখাদ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়ায় খামারিরা গবাদি পশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে গরুর মাংসের দাম রেকর্ড উচ্চতার কাছাকাছি রয়েছে।
এর সঙ্গে গত বছর গবাদি পশুতে আক্রমণকারী একটি মাংসাশী পোকার উত্তর দিকে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মেক্সিকো থেকে গরু আমদানি স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে দেশটির গরুর মাংসের সরবরাহ আরও কমে যায়।গবাদি পশুর দাম ব্যাপক বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের কিছু কারখানা বন্ধ করে দিচ্ছে। ট্রাম্পের ঘোষণার পর শুক্রবার শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে গবাদি পশুর ফিউচার দর আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়।
তবে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা প্রশ্ন তুলেছেন, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা গরুর মাংসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারবে কি না। তাদের মতে, ৯০ দিনে অতিরিক্ত ৩ লাখ টন গরুর মাংস আমদানির পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের মোট চাহিদার তুলনায় খুবই কম। তাছাড়া কিছু দেশ এখনও তাদের নির্ধারিত শুল্কমুক্ত আমদানি কোটার সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছায়নি।স্বাধীন ব্যবসায়ী ড্যান নরসিনি বলেন, ‘এটা তো মহাসাগরে এক ফোঁটা জলের মতো।’ তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে গবাদি পশুর সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার মূল সমস্যার সমাধানে এই পদক্ষেপ কার্যত কোনো ভূমিকা রাখবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে এবং বাজারের কার্যক্রমের প্রয়োজন হবে।
তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮