কুয়াকাটায় বিদেশি চকলেট-আচারের নামে নকল পণ্যের ছড়াছড়ি
তাজাখবর২৪.কম,কুয়াকাটা: বাইরে বিদেশি চকলেটের আকর্ষণীয় প্যাকেট, কিন্তু ভেতরে মিলছে মুড়ির খাজা আর সন্দেশ। পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় বিদেশি ব্র্যান্ডের নামে এভাবেই চলছে নকল চকলেটের রমরমা ব্যবসা। একই সঙ্গে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) অনুমোদনহীন অস্বাস্থ্যকর আচারে সয়লাব পুরো বাজার।
সময় সংবাদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে নকল চকলেট ও আচার উৎপাদনের এক সংঘবদ্ধ চক্রের তথ্য; মিলেছে লাইসেন্সবিহীন কারখানার সন্ধানও।কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত ঘিরে গড়ে ওঠা শত শত দোকানে তাকজুড়ে সাজানো থাকে বার্মিজ, চীনা ও মালয়েশিয়ানসহ বিভিন্ন দেশের জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের চকলেট। বাইরে থেকে দেখে আসল-নকল বোঝার কোনো উপায় নেই।সৈকতসংলগ্ন একটি দোকান থেকে ‘মিক্স ওটস’ নামের একটি বিদেশি চকলেট কেনেন তিন পর্যটক বন্ধু। প্যাকেট খুলতেই দেখা যায়, স্ট্রবেরি ফ্লেভারের চকলেটের বদলে ভেতরে রয়েছে মুড়ি ও চিনি মেশানো অজ্ঞাত খাবার। এ নিয়ে বিক্রেতার সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হলেও দোকানির দাবি, ভেতরে কী আছে, তা তিনি নিজেও জানতেন না।
একই চিত্র দেখা যায় পাশের আরেকটি দোকানে। চীনের জনপ্রিয় ‘স্ট্রবেরি নুগাট ক্রিস্প’-এর আদলে তৈরি হুবহু নকল প্যাকেট খুলতেই বেরিয়ে আসে কাগজে মোড়ানো সন্দেশ ও চিনি মেশানো মুড়ি। রাখাইন মার্কেট, জিরো পয়েন্ট ও মিশ্রি পাড়াসহ কুয়াকাটার অধিকাংশ মার্কেটে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে এসব নকল পণ্য। আসল ভেবে কিনে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা।খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলছে এ ব্যবসা। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের ডিলার পরিচয়ে স্থানীয় মহিব্বুল্লাহ, সোহাগ, সুমন ও সিপন নামের চার ব্যক্তি নিজেদের বসতবাড়ি ও গোপন আস্তানায় এসব নকল পণ্য তৈরি করে বাজারজাত করছেন। মার্কেট অসাধু সিন্ডিকেটের দখলে থাকায় অনেক দোকানি বাধ্য হয়ে এসব পণ্য রাখছেন।তবে অভিযুক্তরা ডিলার পরিচয়ে বাজারে নকল পণ্য সরবরাহের কথা স্বীকার করলেও উৎপাদনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
শুধু চকলেট নয়, ‘বার্মিজ আচার’ বলে কুয়াকাটায় যা বিক্রি হচ্ছে, তার সিংহভাগই তৈরি হচ্ছে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। অনুসন্ধানে পটুয়াখালী শহরের উকিল বাড়ি রোডে একটি সাইনবোর্ডহীন টিনশেড অবৈধ কারখানার সন্ধান মেলে। সেখানে বিএসটিআই অনুমোদন, ল্যাব টেস্ট, পরিবেশ সনদ কিংবা স্যানিটারি ছাড়পত্র ছাড়াই তৈরি হচ্ছে চাটনি, আচার ও চকলেট।কারখানার অন্যতম অংশীদার শাহাদাত হোসেন জানান, বিদেশি চকলেট নকলের অভিযোগে অভিযুক্ত সোহাগ এই কারখানারও অন্যতম মালিক।
বিএসটিআই পটুয়াখালী আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জয়দেব রাজবংশী বলেন, ‘লাইসেন্সবিহীন কোনো কারখানায় পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।’এ বিষয়ে পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারেক হাওলাদার বলেন, ‘অবৈধ কারখানা ও নকল পণ্য সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যে এ ব্যবসা চললেও মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নামমাত্র জরিমানাতেই সীমাবদ্ধ থাকে অভিযান।
তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, ৬ মহারম, ১৪৪৭