ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ চালাতে দিতে হবে টাকা, হঠাৎ কেন সাবস্ক্রিপশন চালু করল মেটা
তাজাখবর২৪.কম,প্রযুক্তি ডেস্ক: নিখরচায় হাতের মুঠোয় ছিল পৃথিবী। অপরিচিত মানুষকে চেনার সুযোগ। আবার ব্যক্তিগত কথোপকথন থেকে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কথা-মিটিং। এই সবকিছুই সহজ হয়ে উঠেছিল ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের দৌলতে।একই সঙ্গে বৈশ্বিক নাগরিক হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল ইনস্টাগ্রাম। পছন্দের তারকাকে ফলো করা থেকে ছবি ও ভিডিও দেখার আনন্দ। ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই এতদিন ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করা যেত। কিন্তু এখন থেকে এই প্লাটফর্মগুলো ব্যবহার করতে চাইলে গুণতে হবে টাকা।
মার্কিন ধনকুবের মার্ক জাকারবার্গের সংস্থা মেটা এই ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের মালিক। সম্প্রতি প্ল্যাটফর্মগুলোতে ব্যবহারকারীদের জন্য সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান চালু করেছে তারা। চালু হয়েছে ফেসবুক প্লাস, ইনস্টাগ্রাম প্লাস ও হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস পরিষেবা। প্রত্যেকটি সেবা বাবদ মাসে ৯৯টাকা দিতে হচ্ছে।পাশাপাশি বিজনেসেস, ক্রিয়েটর্স এবং মেটা আই ব্যবহারকারীদের জন্য এআই চ্যাটবটও আনা হয়েছে। পাওয়ার ইউজার্সদের জন্য আপগ্রেডেট টিয়ার্স নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা চালাচ্ছে তারা।বিশ্লেষকরা বলছেন, এআই খাতে ক্রমবর্ধমান ব্যয় মেটাতে এ ধরনের পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে। জাকারবার্গ অন্যদের তুলনায় এআই জগতে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছেন। বর্তমানে তিনি সেই জায়গাটি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
টেক আর্কের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান বিশ্লেষক ফয়সাল কাওসা এনডিটিভিকে বলেন, মেটা এআই অবকাঠামোতে ১২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এই বিনিয়োগের সার্থকতা প্রমাণের জন্য তাদের একটি পূর্বাভাসযোগ্য এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ আয়ের উৎস প্রয়োজন। শুধু বিজ্ঞাপন থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়ে এটি পূরণ করা সম্ভব নয়। এআই আসার পর কন্টেন্ট খোঁজ করার এবং ব্যবহারের ধরন বদলে যাচ্ছে।তিনি বলেন, মেটা মাইক্রোসফট বা গুগলের মতো বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর আস্থা অর্জন করতে পারেনি। ফলে তাদের বাণিজ্যিক উপস্থিতিও তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। বিনামূল্যে ব্যবহারকারীদের জন্য এটি নেতিবাচক মনে হতে পারে।
ট্রুইস্ট সিকিউরিটিজ বলছে, ২০৩০ সাল নাগাদ সাবস্ক্রিপশন থেকে বছরে মেটার ২০ বিলিয়ন ডলার বাড়তি আয় হতে পারে। ডয়চে ব্যাংকের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলেছে, আগামী বছর সাবস্ক্রিপশন থেকে ১৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার আয় হতে পারে। যদিও অনেক বিশ্লেষক এমন উচ্চাভিলাষী হিসাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।মেটা বলছে, গত বছর সংস্থাটির মোট আয়ের ৯৭.৬ শতাংশ বিজ্ঞাপন থেকে এসেছিল। প্রতিষ্ঠানটি দুই দশকেও বিজ্ঞাপনের বাইরে ব্যবসা বিস্তৃত করতে পারেনি। অন্যদিকে গুগল বিজ্ঞপননির্ভর হলেও ১০ বছর আগে বিজ্ঞাপনের বাইরে যা আয় করত, মেটা গত বছরও সেই পরিমাণ আয় করতে পারেনি। এসব কারণে জাকারবার্গ এ ধরনের তৎপরতার দিকে ঝুঁকতে পারেন।
এআই বিশেষজ্ঞ এবং এআইএনসিউর্ডের সিটিও শ্রীনিবাস পদ্মনাভুনী বলেন, মেটার এ ধরনের পদক্ষেপ মূলত সাময়িক জোড়াতালি দেওয়ার শামিল। তিনি বলেন, মেটার পেইড প্লানগুলো দেখে মনে হচ্ছে তারা এআইতে নিজেদের বিশাল বিনিয়োগ তুলে আনতে চেষ্টা করছে। এজন্য কেবল নিয়মিত ব্যবহারকারীদের আরও বাড়তি কিছু সুবিধা দিয়ে টাকা আদায়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, ১ মহারম, ১৪৪৭