প্রকাশ: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৫০ পিএম (ভিজিট : )
ঘুম থেকে উঠার পর শুকিয়ে যাচ্ছে মুখ, যে সংকেত দিচ্ছে শরীর
তাজাখবর২৪.কম,ডেস্ক নিউজ: সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ শুকিয়ে থাকা, জিভ আঠালো লাগা কিংবা গলা শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিষয়টিকে সাধারণ মনে করে এড়িয়ে যান। তবে নিয়মিত এমন হলে তা শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, বিভিন্ন রোগ কিংবা দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসের কারণে মুখে লালা উৎপাদন কমে গিয়ে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
যেসব ওষুধে মুখ শুকিয়ে যেতে পারে
বিভিন্ন ধরনের ওষুধ শরীরে লালা উৎপাদনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে। ফলে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।এ ধরনের ওষুধের মধ্যে রয়েছে বিষণ্নতার ওষুধ, অ্যালার্জির ওষুধ, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের কিছু ওষুধ, পারকিনসন রোগের ওষুধ এবং শক্তিশালী ব্যথানাশক। তাই কোনো ওষুধ সেবনের পর নিয়মিত মুখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ করা যাবে না।
বয়স বাড়লেও বাড়তে পারে ঝুঁকি
বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তন আসে। যদিও বয়স সরাসরি মুখ শুকিয়ে যাওয়ার কারণ নয়, তবে বয়স্কদের মধ্যে ডায়াবেটিস, পানিশূন্যতা ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের প্রবণতা বেশি থাকে। এ ছাড়া অনেকেই একসঙ্গে একাধিক ওষুধ সেবন করেন। এসব কারণে বয়স বাড়ার সঙ্গে মুখ শুকিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
যেসব রোগের লক্ষণ হতে পারে
কিছু রোগ সরাসরি লালাগ্রন্থির কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে। এতে মুখে লালা উৎপাদন কমে যায়।ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে মুখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে ঘন ঘন প্রস্রাবের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে, যা মুখ শুকিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ।এ ছাড়া পারকিনসন রোগ, সজোগ্রেনস সিনড্রোম, এইচআইভি সংক্রমণ এবং মাথা বা ঘাড়ে আঘাতের কারণেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। ক্যানসারের চিকিৎসায় মাথা বা ঘাড়ে রেডিয়েশন থেরাপি নিলেও লালাগ্রন্থি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মুখ শুকিয়ে যেতে পারে।
দৈনন্দিন যেসব অভ্যাস দায়ী
শুধু রোগ কিংবা ওষুধ নয়, দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসের কারণেও সকালে মুখ শুকিয়ে যেতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে শরীরে পানিশূন্যতাতৈরি হয়। এ ছাড়া ঘুমের সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া, অতিরিক্ত চা-কফি পান, ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণের কারণেও মুখ শুকিয়ে যেতে পারে।ঘুমানোর ঘর অতিরিক্ত শুষ্ক হলেও এ সমস্যা বাড়তে পারে। বিশেষ করে স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি এবং ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা বা শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধার সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের মুখ শুকিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বেশি থাকতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন কখন
মাঝেমধ্যে সকালে মুখ শুকিয়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগের কারণ নাও থাকতে পারে। তবে নিয়মিত এমন হলে কিংবা দিনের বেলাতেও মুখ শুকিয়ে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।চিকিৎসক রোগীর ব্যবহৃত ওষুধ, শারীরিক অবস্থা এবং অন্যান্য উপসর্গ সম্পর্কে জানতে চাইতে পারেন। প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা, লালা উৎপাদনের পরীক্ষা কিংবা লালাগ্রন্থির স্ক্যান করার পরামর্শও দিতে পারেন।
সমস্যা কমাতে যা করবেন
সকালে মুখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা কমাতে কিছু অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। যেমন-
* প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
* ঘুমের সময় নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করুন।
* চিনি ছাড়া চুইংগাম চিবাতে পারেন।
* ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।
* রাতে অতিরিক্ত চা-কফি পান কমিয়ে দিন।
* ঘরের বাতাস শুষ্ক হলে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন।
সকালে ঘুম থেকে উঠে মুখ শুকিয়ে যাওয়াকে সব সময় সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে নিয়মিত এমন হলে এর পেছনের কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ব্যবস্থা নিলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩, ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮