সন্তান দেখাশোনায় বছরে ৯ হাজার ডলার সহায়তা, কারা পাবেন
প্রকাশ: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০৯ পিএম  (ভিজিট : )
সন্তান দেখাশোনায় বছরে ৯ হাজার ডলার সহায়তা, কারা পাবেন

সন্তান দেখাশোনায় বছরে ৯ হাজার ডলার সহায়তা, কারা পাবেন

তাজাখবর২৪.কম,আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান দেখাশোনার জন্য একজন অভিভাবককে ঘরে থাকার সুযোগ তৈরি করতে বছরে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা দেওয়ার একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে কোন পরিবার কতটা উপকৃত হবে এবং কতজন কর্মজীবী অভিভাবক চাকরি ছেড়ে সন্তান দেখাশোনায় থাকবেন, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে নানা মত রয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন ব্যয়ের পর সন্তান দেখাশোনার খরচ অনেক পরিবারের জন্য অন্যতম বড় ব্যয়। বিশেষ করে স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাকরি করলে শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র বা ব্যক্তিগত পরিচর্যাকারীর পেছনে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ হয়। তবে চাকরি ছেড়ে দেওয়া সব পরিবারের জন্য সহজ নয়। কারণ বেতনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা, অবসরকালীন সঞ্চয় ও অন্যান্য চাকরির সুবিধাও পরিবারের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কী থাকছে প্রস্তাবে
প্রস্তাব অনুযায়ী, যোগ্য পরিবার প্রতি সন্তান বছরে প্রায় ৯ হাজার ডলার পর্যন্ত শিশু পরিচর্যার সহায়তা পেতে পারে। এতে বিবাহিত দম্পতির একজন নির্দিষ্ট সময় চাকরি করবেন এবং অন্যজন সন্তানের যত্ন নিতে ঘরে থাকবেন—এমন পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। পরিবারের আয়ও নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হতে পারে।তবে কারা এই সহায়তা পাবেন, কীভাবে অর্থ দেওয়া হবে এবং এর চূড়ান্ত শর্ত কী হবে—এসব এখনো নির্ধারিত হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটি বিদ্যমান শিশু পরিচর্যা সহায়তা তহবিলের আওতা পরিবর্তনের মাধ্যমে বাস্তবায়নের কথা ভাবা হচ্ছে।

চাকরি ছেড়ে ঘরে থাকলে কতটা লাভ
মার্কিন পরিবারের জন্য বছরে ৯ হাজার ডলার সহায়তা কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে পরিবারের আয়, সন্তানের সংখ্যা এবং শিশু পরিচর্যার খরচের ওপর।
নিউজউইকের প্রতিবেদনে মার্কিন আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পূর্ণকালীন কর্মরত মায়েদের মধ্যম বার্ষিক আয় প্রায় ৬৫ হাজার ডলার। কর দেওয়ার পর অঙ্গরাজ্য ও ব্যক্তিগত কর পরিস্থিতি অনুযায়ী সেই আয় কমে প্রায় ৫২ হাজার ডলারে দাঁড়াতে পারে।অন্যদিকে, একটি শিশুর শিশু পরিচর্যার গড় বার্ষিক খরচ প্রায় ১৩ হাজার ডলার হলে, শুধু এই খরচের সঙ্গে বেতনের তুলনা করে চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া সব পরিবারের জন্য লাভজনক নাও হতে পারে। কারণ চাকরি ছাড়লে বেতনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা ও অন্যান্য সুবিধাও হারাতে হতে পারে।তবে একাধিক ছোট সন্তান থাকা পরিবারের ক্ষেত্রে হিসাব ভিন্ন হতে পারে। গেটিসবার্গ কলেজের অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক ব্রেন্ডন কাশিং-ড্যানিয়েলস নিউজউইককে বলেন, কয়েকটি ছোট সন্তান থাকা পরিবারের জন্য একজন অভিভাবকের চাকরি ছেড়ে ঘরে থাকার সিদ্ধান্ত আর্থিকভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।তিনি মিসিসিপির একটি পরিবারের উদাহরণ দেন। ধরা যাক, পরিবারের একজনের বার্ষিক আয় ৮৫ হাজার ডলার এবং অন্যজনের আয় ৫০ হাজার ডলার। তিন সন্তানের জন্য বছরে প্রায় ৩০ হাজার ডলার শিশু পরিচর্যা খরচ হলে, একজন অভিভাবক চাকরি ছেড়ে ঘরে থাকলে কর সাশ্রয়ের পাশাপাশি তিন সন্তানের জন্য মোট ২৭ হাজার ডলার সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অন্য দেশেও আছে এমন ব্যবস্থা
শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রের পরিবর্তে বাড়িতে সন্তান দেখাশোনা করা অভিভাবকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশে রয়েছে।ফিনল্যান্ডে তিন বছরের কম বয়সী সন্তানকে সরকারি দিবাযত্ন কেন্দ্রে না পাঠানো পরিবারকে মাসিক ভাতা দেওয়া হয়। মূল ভাতার পরিমাণ ৩৭৭ দশমিক ৬৮ ইউরো। অতিরিক্ত প্রতিটি সন্তানের জন্য আরও ১১৩ দশমিক ০৭ ইউরো দেওয়া হয়।হাঙ্গেরিতেও নির্দিষ্ট শর্তে সন্তানকে বাড়িতে রাখার জন্য অভিভাবকেরা সহায়তা পেতে পারেন। দুই বছর বয়স পর্যন্ত সন্তানের ক্ষেত্রে একজন অভিভাবক তার বেতনের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পেতে পারেন। এরপর সন্তান তিন বছর বয়সে পৌঁছানো পর্যন্ত মাসিক সর্বোচ্চ ২৮ হাজার ৫০০ হাঙ্গেরীয় মুদ্রা দেওয়া হতে পারে।

প্রস্তাব নিয়ে মতভেদ
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যেও একমত দেখা যায়নি। রক্ষণশীল ভাষ্যকার মাইকেল নোলস এটিকে ট্রাম্পের অন্যতম সেরা নীতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রক্ষণশীল সংগঠন টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএর মুখপাত্র অ্যান্ড্রু কোলভেটও প্রস্তাবটির প্রশংসা করেছেন।তবে সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের মতে, ৯ হাজার ডলার যথেষ্ট নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই অর্থ আরও বাড়ানোর পাশাপাশি যারা সন্তানদের বাড়িতে রেখে পড়াশোনা করান, তাদের বিভিন্ন কর থেকে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেন।অন্যদিকে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে শিক্ষা বিভাগের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অ্যাঞ্জেলা মরাবিতো প্রস্তাবটির সমালোচনা করেছেন। তার মতে, কর্মজীবী মায়েদের কাছ থেকে কর নিয়ে অন্যদের ঘরে থাকার জীবনযাপনকে অর্থায়ন করা হলে তা কর্মজীবী নারীদের জন্য নেতিবাচক হতে পারে।

সরকারি তহবিল নিয়েও প্রশ্ন
প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যমান শিশু পরিচর্যা ও উন্নয়ন তহবিলের অর্থ নতুনভাবে বণ্টন করতে হতে পারে। এই তহবিলের মাধ্যমে অঙ্গরাজ্যগুলো নিম্নআয়ের পরিবারকে শিশু পরিচর্যার খরচে সহায়তা দেয়।গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফাউন্ডেশন ফর রিসার্চ অন ইকুয়াল অপরচুনিটি বলেছে, বর্তমানে যারা এই তহবিলের সহায়তা পাচ্ছেন, তাদের জন্য বরাদ্দ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বর্তমানে শিশু পরিচর্যা সহায়তা পাওয়া প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার পরিবারের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই একক কর্মজীবী অভিভাবকের পরিবার।

শুধু বেতন নয়, আরও বিষয় বিবেচনায়
একজন অভিভাবক চাকরি ছাড়বেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত শুধু শিশু পরিচর্যার খরচ ও বেতনের তুলনার ওপর নির্ভর করে না। চাকরি ছাড়লে দীর্ঘমেয়াদে অবসরকালীন সঞ্চয় বা ৪০১(কে) সুবিধা হারানোর সম্ভাবনাও থাকে। সন্তান স্কুলে যাওয়ার বয়সে পৌঁছানোর পর আবার কর্মক্ষেত্রে ফিরতেও অনেকের সমস্যা হতে পারে।

স্বাস্থ্যবিমাও পরিবারের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো পরিবারের একজনের বেতন বেশি হলেও অন্যজনের চাকরিতে তুলনামূলক ভালো বা কম খরচের স্বাস্থ্যবিমা থাকতে পারে। ফলে কোন অভিভাবক চাকরি ছাড়বেন, তা নির্ধারণে পরিবারগুলোকে একাধিক আর্থিক ও সামাজিক বিষয় বিবেচনা করতে হবে।২০২৬ সালের মে মাসে ট্রাম্প প্রশাসন পরিবার ও শিশু পরিচর্যা নিয়ে বেশ কয়েকটি উদ্যোগের কথা জানিয়েছিল। হোয়াইট হাউস তখন শিশু পরিচর্যার সুযোগ ও সামর্থ্য বাড়ানোর পাশাপাশি ঘরে থেকে সন্তান লালন-পালন করা অভিভাবকদের জন্য আরও সুযোগ তৈরির কথা জানায়।তবে বছরে ৯ হাজার ডলার করে সহায়তার প্রস্তাবের চূড়ান্ত কাঠামো, অর্থের উৎস এবং কারা এর আওতায় পড়বেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত চূড়ান্ত হয়নি। ফলে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে কত পরিবার এতে উপকৃত হবে বা কতজন কর্মজীবী অভিভাবক চাকরি ছাড়বেন, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।সূত্র: নিউজউইক, হোয়াইট হাউস

তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩,  ১১ রবউিস সানি ১৪৪৮

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদক: কায়সার হাসান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু, সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল: ০১৭৫৫৩৭৬১৭৮,০১৮১৮১২০৯০৮, ই-মেইল: [email protected], [email protected]
সম্পাদক: কায়সার হাসান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু, সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল: ০১৭৫৫৩৭৬১৭৮,০১৮১৮১২০৯০৮, ই-মেইল: [email protected], [email protected]
🔝