বেড়েছে দাম, ছোট হয়েছে কেক-পাউরুটি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২২ এএম  (ভিজিট : )
বেড়েছে দাম, ছোট হয়েছে কেক-পাউরুটি

বেড়েছে দাম, ছোট হয়েছে কেক-পাউরুটি

তাজাখবর২৪.কম,অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক: রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকাতেই এখন বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে বেকারির তৈরি খোলা পাউরুটি (বনরুটি নামে পরিচিত) ও কেক। আর এতে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষ।সম্প্রতি হস্তচালিত বেকারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি পণ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়িয়েছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে পণ্যের দাম ঠিক রেখে ওজন কমিয়ে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এর প্রভাবে সাধারণ মানুষের খরচ বেড়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ও চায়ের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, মানভেদে ১০ টাকা দামের ছোট পাউরুটি ১৫ টাকা এবং ১০ টাকার সাধারণ কেক ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ১৫ টাকার রুটি-কেক ২০ টাকা করা হয়েছে।তবে বেশিরভাগ দোকানে পণ্যের দাম না বাড়িয়ে আগের চেয়ে ওজন ও সাইজ ছোট করে দিয়েছে বেকারিগুলো।এদিকে আকার ও ওজনভেদে হিসাব করলে, পরিবারে ব্যবহৃত বড় পাউরুটির দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। সেই সঙ্গে বেকারিতে তৈরি শুকনো বিস্কুট, চানাচুর ও বনরুটির দামও কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে।বিক্রেতারা জানান, ময়দা, চিনি, ভোজ্যতেল ও জ্বালানির দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। এরফলে সমিতির সিদ্ধান্তে দাম বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে হুট করে বেকারি পণ্যের এই মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে দিনমজুর, রিকশাচালক ও নিম্ন আয়ের চাকরিজীবীদের ওপর। তাদের দৈনিক খাদ্যতালিকার বড় একটি অংশজুড়ে থাকে চা ও বেকারি পণ্য।সেগুনবাগিচায় রিকশা চালক রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সারাদিন রিকশা চালিয়ে দুপুরের খাটুনি শেষে ৫-১০ টাকার বিস্কুট আর চা খেয়ে একটু পেটের ক্ষুধা মিটাতাম। এখন সেই বিস্কুটের দামও ৫ টাকা বেড়ে গেছে। সকালে দুটো বনরুটি আর চা খেলে আগে ২০ টাকায় হয়ে যেত, এখন ৩০ টাকা লাগে। দিনে যদি চা-নাশতাতেই অতিরিক্ত ২০-৩০ টাকা চলে যায়, তবে দিনশেষে পরিবারকে কী দেবো?

একই ধরনের দুশ্চিন্তার কথা জানালেন একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক আসমা বেগম। তিনি বলেন, বাচ্চারা সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে পাউরুটি বা বিস্কুট খেতে চায়। ভাত রান্না করার সময় থাকে না। কিন্তু এখন যে হিসাব, তাতে বাচ্চার মুখে দুটো বিস্কুট তুলে দেওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, নিত্যপণ্যের সার্বিক মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এমনিতেই তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এর ওপর বেকারি পণ্যের মতো সহজলভ্য ও জরুরি খাদ্যের দাম বাড়ায় নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে কিছু কিছু বেকারির পণ্যের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে একধরনের অরাজকতা দেখা গেছে। ঘোষিত ২০ শতাংশের পরিবর্তে তাদের পণ্যের দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। কারণ ১০ টাকার রুটি এখন ১৫ টাকা, আর ১৫ টাকারটি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। কোথাও কোথাও দাম না বাড়িয়ে কমানো হয়েছে ওজন।বাংলাদেশ ব্রেড বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন বলেন, রুটি ও কেক তৈরির কাঁচামালের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে খরচ সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়েই আমরা এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ক্ষুদ্র বেকারি আছে প্রায় সাত হাজার। এর মধ্যে রাজধানীতে রয়েছে সাত শতাধিক।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুসারে, গত আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয় ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। এমনিতে বাজারে মাছ, মাংস, সবজি, তেল, চিনি প্রভৃতি নিত্যসামগ্রীর দাম আগের তুলনায় বেশি। সেখানে রুটি, কেকের মতো বেকারি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচের পাল্লা আরও কিছুটা ভারী হয়েছে নিম্নবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষের।

তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩, ০৩ রবিউস সানি ১৪৪৮

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদক: কায়সার হাসান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু, সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল: ০১৭৫৫৩৭৬১৭৮,০১৮১৮১২০৯০৮, ই-মেইল: [email protected], [email protected]
সম্পাদক: কায়সার হাসান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু, সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল: ০১৭৫৫৩৭৬১৭৮,০১৮১৮১২০৯০৮, ই-মেইল: [email protected], [email protected]
🔝