প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৮ পিএম (ভিজিট : )
কক্সবাজারে সাংবাদিকদের তিনদিনের প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে পিআইবি মহাপরিচালক আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাংবাদিকতার দক্ষতা বাড়াতে হবে
মোহাম্মদ খোরশেদ হেলালী,তাজাখবর২৪.কম,কক্সবাজার: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সাংবাদিকতার শত্রু নয়, বরং সঠিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের মাধ্যমে এটি সাংবাদিকদের সহায়ক শক্তিতে পরিণত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ।তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং এআই সম্পর্কে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমের প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে। মানুষের তথ্য জানার চাহিদা ও নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তিনির্ভর বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বয় করেই সাংবাদিকতাকে এগিয়ে নিতে হবে।কক্সবাজার জেলার সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি), তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ৩০ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কক্সবাজারে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী।এ সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী এবং সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাফরসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।প্রধান অতিথি ফারুক ওয়াসিফ বলেন, মানুষের সুখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও জীবনের গল্পের বিশাল ভাণ্ডার হলো সংবাদপত্র। কিন্তু একটি সময়ে সংবাদজগৎ নানা কারণে বিষাক্ত ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছিল। সেই সংকটের চাপ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এর মধ্যেই নতুন বাস্তবতা হিসেবে হাজির হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি, যা সাংবাদিকতার জন্য নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি করেছে।তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে মানুষ বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে মূলধারার সংবাদমাধ্যমের প্রতি মানুষের মধ্যে এক ধরনের হতাশা ও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল, সত্যনিষ্ঠ ও প্রযুক্তি-সচেতন হতে হবে।
ফারুক ওয়াসিফ বলেন, এআই প্রযুক্তিকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। এআই সাংবাদিকতার শত্রু নয়, বরং দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করতে পারলে এটি সাংবাদিকদের শক্তিশালী সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। তবে এআই থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই না করে সংবাদে ব্যবহার করলে ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য ফ্যাক্ট চেকিংয়ের গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে।তিনি আরও বলেন, সংবাদপত্রকে একসময় রাষ্ট্র ও সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সংবাদ ও তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় মানুষ যে তথ্য জানতে চায়, তা দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে পৌঁছে দিতে আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সাংবাদিকতাকে আরও স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও জনমুখী হতে হবে।
পিআইবি মহাপরিচালক বলেন, গত ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ৮ হাজার সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের আধুনিক প্রযুক্তি, এআই, ডিজিটাল সাংবাদিকতা ও তথ্য যাচাইয়ের বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রমাণ করতে না পারলে আগামী দিনের সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে যাবে। তাই সাংবাদিকদের নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে হবে, শিখতে হবে এবং একই সঙ্গে সাংবাদিকতার নৈতিকতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে হবে।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান পিআইবি এবং প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে সাংবাদিকতার ধরন ও মাধ্যম পরিবর্তিত হচ্ছে। আগের প্রচলিত সাংবাদিকতার সঙ্গে পরিবর্তিত বিশ্বের বাস্তবতা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে সাংবাদিকদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ে সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের যুগে সাংবাদিকদের শুধু সংবাদ সংগ্রহ করলেই চলবে না; তথ্যের সত্যতা যাচাই, ভুয়া তথ্য শনাক্ত এবং নির্ভুল সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রেও দক্ষ হতে হবে। এ ধরনের প্রশিক্ষণ কক্সবাজারের সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।সভাপতির বক্তব্যে সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে নিয়মিত ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। এআই প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকদের দায়িত্বও বেড়েছে। প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে সাংবাদিকদের আরও সতর্ক থাকতে হবে।কোর্স সমন্বয় করেন জিলহাজ উদ্দিন নিপুন।অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের মধ্যে প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ করা হয়।
তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা:মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩, ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮