ঢাকার প্রধান সড়কে নিষিদ্ধ হচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা
প্রকাশ: রোববার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫০ পিএম  (ভিজিট : )
ঢাকার প্রধান সড়কে নিষিদ্ধ হচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা

ঢাকার প্রধান সড়কে নিষিদ্ধ হচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা

তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: রাজধানী ঢাকার প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত ও ইলেকট্রিক রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে সরকার।তবে অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচলের জন্য সর্বোচ্চ চার যাত্রীবাহী অটোরিকশাকে নিবন্ধন দেওয়া হবে। ছয় যাত্রী বহনকারী কোনো ই-রিকশা ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নিবন্ধনের আওতায় আসবে না।রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওসমান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের নীতিমালা একদম শেষ পর্যায়ে। এখন এটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে। ভেটিং হয়ে আসার পর যত দ্রুত সম্ভব, এক সপ্তাহ বা তার পরের সপ্তাহের মধ্যে আমরা এটি জারি করব।তিনি বলেন, আইনের আলোকে এই নীতিমালা দিয়ে দিলেই ইলেকট্রিক রিকশাগুলি একটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসবে।

বুয়েটের প্রত্যয়ন ও ফিটনেস নিয়ে কড়াকড়ি
নীতিমালায় ই-রিকশার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় এবং জেলা পর্যায়ের সরকারি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল শাখার প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করার কথা রয়েছে। পাশাপাশি ট্রাফিক বিভাগের ফিটনেস সনদ ছাড়া কোনো ই-রিকশা নিবন্ধন দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘বুয়েট, ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় এবং জেলা পর্যায়ের সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল বিভাগের প্রত্যয়ন ও ট্রাফিক বিভাগের ফিটনেস ছাড়া আমরা কাউকে রেজিস্ট্রেশন দেব না—নীতিমালায় এমন নির্দেশনা থাকবে। সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভাই মূলত এই রেজিস্ট্রেশনগুলো দেবে।’তিনি বলেন, ই-রিকশার চার্জিং পয়েন্ট নিয়েও নীতিমালায় শর্ত থাকবে। পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে ই-রিকশা চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে এবং একপর্যায়ে এটি বাধ্যতামূলক করা হবে।মীর শাহে আলম বলেন, যে গ্যারেজ বা পয়েন্টগুলোতে এগুলো রিচার্জ করা হবে, তা যাতে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে করা হয়, সে চেষ্টা আমরা করব এবং এটি পর্যায়ক্রমে বাধ্যতামূলক করা হবে।চার্জিং পয়েন্টের লাইসেন্সও নিতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা এলাকা অনুযায়ী নিজ নিজ কর্তৃপক্ষ থেকে চার্জিং পয়েন্টগুলোর লাইসেন্স নিতে হবে।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যত্রতত্র ই-রিকশা তৈরি হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব কারখানার কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাব সরকারের কাছে নেই। নীতিমালার মাধ্যমে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হবে।তিনি বলেন, ‘আমরা একটি ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে আসব যেন বুয়েট বা ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাইন অনুযায়ী কারখানাগুলো উৎপাদন করে। এসব ফ্যাক্টরিকেও সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার নিবন্ধিত কোম্পানির লাইসেন্স নিতে হবে।’রাজধানীতে এলাকাভিত্তিক চলাচলের পরিকল্পনা তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, ট্রাফিক বিভাগের একটি প্রস্তাব আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছি যে তাদের প্রস্তাবটি একেবারে অমূলক নয়। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আমরা মোট আটটি জোন (এলাকা) করব।

তিনি বলেন, ‘এই রেজিস্টার্ড ই-রিকশাগুলো জোনের আওতায় থাকবে এবং এই আটটি জোনের আটটি আলাদা রঙ নির্ধারণ করা হবে। আমরা চেষ্টা করব যেন একটি জোনের ই-রিকশা অন্য জোনে যেতে না পারে।’কোন ই-রিকশা কোন রুটে চলবে, তা সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি ই-রিকশায় জিও-ফেন্সিং ব্যবস্থাও থাকবে বলে জানান তিনি।রাজধানীর প্রধান সড়কে ই-রিকশা চলাচলের সুযোগ থাকবে না জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তবে অভ্যন্তরীণ সড়কে জোনভিত্তিক এসব যান চলাচল করতে পারবে।প্রধান সড়কে ই-রিকশা চলাচলের সুযোগ থাকবে না জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মেইন রোডে আমরা ই-রিকশা চলতে দেব না। আমরা আটটি জোন করে সেগুলোকে অভ্যন্তরীণ রোডগুলোতে চলাচলের ব্যবস্থা করে দেব।’ প্রধান সড়কে আলাদা রিকশা লেন করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকায় নিবন্ধনের জন্য ই-রিকশার যাত্রী ধারণক্ষমতা দুই ও চারজন নির্ধারণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ছয়জনের কোনো ই-রিকশাকে আমরা ঢাকা সিটি করপোরেশনের রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনব না। ওটা আমরা নীতিমালাতে বলছি।’ তবে গ্রামীণ এলাকা ও জেলা শহরের গ্রামীণ সড়কে দুই, চার ও ছয় যাত্রী বহনকারী ই-রিকশা নিবন্ধন পাবে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।ঢাকায় নিবন্ধনের শর্ত হিসেবে তিনি আরও বলেন, ই-রিকশাগুলো অবশ্যই বুয়েট বা ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যয়িত নকশা অনুযায়ী তৈরি হতে হবে। যারা এই শর্ত মানবে, তারাই কেবল নিবন্ধনের আওতায় আসবে।

তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ , ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদক: কায়সার হাসান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু, সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল: ০১৭৫৫৩৭৬১৭৮,০১৮১৮১২০৯০৮, ই-মেইল: [email protected], [email protected]
সম্পাদক: কায়সার হাসান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: এ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু, সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল: ০১৭৫৫৩৭৬১৭৮,০১৮১৮১২০৯০৮, ই-মেইল: [email protected], [email protected]
🔝