তাজাখবর২৪.কম,শিক্ষাঙ্গন ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একের পর এক সহিংসতার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। উসকানি দিলে একে অপরকে প্রতিহত করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন দুই সংগঠনের নেতারা। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব সংঘর্ষের পেছনে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন থাকতে পারে। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির যত বেশি দ্বন্দ্বে জড়াবে, ততই লাভবান হবে অন্য পক্ষ। তাই সময় থাকতে মূল রাজনৈতিক দলগুলোর হস্তক্ষেপে ঐক্য ফিরিয়ে আনতে হবে।
সম্প্রতি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়া এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মাত্র দুই বছর আগেও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে এমন বিরোধে বিস্ময় প্রকাশ করছেন অনেকে। ছাত্রশিবিরের দাবি, সহিংসতার ঘটনায় তাদের কোনো দায় নেই; বরং সংঘর্ষে জড়িয়েছে ছাত্রদল। ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ায় মানুষ নানা সংকটে রয়েছে। এসব ইস্যু থেকে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে সরাতে পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করা হচ্ছে এবং গণমাধ্যমেও ভিন্নভাবে বিষয়টি উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে ছাত্রদলও পাল্টা অভিযোগ করে বলছে, শিবিরের ‘মব’ তৈরির চেষ্টা প্রতিহত করেছে তারা। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, কোনো ক্যাম্পাসেই ইসলামী ছাত্রশিবিরকে বিশৃঙ্খলা করতে দেয়া হয়নি। তারা চেষ্টা করেছিল, ছাত্রদল তা প্রতিহত করেছে। পরে তারা জামায়াতের লোকজন নিয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে ঝামেলা করেছে। ভবিষ্যতেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ছাত্রদল প্রতিহত করবে।তবে দুই সংগঠনের শীর্ষ নেতাই সহিংসতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে উসকানি দেয়া হলে প্রতিরোধের কথাও বলেছেন। নুরুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘাত সৃষ্টি করতে আসে, তাহলে তার প্রতিক্রিয়া হবেই।
রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ছাত্রদল সবসময় মার খেয়ে যাবে, এমনটা হবে না। ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে টিকে থাকা সংগঠন হিসেবে ছাত্রদল যেকোনো হুমকি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। ছাত্রশিবির এখনো সেই অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি, যেখান থেকে ছাত্রদলকে ভয় দেখাতে পারবে।তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান এই সহিংসতার পেছনে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে সহিংসতা আরও বাড়বে এবং এতে লাভবান হবে অন্য পক্ষ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রশ্নে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। ক্যাম্পাসে সহিংসতা বাড়তে থাকলে তা আরও বড় ধরনের সংঘাতের জন্ম দিতে পারে। এতে তৃতীয় পক্ষ নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ পাবে, যা পরে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যাবে।বিশ্লেষকদের পরামর্শ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বেরও কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।