প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৩:৩০ পিএম (ভিজিট : )
টুথপেস্টের মাইক্রোপ্লাস্টিক কতটা ক্ষতিকর?
তাজাখবর২৪.কম,স্বাস্থ্য ডেস্ক: দেশের বাজারে থাকা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন-এসডোর এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে দেশজুড়েই চলছে শোরগোল। বাসাবাড়ি থেকে সুপার শপ সবখানেই আলোচনায় কতটা ক্ষতিকর হতে পারে টুথপেস্টের মাইক্রোপ্লাস্টিক।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর তবে টুথপেস্টে থাকা এই পদার্থ নিয়ে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে এই ধরনের টুথপেস্ট ব্যবহারে বাড়তি সতর্কতা দরকার।ঢাকা ডেন্টাল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও ডেন্টাল পাবলিক হেলথ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. হায়দার আলী খান বলেন, আমরা যেহেতু টুথপেস্ট খাই না। তাই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহে প্রবেশ করলে পরিপাকতন্ত্র, স্নায়ুতন্ত্র, এবং হৃদযন্ত্রসহ সবকিছুর ক্ষতি করতে পারে। তাই লক্ষ্য রাখতে হবে শিশুরা যেন কোনোভাবেই টুথপেস্ট খেয়ে না ফেলে।
এসডোও বলছে গবেষণাটি আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য নয়, বরং বাজার মনিটরিং ভোক্তা ও সরকারকে সচেতন করতেই এই গবেষণা।গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক সিদ্দিকা সুলতানা বলেন, ভোক্তা সচেতনতা তৈরি হলেই যারা উৎপাদক তারাও ইকোফ্রেন্ডলি পণ্য তৈরিতে আগ্রহী হবে।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে দীর্ঘদিন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর টুথপেস্টের মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত করেন গবেষক অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান। সময় সংবাদকে তিনি জানালেন, বৈজ্ঞানিকভাবে সক্ষম ল্যাবরেটরিতেই চলেছে পরীক্ষা।
অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের ৩০-৩৫টির বেশি আর্টিকেল সায়েন্টিফিক ফোরামে প্রকাশ পেয়েছে। যেহেতু সায়েন্টিফিক ফোরাম আমাদের গবেষণা প্রকাশ করেছে। ফলে আমরা যেই পদ্ধতিতে গবেষণাটি করেছি, সেটি যে উপযোগী তা প্রমাণিত।বিএসটিআইর মহাপরিচালক কাজী এমদাদুল হক বলছেন, টুথপেস্টে কোন কোন উপাদান ব্যবহার করা যাবে, আর কোনগুলো যাবে না—তা নিয়েও নতুন করে মানদণ্ড নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।তিনি বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডগুলো আবারও পর্যালোচনা করবো। এরপর যদি দেখা যায় আমাদের মানদণ্ডে কিছুটা পরিবর্তন আনা দরকার, সেটা আমরা করবো।
এদিকে এ বিষয়ে এক আইনজীবীর রিটের পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন হাইকোর্ট।হাইকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, বুয়েট এবং বিএসটিআইয়ের একজন করে মোট তিনজনকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু টুথপেস্টে নয় মাইক্রোপ্লাস্টিক ছড়িয়ে পড়েছে পানি-মাটি বায়ু সবখানেই। যা নিয়ে বিশ্বজুড়েই চলছে গবেষণা।
তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩, ১৫ সফর ১৪৪৭