জর্ডানের বিমান ঘাঁটিতে ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান
তাজাখবর২৪.কম,আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে জর্ডানের আল আজরাক বিমান ঘাঁটিতে ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ছোড়ার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামো ও মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে একযোগে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।ফার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার লক্ষ্য ছিল সেখানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার।
যুক্তরাষ্ট্র হামলা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা দেশটির সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আরও কঠোর হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছে আইআরজিসি।বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সন্ত্রাসী মার্কিন বাহিনী যদি আবারও আগ্রাসন চালায়, তবে অঞ্চলে থাকা অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটিও আমাদের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে নিরাপদ থাকবে না।’এর আগে জর্ডন জানিয়েছিল, তারা ইরান থেকে ছোড়া আটটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত করেছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।বুধবার (৮ জুলাই) রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়। মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে ইরানের সামরিক অবকাঠামো, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র অবস্থান এবং সামরিক লজিস্টিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, মার্কিন বাহিনী গোলেস্তান প্রদেশের আককালা শহরের বাইরে অবস্থিত আক তেকেহ খান সেতুতে সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় সেতুর আশপাশের একটি রেলপথে অন্তত দুটি বিস্ফোরণ ঘটে। তবে হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন বিমান হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হামলার তথ্য নিশ্চিত করে।ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে (আইআরআইবি) প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার বিরুদ্ধে তাদের ‘শাস্তিমূলক জবাবের’ প্রথম ধাপ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। হামলাটি আইআরজিসির নৌ ও মহাকাশ বাহিনীর যৌথ অভিযানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ঐতিহাসিক দাফন অনুষ্ঠানকে বাঁধাগ্রস্ত করা এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা। খামেনিকে আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে দাফন করার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে এরই মধ্যে সেখানে লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে।আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের ওপর হামলা চালায়, তাহলে তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযান আরও বিস্তৃত হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত অন্যান্য মার্কিন সামরিক ঘাঁটিও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মার্কিন আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে ইরানের জবাব আরও কঠোর ও ব্যাপক হবে।'