প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৯:৫৭ এএম (ভিজিট : )
উন্নত বিমান ইঞ্জিন গবেষণায় বিশ্বে চতুর্থ স্থানে ইরান
তাজাখবর২৪.কম,আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিষেধাজ্ঞা, প্রযুক্তিগত অবরোধ আর সীমিত সম্পদের মধ্যেও বিমানের ইঞ্জিন নিয়ে গবেষণায় বিশ্বে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে ইরান। অস্ট্রেলিয়ার এএসপিআই-এর প্রতিবেদনে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের পরই অবস্থান তেহরানের। জাপান, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের মতো ঐতিহ্যবাহী এয়ারোস্পেস শক্তিকেও পেছনে ফেলেছে দেশটি।অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউট বা এএসপিআই-এর ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ট্র্যাকার অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালে উন্নত বিমান ইঞ্জিন ও হাইপারসনিক প্রপালশন গবেষণায় বিশ্বে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ইরান।তালিকায় প্রথমে চীন, এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত। গবেষণাপত্রের সংখ্যা নয়, বরং বিশ্বের সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত শীর্ষ ১০ শতাংশ বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতে এই র্যাংকিং নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এটি ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিগত সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের এই অবস্থান কেবল একাডেমিক সাফল্য নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার ফল। ২০১১ সালের ‘কমপ্রিহেনসিভ সায়েন্টিফিক ম্যাপ’-এ মহাকাশ, জ্বালানি, ন্যানোপ্রযুক্তি ও প্রপালশন প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছিল।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়, শরীফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, আমিরকাবির ইউনিভার্সিটি এবং ইরান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এই গবেষণা অগ্রযাত্রার প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কম্পিউটেশনাল ফ্লুইড ডাইনামিক্স, উচ্চ তাপমাত্রার ধাতুবিদ্যা ও ইঞ্জিন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য দক্ষতা অর্জন করেছে দেশটি।তবে এএসপিআই স্পষ্টভাবে বলছে, গবেষণায় এগিয়ে থাকা মানেই বাণিজ্যিক উৎপাদনে নেতৃত্ব নয়। বোয়িং বা এয়ারবাসের মতো যাত্রীবাহী বিমান তৈরি করতে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল, আর্থিক নেটওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সনদ প্রয়োজন, যা নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের নাগালের বাইরে। তাই অর্জিত জ্ঞানকে তেহরান মূলত সামরিক খাতে কাজে লাগাচ্ছে। দেশটির ওজ জেট ইঞ্জিন, জাহেশ-৭০০ টার্বোফ্যান এবং দীর্ঘপাল্লার ড্রোন প্রকল্পগুলো সেই কৌশলেরই প্রতিফলন।
হাইপারসনিক প্রযুক্তিতেও নিজেদের অগ্রগতির দাবি করেছে ইরান। ফাত্তাহ ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, সিরামিক আবরণ এবং উচ্চগতির দহন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা এই সক্ষমতার অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।এএসপিআই-এর ২০২৫ সালের হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, ৭৪টি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ক্ষেত্রের মধ্যে অন্তত ৮টিতে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ দেশের তালিকায় রয়েছে ইরান। বিশ্লেষকদের মতে, সামগ্রিকভাবে প্রযুক্তিক্ষেত্রে সুপারপাওয়ার না হলেও নির্বাচিত কৌশলগত খাতে গবেষণা সক্ষমতা গড়ে তুলে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাফল্য অর্জন করেছে দেশটি।
তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, ২ মহারম, ১৪৪৭