বেগমগঞ্জে সন্ত্রাসী হামলা বাবাকে রক্ষা করতে গিয়ে পুএ নিরব চুরিকাহত
এম জি বাবর,তাজাখবর২৪.কম, নোয়াখালী: নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকার বাসিন্দা যুবক নিরব রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে একাধিকবার সন্ত্রাসী হামলায় সে ও তার বাবাকে মারাত্বক আহত করে সন্ত্রাসীরা|
বিবরণ প্রকাশ: চৌমুহনী পৌর এলাকার ০৮ নং ওয়ার্ড পৌর হাজীপুরের শফিকুল আলমের পুত্র চৌমুহনী এস এ কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র রফিকুল আলম নিরব সুন্দর পরিবেশে ভালো শিক্ষার্থী হিসেবে এলাকায় বেশ সুনাম রয়েছে| নিরবকে দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় একদল চাঁদাবাজ, মাস্তান, মাদকসেবী যুবকরা নিরবকে তাদের সহপাঠী তৈরীর বিভিন্ন চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে, তার পিছু নেয় এবং তার বিরুদ্ধে নানারকম ষড়যন্ত্রের জ্বাল বুনতে থাকে নিরব এসব থেকে দূরে থেকে লেখা পড়ায় মনোনিবেশে ব্যস্ত থাকে| তার ভদ্র আচরণ, সামাজিক পরিবেশ দেখে স্থানীয় রাজনীতিবীদ এলডিপির নেতৃবন্দ তার সাথে সর্ম্পক গড়ে তোলে বিভিন্ন সময়ে মিছিল মিটিং এ নিয়ে যেতেন | তার সাংগঠনিক সফলতার নজিরে এলডিপির নেতৃবৃন্দ ২১ জুলাই ২০১৬ জেলা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করেন|
এটিই তার কাল হয়ে দাড়ায় | এলডিপিতে যোগদান করার কিছুদিন পর তৎকালীন ফ্যাসিবাদী আওয়ামীলীগের গডফাদারদের নজরে পড়ে তার তার পিছনে লেগে নানা ভাবে প্রতিহিংসার রোষানলে ফেলতে চেষ্টা করে| তার পারিবারিক সূত্রে জানা যায় নিরবের দাদা মরহুম হাজী আবদুল মন্নান মিয়া চৌমুহনী বাজারের একজন প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ী ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা ছিলেন| নিরবে বাবা শফিকুল আলম ব্যবসায়ী ছিলেন সম্ভ্রান্ত পরিবারকে হেনস্তা করার লক্ষ্যে আওয়ামী চক্র নানা কৌশল অবলম্বন করে অবশেষে ২০১৮ সালের ২৬ শে মার্চ নিরব ও তার বাবা শফিকুর আলম বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে চৌমুহনী শহীদ মিনার চত্বরে এলডিপির একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিল| ঐ অনুষ্ঠানে ফ্যাসীবাদ ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী বক্তব্য রাখে নিরব | অনুষ্ঠান শেষে বাড়ী ফেরার পথে চৌমুহনী পৌরসভার ০৪ নং ওয়ার্ডে ফ্যাসীবাদী নেতা কাউন্সিলর মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌমুহনী সরকারী এস এ কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন হুমায়ুনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী অস্ত্রের মহড়া দিয়ে হটাৎ পিতা পুত্রের পথ আগলে ধরে জাহাঙ্গীর আলম তাকে বিদ্রুপ করে বলে তুই আমাদের পূর্ববর্তী সতর্ক বানী উপেক্ষ করেছিস আজ তোর রক্ষে নেই এরপর হুমায়ুন ও সঙ্গীরা প্রথমে মারধর করে ছুরি দিয়ে আঘাত করে| পিতাকে রক্ষা করতে গিয়ে নিরব আপ্রাণ চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়| এসময় তাদের চিৎকারে ককেজন পথচারী ও নিরবের বাল্য বন্ধু রফিকুল হাসান তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর হুমায়ুন সহ অন্যরা হুমকি দিয়ে বলতে থাকে তোর এলডিপির কার্যক্রম বন্ধ করে প্রাণে বাঁচতে হলে আওয়ামীলীগে যোগদান করবি | নচেৎ তোর ও তোর পরিবারের অনেকের প্রাণে রক্ষা থাকবে না |
এরপর নিরবের পিতা শফিকুর আলম কে সিটি হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেড এ ভর্তি করা হয়| নিরবকে ও একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়| এ আঘাতের ফলে নিরবের বাম হাতের আঙ্গুলে ততখনাৎ ভাবে নয়টি সেলাই করা হয়| এবং চোখে স্ক্রাপ, ক্ষত এবং একটি ধাক্কার দীর্ঘস্থায়ী ব্যাথা নিয়ে পরদিন নিরব তার বাবাকে সাথে নিয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ঘটনার বিবরণ দিয়ে চিহ্নিত আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ মামলা রজু করতে অনীহা প্রকাশ করে এবং দেখবো বলে জানায়| ফলে নিরব ও তার পরিবারবর্গ নিরাপত্তাহীনতায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে| সন্ত্রাসীরা এখনো থেমে নেই যে কোন সময়ে মারাত্বক হামলা ও প্রাণ হানীর মত ঘটনা গটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে |
তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ১৭ জিলহ্বজ, ১৪৪৭