প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৮:১৪ পিএম (ভিজিট : )
ফাইল ছবি
তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। এ লক্ষ্যপূরণে ফ্যামিলি কার্ড খাতে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে নতুন বাজেটে। সেইসঙ্গে ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে এই প্রস্তাব রাখেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির লক্ষ্য হলো জীবনচক্রভিত্তিক সুরক্ষার মাধ্যমে দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এই কাঠামোর মূল দর্শন অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও স্বনির্ভরতা অর্জন।
অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার গঠনের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারের ‘সিগনেচার’ এই কর্মসূচি এরই মধ্যে পাইলট আকারে চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে পরিবারের প্রধান নারী মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। ২০৩০ সালের মধ্যে এই কর্মসূচি দেশব্যাপী সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীকে এই কার্ডের আওতায় আনতে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি চলমান বয়স্ক ভাতা এবং বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের ভাতা কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।এছাড়া, ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ট্রেন ভ্রমণে শতভাগ ফ্রি বা বিনামূল্যে যাতায়াত এবং মেট্রোরেল ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে।
সামাজিক সুরক্ষার আওতা বাড়িয়ে এবার প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা ৩৮ লাখে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে মাসিক ভাতা হবে ১ হাজার টাকা। এছাড়া, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ভাতাভোগীর সংখ্যা ১ লাখে উন্নীত করার পাশাপাশি শিক্ষার স্তরভেদে মাসিক ভাতা ১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একইসঙ্গে মা-শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১৮ লাখ ৯৫ হাজার মা ও শিশুকে প্রতি মাসে ৮৫০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে।অর্থমন্ত্রী আরও জানান, ক্যানসারসহ ছয়টি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এককালীন আর্থিক সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে নতুন বাজেটে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বাজেট উত্থাপন শুরু করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। তার আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। পাঁচ দশকের বেশি সময়ের এই যাত্রায় দেশের অর্থনীতির পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে উন্নয়ন কর্মসূচি ও রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের আকারও।গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট এটি। বিশাল নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রতিগুলো পূরণে দেশের ইতিহাসে এবার সবচেয়ে বড় বাজেট তৈরি করেছে সরকার। টাকার অঙ্কে প্রস্তাবিত এ বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।
বিরাট এ বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ সংগ্রহ করা হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সরকার।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।নতুন এ বাজেটের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ পথে এগিয়ে নেওয়া।
তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ২৪ জিলহ্বজ, ১৪৪৭