তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে সীমান্তে অবৈধ পুশ-ইনের বিষয়সহ সব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সব অবৈধ পুশইনের চেষ্টাকে বাধা দেব, ইনশাআল্লাহ। তবে এসব বিষয় প্রাথমিকভাবে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা প্রয়োজন।রোববার (৭ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
আগামীকাল সোমবার থেকে ভারতের নয়াদিল্লিতে শুরু হতে যাওয়া চার দিনব্যাপী বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে অবৈধ পুশ-ইনের বিষয়সহ সব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সেখানে আলোচনা হবে।তিনি বলেন, ডিজি লেভেলের মিটিংটা একবার বাংলাদেশে হয়, আরেকবার ভারতে হয়। এবার আমাদের যাওয়ার পালা। সেখানে সব বিষয়ে আলোচনা হবে। আমরা কূটনৈতিক চ্যানেলে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছি এবং আমাদের বর্ডার গার্ড সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা সব অবৈধ পুশিংয়ের চেষ্টাকে বাধা দেব, ইনশাআল্লাহ। তবে এসব বিষয় প্রাথমিকভাবে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা প্রয়োজন।এ সময় পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার বহুল আলোচিত মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানি আইনানুগভাবে দ্রুত এগিয়ে আনতে সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
এর আগে ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বহুল আলোচিত রামিসা হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। মাত্র ১৭ দিনের বিচারিক কার্যক্রম শেষে মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরাও এই বিষয়টা মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনব এবং অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসকে বলব, যাতে রামিসা হত্যার এ ডেথ রেফারেন্স শুনানিটা আইনানুগভাবে কিছুটা এগিয়ে আনা যায়।’মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ডেথ রেফারেন্স শুনানির পর যদি মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে, তাহলে কার্যকর করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিলম্ব হবে না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার নৃশংস ঘটনায় সারা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ এবং চার্জশিট আদালতে দাখিল করতে সক্ষম হয়।’তিনি বলেন, ‘রামিসার নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল, জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আমরা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে দ্রুততার সঙ্গে ডিএনএ টেস্ট করে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এবং চার্জশিট কোর্টে দাখিল করেছি। খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে এই বিচার কার্য পরিচালনায় সহযোগিতা করেছি।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিচার করেছেন আদালত। ঈদের ছুটির মধ্যেও আদালত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। আদালত তাদের ছুটি বাতিল করে কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। তারা রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সেটা করেছেন।তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে এবং পুলিশের গ্রেফতার ও তদন্ত কার্যক্রমের ইতিহাসে এটা একটি মাইলফলক। এভাবেই আমরা ইনশাআল্লাহ জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আশা করি, আমরা সবার সহযোগিতা পাব।’
গত ১৯ মে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।এ নৃশংস ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। গ্রেফতারের পর প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: রবিবার, ৭ জুন ২০২৬, ২৪শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ২০ জিলহ্বজ, ১৪৪৭