প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪১ এএম (ভিজিট : )
মানিকগঞ্জে ইটভাটায় পুড়ানো হচ্ছে কৃষিজমির
দেওয়ান মিজানুর রহমান,তাজাখবর২৪.কম,মানিকগঞ্জ: দক্ষ জনবল সংকট ও সুষ্ঠু তদারকির অভাবে " ইট প্রস্তত ও ভাটা স্থাপনা (নিয়ন্ত্রণ)আইন" লঙ্ঘন করে মানিকগঞ্জে ইটভাটায় কৃষি জমির "ফার্টাইল সয়েল" পুড়ানো হচ্ছে।অভিযোগ উঠেছে যদিও ইটভাটাগুলো জিগজ্যাগ পদ্ধতিতে নির্মাণ করা হয়েছে কিন্ত দুইএকরের বেশিজমি ব্যবহার করছে ইটভাটামালিকরা।আরো অভিযোগ উঠেছে,ধূলাবালির অসহৃ যন্ত্রণায় এলাকার জনগণ মুমূর্ষু অবস্থা,ড্রাইভিং লাইসেন্স বিহীন অদক্ষ ড্রাইভার দিয়ে ফিটনেস বিহীন মোটরগাড়ি দিয়ে মাটি বহন করাচ্ছে মালিকপক্ষ।আবাদি জমি ধ্বংস, রাস্তা ঘাটের বেহাল দশা ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখেএবিষয়ে সংশ্লিষ্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নীরব ভূমিকা পালন করছে।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শাহজাহান সিরাজের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি মুঠোফোন রিসিভ করেননি।
সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে,ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি হিসেবে মান মাত্রায় অতিরিক্ত সালফার , অ্যাশ, মার্কারি বা অনুরূপ উপাদান সম্মিলিত কয়লা ব্যবহার করছে ইটভাটামালিকরা।মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় অবৈধ ইটভাটাগুলোর মধ্যে মেসার্স রোজিনা ব্রিকস, মেসার্স গ্রামীণ ব্রিকস ইটভাটায় দেখা গেছে কৃষি জমির উর্বর মাটির বিশাল উঁচু স্তুপ।অভিযোগ উঠেছে, মেসার্স আব্দুল্লাহ আল সোবাহান ব্রিকসের নাম পরিবর্তন না করে মিতরা বাইতরা এলাকায় এসটিসি ও ডায়না ব্রিকসের নাম পরিবর্তন না করে এমবিসিডি ব্রিকস পরিচালিত হচ্ছে এবং পাশেই মেসার্স ফিরোজ ব্রিকস স্টার নামে এক ইটভাটা পরিচালিত হচ্ছেন । দিঘী ইউনিয়নের গজারি চকে মেসার্স এ রহমান এন্ড কোং ও আটিগ্রাম ইউনিয়নের ভগবানপুর চকের মেসার্স হাজী ব্রিকস কৃষকের গলার কাঁটা । ঘিওর উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকার সোহাগ ব্রিকস ইন্ডাস্ট্রিজ ইটভাটায় ঐ একই দৃশ্য দেখা গেছে। মানিকগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অবজারভেশন করে আরো দেখা গেছে,ঢাকা আরিচা মহাসড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে বেশিরভাগ ইটভাটা তিন ফসলি কৃষি জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মানিকগঞ্জ জেলার খালবিল, নদনদী, কৃষিজমি ও গ্রামীণ রাস্তাঘাট রক্ষা, জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে অবৈধ ইটভাটার অবকাঠামো ভেঙ্গে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে ভাটামালিকদের বিরুদ্ধে পরিবেশ এনফোর্সমেন্ট এবং মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম সক্রিয় রাখার দাবি জানান তাঁরা। তাঁরা আরো জানান , গ্রিডি কৃষকদের অতিরিক্ত মুনাফার লোভ দেখিয়ে ভাটামালিকেরা মাটিদস্যুদের সাথে আঁতাত করে ইটভাটার কাঁচামাল সংগ্রহ করছে তিন ফসলি কৃষিজমি থেকে।
এ কারণে দেশের কৃষিজমি ধ্বংস হচ্ছে এবং জীব বৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। তিক্ত অভিজ্ঞতায় সিংগাইর উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ বলেন, সিংগাইর উপজেলার ভূমি ও মাটিদস্যুরা এমন ভাবে কৃষি জমির উর্বর মাটি কেটে নিচ্ছে ভবিষ্যতে আবাদি জমি ঊষর জমিতে পরিনত হবে। তাঁরা আরো জানান , মাটিদস্যু সিন্ডিকেটেরা দিনের পূর্বভাগ থেকে পররাত্র পর্যন্ত দশ চাকার ড্রামট্রাক, ট্রলি ও কাঁকড়া ট্রলি দিয়ে মাটি বহন করে গ্রামীণ রাস্তাঘাটের সর্বনাশ করছে এতে সড়ক দুর্ঘটনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। সুইন্ডলার মাটি দস্যুদের বিরুদ্ধে এলাকায় কেউ টুঁশব্দটিও করার সাহস পাচ্ছে না। গণমাধ্যম কর্মীরা জানান,মাটি খনন ও ইটভাটায় কোন জার্নালিস্ট তদন্ত করতে গেলে তাঁকে চাঁদাবাজি মামলার ভয় দেখিয়ে ইটভাটা থেকে বের করে দেয় একঝাঁক কিশোর গ্যাংরা।মানিকগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ জেলায় একশত সাতাশটি জিগজ্যাগ ইটভাটা আছে। কয়েকটি ইটভাটা বন্ধ এবং তেইশটি ইটভাটা অবৈধ বলে সনাক্ত করেন পরিবেশ অধিদপ্তর।সম্প্রতি পাঁচটি অবৈধ ইটভাটার চুঙ্গি ভেঙ্গে ফেলে পরিবেশ অধিদপ্তর। মানিকগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জরুরি ভিত্তিতে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ব্যবস্থা নেয় হবে। তিনি আরো বলেন , অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ ও জরিমানার বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক ব্যবস্থা নিবেন। আমারা অবৈধ ইটভাটার তালিকা জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে পাঠিয়েছি। এপর্যন্ত পাঁচটি অবৈধ ইটভাটার চুঙ্গি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। ভাটা মালিকরদের জরিমানাও করা হয়েছে। সমাজের বিশিষ্ট জনেরা বলেন, নদী ও খাল খনন প্রথা অমান্য করে কৃষিজমি ধ্বংস এবং ইজারা বহির্ভূত স্থান থেকে নদীর বালু লুটপাট হরিলুট করে মানিকগঞ্জ জেলার মানচিত্র গিলে খাচ্ছে একটি সিন্ডিকেট। তাঁরা আরো বলেন , যাঁরা অবৈধ পন্থায় কৃষিজমির উর্বর মাটি ইটভাটায় বিক্রি করে কৃষিজমি ধ্বংস করছে তাঁরা সমাজের ধান্দাবাজ ও বহুবিতর্কিত ব্যক্তি।
উল্লেখ্য, গ্লোবাল ফুটপ্রিন্ট নেটওয়ার্কের এক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৭০ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৪ দশকের ব্যবধানে পৃথিবীর জীব বৈচিত্র্যে মারাত্মক রকমের ধস নেমেছে। এপর্যন্ত ৩ হাজার ৩০৯ প্রজাতির বিভিন্ন জীবজন্তুর মধ্যে ১ হাজার ২৩৫ টি প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এ ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৭ ভাগ। বর্তমানে প্রতি বছর জীব বৈচিত্র্য হারানোর প্রবণতা থেকে ধারণা করা হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫১ ভাগ জীববৈচিত্র্য হারিয়ে যাবে। কৃষিজমি , বনভূমি ও সাগর সম্পদের উপর অতি নিকটে পৌঁছে গেছে, খাদ্য, পানি ও জ্বালানি সংকট।
তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬, ২০শে ফাল্গুন ১৪৩২, ১৫ রমজান, ১৪৪৭