প্রকাশ: বুধবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৪১ এএম (ভিজিট : )
ছবি: সংগৃহীত
তাজাখবর২৪.কম,ইসলামিক ডেস্ক: রিজিক আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নির্ধারিত একটি নেয়ামত। মানুষ চেষ্টা করে, আর আল্লাহ সেই চেষ্টায় বরকত ও ফল দান করেন। কুরআন ও সুন্নাহতে রিজিক বৃদ্ধি, কষ্ট দূরীকরণ এবং কর্মসংস্থানের বিষয়ে বহু নির্দেশনা রয়েছে। নিচে সেসব থেকে নির্বাচিত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ আমল তুলে ধরা হলো— যেগুলো নিয়মিত করলে ইনশাআল্লাহ রিজিক ও কর্মে প্রশস্ততা আসবেই।
১. গুরুত্ব ও মহব্বত নিয়ে জামাতের সাথে নামাজ আদায়, নামাজ রিজিকের মুল চাবিকাঠি। বিশেষ করে জামাতে নামাজ, যেটি ব্যক্তিগত নামাজের চেয়ে ২৭ গুণ বেশি নেকি এনে দেয়। মানুষ যখন নামাজকে গুরুত্ব দেয়, আল্লাহ তার কাজে বরকত দান করেন।
২. নিয়মিত সালাতুল হাজত আদায়, যা চাওয়া হয়, রিজিক, কাজ, চাকরি বা প্রয়োজন, সালাতুল হাজত আদায়ের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর কাছে সরাসরি সাহায্য প্রার্থনা করে। এটি দুআ কবুলের অন্যতম মাধ্যম।
৩. বড় কোনো গুনাহের বদ অভ্যাস থাকলে তাওবা করা, রিজিক থেকে বঞ্চিত হওয়ার অন্যতম কারণ হলো গুনাহ। তাই কারও মধ্যে কোনো বড় গুনাহ বা হারাম অভ্যাস থাকলে, তাওবা করা অতি জরুরি। তাওবা রিজিকের দরজা খুলে দেয়।
৪. বেশি বেশি ইস্তেগফার করা, আল্লাহ তাআলা বলেন,
তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও, তিনি তোমাদের ওপর আসমান থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং সম্পদ, ছেলে-সন্তান বৃদ্ধি করবেন। ইস্তেগফার রিজিক, সুখ, সচ্ছলতা ও শান্তির কারণ। (সুরা নূহ, আয়াত: ১০-১২)
৫. মা-বাবার সেবা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, মা-বাবা মামলা করা, তাদের দোয়া নেওয়া এবং আত্মীয়স্বজনের খোঁজ-খবর রাখা রিজিক বৃদ্ধির অন্যতম মাধ্যম।
হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন,
যে ব্যক্তি রিজিকের প্রশস্ততা ও জীবনের বরকত চায়, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে। (আল আদাবুল মুফরাদ ২৮/৫৬)
৬. হালাল রিজিকের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া, হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন, হালাল রুজির জন্য শ্রম করা ইবাদত। হালাল উপার্জন রিজিকে বরকত এনে দেয় এবং হারাম উপার্জন বরকত নষ্ট করে দেয়। (মুসলিম: ১০৪০)
৭. রিজিকের জন্য কুরআনের দোয়া পড়া, নবী মুসা (আ.)-এর দোয়া: رَبِّ إِنِّی لِمَاۤ أَنزَلۡتَ إِلَیَّ مِنۡ خَیۡرࣲ فَقِیرࣱ অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার জন্য যে কল্যাণ ও রিজিক পাঠাবেন— আমি তার মুখাপেক্ষী। (সূরা কাসাস, ২৪) এই দোয়াটি রিজিকের দরজা খুলে দেওয়ার জন্য অত্যন্ত উপকারী দোয়া।
৮. ওজুর পরে রিজিক বৃদ্ধির দোয়া করা, ওজুর পরে যে দোয়া পড়া হয়, তাতে রিজিকের বরকত চাওয়া আছে, হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন,
اللَّهُمَّ اغْفِرْلِيْ ذَنْبِيْ وَوَسِّعْ لِيْ فِيْ دَارِيْ وَباَرِكْ لِيْ فِيْ رِزْقِيْ হে আল্লাহ! আমার গুনাহ মাফ করুন, আমার ঘর-বাড়িতে প্রশস্ততা দিন এবং আমার রিজিকে বরকত দান করুন। (মুসনাদ আহমাদ ৪৫০৬)
৯. দুই সিজদার মাঝের দোয়ায় রিজিক চাওয়া, হাদিসে এসেছে নবীজি (সা.) দুই সিজদার মাঝে যেসব দোয়া পড়তেন, তার মধ্যে রিজিকের দোয়াও রয়েছে,… وَارْزُقْنِيْ …
এটি নামাজে নিয়মিত উচ্চারিত দোয়া, তাই রিজিকের জন্য এটি বিশেষ বরকতময়।
১০. প্রতিদিন মাগরিবের পর সূরা ওয়াকিয়া তিলাওয়াত করা, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সূরা ওয়াকিয়া তিলাওয়াত করবে— তাকে দারিদ্র কখনো স্পর্শ করবে না। (বাইহাকি, শু‘আবুল ঈমান: ২৪৯৮)
সূরা ওয়াকিয়া রিজিকের সুরক্ষা এবং দারিদ্রতা থেকে নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত পরীক্ষিত আমল। কাজেই রিজিক শুধু টাকা-পয়সা নয়; মানসিক শান্তি, স্বাস্থ্য, পরিবারে সুখ এবং জীবনে বরকত, সবই রিজিকের অংশ। আমরা যদি কথাগুলো মেনে চলতে পারি আমাদের জীবন হবে সমৃদ্ধ ও বরকতময়। মহান আল্লাহ আমাদেরকে সেই তাওফিক দান করুন, আমন!
তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৮ই অগ্রহায়ণ ১৪৩২,১১ জুমাদাস সানী, ১৪৪৭