আপলোড তারিখ : 2018-01-10
শৈত্য প্রবাহে বিপর্যস্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের জনজীবন
শৈত্য প্রবাহে বিপর্যস্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের জনজীবনরফিকুল ইসলাম,তাজাখবর২৪.কম,চাঁপাইনবাবগঞ্জ: টানা শৈত্য প্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। হাড় কাঁপানো ঠান্ডার সাথে কনকনে শীতল বায়ু প্রবাহ, কুয়াশা আর সূর্যের ক্ষণস্থায়ী অবস্থান পরিস্থিতিকে ভযাবহ করে তুলেছে। কুয়াশার চাদর ভেদ করে সূর্য উঠতে উঠতে দুপুর। কিন্তু ঘোলাটে সূর্যের তাপে নেই প্রখরতা। ফলে আবহওয়া উঞ্চ হচ্ছেনা কিছুতেই। হঠাৎ পড়া এমন ঠান্ডায় রোগী, শিশু, বৃদ্ধ আর দিনখাটা মানুষ পড়েছে বেশী বেকায়দায়। জেলার পাঁচ উপজেলা ঘিরে রয়েছে বিস্তৃত পদ্মা, মহানন্দাসহ চার নদী। শীতের তীব্রতা বেশী নদীতীর ও চরাঞ্চলে।  অপরদিকে, জেলার বিস্তীর্ণ বরেন্দ্রাঞ্চল অপেক্ষাকৃত ফাঁকা হওয়ায় সেখানে বায়ু প্রবাহের গতি বেশী। ফলে শীতের ছোবল সেখানেও মারাত্মক। সবমিলিয়ে চলতি শীতে জেলার কোথাও স্বস্তিতে নেই মানুষ। নাভিশ্বাস অবস্থা মানুষের, বিশেষ করে হতদরিদ্রদের। নিতান্তই দরকার ছাড়া ঘরের বাহির হচ্ছেন না কেউ। সন্ধ্যা হতে না হতে ফাঁকা হয়ে পড়ছে শহরগুলির সড়কও। যানবাহন চলাচলও কমে গেছে। জেলা শহর কেন্দ্রের ব্যস্ততম উদয়ন মোড়ের নৈশপ্রহরী সদর উপজেলার আতাহারের শফিকুল ইসলাম (৬৬) বলেন, ‘রাইত নটার পড়ে মোড় একবারে কানা(ফাঁকা)। এবছর জার (ঠান্ডা) মেলা (অনেক) বেশী। ঠারে (ঠান্ডায়) গতরে (শরীরে) কাপড় দিয়াও কুল পাইনা। ভোররাইত থেকে কুয়াশা পড়ে বেশী, কিছুই চোখে ঠাহর পাই না (দেখা যায়না)’। এদিকে এবছর শীতবস্ত্র বিতরণের পরিমান অনেক কম। ফলে ছিন্নমুল মানুষেরা পড়েছেন বিপদে। জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হাসান বলেন, জেলায় এ মৌসুমে এপর্যন্ত ৩২ হাজার পিস কম্বল বিতরণ হয়েছে। মঙ্গলবার আরও ৫ হাজার পিস আসার কথা জানা গেছে। প্রয়োজনে আরও চাহিদা পাঠানো হবে। রোববার দিবাগত রাত দেড়টায় (সোমবার) ভাসমান মানুষদের আশ্রয়স্থল চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে ষ্টেশনের প্লাটফর্ম ঘুরে দেখা মেলে ২৫/৩০ জন ভাসমান মানুষ। যার যা আছে তাই শরীরে চাপিয়ে কুকড়ী-মুকড়ী হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছেন। সহকারী ষ্টেশন মাষ্টার ওবাইদুল্লাহ জানান,নিরাপত্তার কারনে পুলিশ এখন আর ভাসমানদের প্লাটফর্মে থাকতে দেয়না। নইলে আরও বেশী লোক খাকত এখানে। এ অবস্থায় ফুটপাতের পুরোনো গরম কাপড়ের দোকানগুলিতে ভীড় বেড়েছে। শহরের হুজরাপুরের পুরোনো গরম কাপড় বিক্রেতা শংকর (৫০) বলেন,‘এ বছর ঠান্ডাও যেমন ম্যালা (বেশী), বিক্রিও তেমন মেলা’। জেলা শহরের মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মারুফুল হক বলেন, তীব্র শীতে শিশুদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি কিছু কমে গেছে। সিভিল সার্জন সায়ফুল ফেরদৌস বলেন, বিশেষ করে শিশুদের সকালে ও সন্ধ্যায় সাবধানে রাখতে হবে। ওই সময় দুটিতে ঠান্ডার আঘাত হয় বেশী। বুকের দুধ খাওয়ানো মা’দের পানি কিছুটা গরম করে খেতে হবে। নাক দিয়ে যেন ঠান্ডা বাতাস ঢুকতে না পারে সেদিকে সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে। তিনি জেলায় শীতজনিত ডায়ারিয়া,নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের মত রোগের প্রকোপ বেড়ে যাবার কথা জানান। সরকারী হাসপাতালগুলিতে রোগী বাড়লেও ঔষধসহ অনান্য প্রস্তুতি যথেষ্ট রয়েছে বলেও জানান তিনি। গত কয়েকদিনে পাশের জেলা রাজশাহীর আবহওয়া দপ্তরের তথ্যে তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রির কম বলা হচ্ছে। কিন্তু চাঁপাইনবাবগঞ্জে আবহাওয়া কেন্দ্র না থাকায় সঠিক তথ্য পাওয়া যায়না। তবে রাজশাহী থেকে আরও ৫০ কি.মি উত্তর-পশ্চিমে অবস্থানের কারণে শীতের তীব্রতা রাজশাহীর চাইতেও চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেশী বলে সবসময় ধারণা করা হয়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুরুল হুদা বলেন, তাঁরা জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রোববার ৭ ডিগ্রি, সোমবার ৭ডিগ্রী ও মঙ্গলবার ৮ডিগ্রী পেয়েছেন (ম্যানুয়ালী)। প্রকৃত তাপমাত্রা আরও কম হতে পারে। রোববার  ও সোমবার রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৫.৩ ডিগ্রি। উপপরিচালক বলেন, শৈত্যপ্রবাহ একধরনের প্রাকৃতিক দূর্যোগ। অধিক কুয়াশা আলুসহ বিভিন্ন ফসলে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। সেক্ষেত্রে ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করতে হবে। যেসব ধানচারা এখনও রোপণ হয়নি, সেগুলি তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লে রোপণ করা ভাল বলেও পরামর্শ দেন তিনি। হটাৎ পড়া তীব্র ঠান্ডায় শুধু মানুষ নয়.জবুথবু অবস্থা পশুপাখিরও। বিশেষ করে রাতটা তাদের কাটছে অনেক কষ্টে।


তাজাখবর২৪.কম: ঢাকা বুধবার ১০ জানুয়ারি ২০১৮, ২৭ পৌষ ১৪২৪


এই বিভাগের আরো সংবাদ

advertisement

 




                                     সম্পাদক: কায়সার হাসান
                    নির্বাহী সম্পাদক: মো: সাইফুল ইসলাম চৌধূরী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আর কে ফারুকী নজরুল,সহকারি ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: জাহানারা বেগম,
সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
এই ঠিকানা থেকে সম্পাদক কায়সার হাসান কর্তৃক প্রকাশিত।
কপিরাইটর্ ২০১৩: taazakhobor24.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল: ০১৮১৮১২০৯০৮, ০১৯১২৪৬৩৪৭০, ০১৬৭২৩৭৭৬৬৬
ই-মেইল: taazakhobor24@gmail.com, facebook: taaza khobor

বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৮