আপলোড তারিখ : 2018-01-09
নড়াইলে পেটে গজ ব্যান্ডেজ রেখেই সেলাই,গৃহবধু মত্যু শয্যায়
নড়াইলে পেটে গজ ব্যান্ডেজ রেখেই সেলাই,গৃহবধু মত্যু শয্যায় -ফাইল ফোটো- হুমায়ুন কবীর রিন্টু,তাজাখবর২৪.কম,নড়াইল: নড়াইলের ফ্যামিলি কেয়ার হাসপাতালে ত্রুটিপূর্ণ সিজারিয়ান অস্ত্রোপাচারে শারমিন খতুনের (২৫) জীবন সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। তার স্বজনরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের সময় রোগির পেটে গজ ব্যান্ডেজ থেকে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি গোপন রাখতে রোগিকে অন্যত্র চিকিৎসা নিতেও বাঁধা দেয়া হয়েছে। সাড়ে ৩ মাস নিজেদের কব্জায় রেখে চিকিৎসা সেবার নামে প্রায় ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। রোগির অবস্থা বেগতিক হলে তার ছাড়পত্রটিও কৌশলে নিয়ে নেয়া হয়। শনিবার (৬ জানুয়ারি) যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগির পুনরায় অস্ত্রপাচারের মাধ্যমে গজ ব্যান্ডেজ বের করা হয়েছে বলে তার স্বজনদের দাবি। তবে এ বিষয়ে সুখ খুলতে চাননি গজ ব্যান্ডেজ বের করা চিকিৎসকেরা। রোগি শারমিনের স্বজনরা জানান, ২০১৭ সালের ২৯ জুলাই সকালে মাগুরার শালিখা উপজেলার দরিখাটোর গ্রামের মাসুদ মোল্যার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা শারমিন খাতুনের প্রসব বেদনা শুরু হয়। এসময় তিনি নড়াইল সদর উপজেলার ধোন্দা গ্রামে পিতার বাড়িতে ছিলেন। তাৎক্ষনিক তাকে নড়াইল সদর হাসপাতাল সড়কের ফ্যামিলি কেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। ৮ হাজার টাকা চুক্তিতে ওইদিন বিকেলে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেন নড়াইল সদর হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ জিএম নূরুজ্জামান। অস্ত্রপাচারের মাধ্যমে ছেলে সন্তান প্রসবের ৬ দিন পর তিনি বাড়ি ফিরে যান। দেড় মাস পার হতেই তার পেটে হালকা যন্ত্রনা শুরু হয়। এরপর যন্ত্রনা বাড়তে থাকে। প্রচন্ড যন্ত্রনা সইতে না পেরে তিনি ডাঃ জিএম নূরুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করেন। ডাঃ নুরুজ্জামান জানান, ইনফেকশনের কারনে এমনটা হচ্ছে। কিছু ঔষধ দিয়ে বলেন এতে  ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু তার পেটের যন্ত্রনা মোটেও কমেনি। বরং বাড়তে থাকে। তাকে প্রতি সপ্তাহে একদিন আসার পরামর্শ দেন। আসা মাত্রই জিএম নূরুুজ্জামান তাকে আল্ট্রাসনো করিয়ে বলা হয় ইনফেকশন অনেকটা কমে গেছে। এভাবে তাকে ১৬ বার আল্ট্রাসনো করা হয়েছে। প্রতিটি আল্ট্রাসনো রিপোর্ট চিকিৎসক নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন। এক পর্যায়ে মারাতœক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফ্যামেলি কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘদিন তার চিকিৎসা দেয়া হয়। এরই মধ্যে নানা অজুহাতে ও আল্টাসনো করিয়ে শারমিনের পরিবারের নিকট হতে দফায় দফায় ৮০ থেকে ৮৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। ক্রমেই রোগির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। রোগির অবস্থা বেগতিক বুঝতে পেরে গত ২০ ডিসেম্বর শারমিনকে অন্যত্র নেয়ার পরামর্শ দেন ডা. জিএম নূরুজ্জামান। ২১ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৫৫১৭১/৪৭। শারমিনের পিতা নড়াইল সদর উপজেলার ধোন্দা গ্রামের মনি মিয়া জানান, তার মেয়ের অস্ত্রোপচারের সময় পেটে গজ ব্যান্ডেজ থেকে যাওয়ার ঘটনাটি গোপন করতে গিয়ে ডাঃ নূরুজ্জামান ও হাসপাতালের মালিক মুকুল হোসেন রোগিকে চিকিৎসা সেবার নামে নিজেদের কব্জায় রেখে দেন দীর্ঘদিন। তাকে প্রায় মেরেই ফেলেছিল। অন্যত্র নিয়ে রোগির চিকিৎসা নেয়ার কথা বলা হলেও তারা যেতে দেননি। নিজেদের অপরাধ ঢাকতে রোগি আটকে রেখে এভাবে তারা মেরেই ফেলতে চেয়েছিল। শারমিনের ননদ কাকলী আক্তার জানান,যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাঃ শারমিন নাহার পলির পরামর্শে যশোর হতে আল্ট্রাসনো করার পর তারা জানতে পারেন রোগির পেটের মধ্যে শক্ত কি যেন রয়েছে। যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের  গাইনী বিভাগের চিকিৎসক রীনা ঘোষ ও শারমিন নাহার পলির নেতৃত্বে শারমিনকে পূণরায় অস্ত্রোপচার করা হয়। ওই সময় তারা রোগির পেট থেকে গজ ব্যান্ডেজ বের করেন। বর্তমানে শারমিন খাতুন গাইনী ওয়ার্ডের ৫ নম্বর শয্যায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিষয়টি সম্পর্কে ডা. শারমিন নাহার পলির কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের কিছু জানাতে চাননি। ডাঃ রীনা ঘোষের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে কল দেয়া হলে তিনিও বিষয়টি এড়িয়ে যান। নড়াইলের ফ্যামেলি হাসপাতালের পরিচালক কথিত ডা. মুকুল হোসেন জানিয়েছেন, তার হাসপাতালে ডাঃ জিএম নূরুজ্জামান রোগি শারমিনকে ৬ মাস আগে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেছিলেন। তার ক্ষতস্থানে ইনফেকশন হয়ে যাওয়ায় ২ মাস পর চিকিৎসার জন্য রোগিকে আনা হয়। ডাঃ নূরুজ্জামানের পরামর্শে রোগিকে কয়েকদিন ভর্তি রেখে নিয়মিত ড্রেসিং করা হয়েছে। রোগির অবস্থার অবনতি হলে অন্যত্র রেফার্ড করা হয়েছে। নড়াইল সদর হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের জুনিয়র কনসাল্টেন্ট ডাঃ নুরুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি। এছাড়া ফ্যামিলি কেয়ার হাসপাতালের বিরূদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ শারমিনের পরিবার ও সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট এ হাসপাতালের বিরূদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।


তাজাখবর২৪.কম: ঢাকা মঙ্গলবার ০৯ জানুয়ারি ২০১৮, ২৬ পৌষ ১৪২৪
      
 

এই বিভাগের আরো সংবাদ

advertisement

 




                                     সম্পাদক: কায়সার হাসান
                    নির্বাহী সম্পাদক: মো: সাইফুল ইসলাম চৌধূরী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আর কে ফারুকী নজরুল,সহকারি ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: জাহানারা বেগম,
সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
এই ঠিকানা থেকে সম্পাদক কায়সার হাসান কর্তৃক প্রকাশিত।
কপিরাইটর্ ২০১৩: taazakhobor24.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল: ০১৮১৮১২০৯০৮, ০১৯১২৪৬৩৪৭০, ০১৬৭২৩৭৭৬৬৬
ই-মেইল: taazakhobor24@gmail.com, facebook: taaza khobor

বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৮