আপলোড তারিখ : 2017-12-30
নড়াইলের মধুমতি নদীর অব্যাহত ভাঙনে দিশেহারা মঙ্গলপুর ও চাপুলিয়াবাসী
নড়াইলের মধুমতি নদীর অব্যাহত ভাঙনে দিশেহারা মঙ্গলপুর ও চাপুলিয়া গ্রামবাসী হুমায়ুন কবীর রিন্টু,তাজাখবর২৪.কম,নড়াইল: চরমঙ্গলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চাপুলিয়া দাখিল মাদরাসা টিকিয়ে রাখার দাবি নদী ভাঙনে নিঃস্ব ৪ শতাধিক পরিবার, ভেঙ্গেছে কৃষি জমি, রাস্তা-ঘাট, গাছপালা ভাঙছে মধুমতি। নিংস্ব হচ্ছে মানুষ। বার বার বাড়ি ঘর সরিয়ে তৈরী করছে আবাসস্থল। প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে তারা বেঁচে আছে। এ বড় দূর্বিসহ কঠিন জীবন। রাজপথের লড়াই সংগ্রামে পেটে খাবার ও পরনে ভালো কাপড় থাকে। কিন্তু এদের জীবন সংগ্রামে পেটে খাবার থাকে না। থাকেনা পরনে ভালো কাপড়। বছরের পর বছর চলছে এদের বেচে থাকার লড়াই। পূর্ব পুরুষ হতে চলছে এ লড়াই। বংশ পরম্পরায় চলে আসছে। বেঁচে থাকার এ লড়াই যেন থামার নয়। লড়াই সংগ্রামে অনেকে ভিটে মাটি হারিয়ে নির্বাক চেয়ে থাকে মধুমতির পানে। আর ভাবে হায়রে মধুমতি সবই নিয়ে গেলি! এ ভয়াবহ করুণ পরিনতির শিকার হয়ে অসংখ্য পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে।  গতকাল সরজমিন ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা যায় শুস্ক মৌসুমেও ভাঙছে সর্বগ্রাসী মধুমতি। মধুমতি নদীর অব্যাহত ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মঙ্গলপুর ও চাপুলিয়া গ্রামবাসী। নদী ভাঙনে নিঃস্ব এই দুই গ্রামের ৪ শতাধিক পরিবার। প্রায় ১৫ বছর ধরে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে নদীতে পানির চাপ না থাকলেও ইতোমধ্যে ভেঙ্গেছে দু’টি গ্রামের বসতবাড়ি। নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে গাছপালাসহ কৃষি জমি। মধুমতি নদী ভাঙনের শিকার নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চরমঙ্গলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং চাপুলিয়া বাবুচ্ছন্নাৎ দাখিল মাদরাসা টিকিয়ে রাখার দাবি করেছেন শিক্ষক. শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী। মঙ্গলপুর গ্রামের ইসহাক আলী বলেন, মধুমতি নদীগর্ভে তাদের এলাকার ২শ বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে। এখন চরমঙ্গলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ভাঙছে। মুক্তিযোদ্ধা মোল্যা তমসিল আলী জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে মঙ্গলপুর গ্রামটি ভাঙছে। ভাঙনের কারণে অনেকে পথের ভিখারি হয়ে গেছে। তাদেরব দুর্ভোগ বড়েই চলেছে। বিশাল খেলার মাঠটির চৌদ্দআনা (বেশির ভাগ) মধুমতি নদী গর্ভে চলে গেছে। কোটাকোল ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মুজিবার রহমান বলেন আগে এখানে প্রায় ২ হাজার ভোটার ছিল। নদী ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে অনেক বাড়ি ঘর চলে গছে অন্যত্র। বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ভোটার আছেন। এছাড়া মধুমতি নদী ভাঙনে গাছপালা, কৃষি জমিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে এগিয়ে আসার আহবান জানান এই জনপ্রতিনিধি। চরমঙ্গলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহাবুদ্দিন মোল্যা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মধুমতি নদী ভাঙতে ভাঙতে এখন বিদ্যালয়ের কাছাকাছি চলে এসেছে। বিদ্যালয় মাঠটি  প্রায় বিলীন হওয়ায় শিক্ষার্থীরা খেলাধূলা করতে পারে না। নদীতে পড়ে যাওয়ার ভয়ে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে আসতে দিতে চান না। যে কারণে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে। শিক্ষার্থী শরীফ, আসগর  সহ অন্যদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভাঙন প্রতিরোধে যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেন। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শাহাদাত হোসেন বলেন ১৯৮৫ সাল থেকে লোহাগড়া উপজেলার মঙ্গলপুর গ্রামটি ভাঙছে। ইতোমধ্যে ইটভাটা, বাড়িঘর, রাস্তাঘাটসহ অনেক ফসলি জমি নদী গর্ভে চলে গেছে। ভাঙন প্রতিরোধে পাশের বড়দিয়া এলাকায় কয়েক বছর আগে বক্ল ফেলা হলেও মঙ্গলপুরে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এদিকে নড়াইলের কোটাকোল ইউনিয়নের চাপুলিয়া বাবুচ্ছন্নাৎ দাখিল মাদরাসা ভাঙনের কবলে পড়েছে। সেই সাথে ফসলি জমি, গ্রামের কাঁচা রাস্তাসহ বাড়িঘর মধুমতিতে নিঃশেষ হতে যাচ্ছে। চাপুলিয়া এলাকার প্রায় ৩শ বাড়ি ভাঙনের হুমকিতে আছে। নভেম্বরের প্রথম দিকে নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধ ভাবে বালুকাটায় চাপুলিয়া এলাকার মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। যদিও লোহাগড়া উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে গত ১২ নভেম্বর চাপুলিয়া এলাকায় মধুমতি নদী থেকে অবৈধ বালুকাটা বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় ভাঙন প্রতিরোধের দাবিতে সম্প্রতি এলাকাবাসী চাপুলিয়ায় মানববন্ধন করেন। চাপুলিয়ার আমিরুল ইসলাম বলেন, চাপুলিয়া মাদরাসা থেকে খাশিয়াল খেয়াঘাট পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার অংশে বালুকাটায় ২ বছর ধরে মধুমতি নদী ভাঙছে। এতে ৪ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৩শ বাড়িঘরসহ গ্রামের ভেতরের কয়েকটি রাস্তা ভাঙনের হুমকিতে আছে। চাপুলিয়া বাবুচ্ছন্নাৎ দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মোল্যা বাবুল হোসেন বলেন ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ মাদরাসাটি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। তবে মধুমতি নদীর ভাঙনে মাদরাসাটি হুমকি মুখে। অপর শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র দাস বলেন মধুমতির করালগ্রাসে এলাকার কৃষি জমি, বসতবাড়ি, কবরস্থানসহ বিভিন্ন জায়গা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু কাটায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মাদরাসার সাবেক সুপার হাবিবুর রহমান বলেন মাদরাসার প্রায় ৬ বিঘা জমির মধ্যে ইতোমধ্যে ৪ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। চাপুলিয়ার হুমায়ুন কবীর বলেন এবার বর্ষা মওসুমে তাদের বাড়ির বেশির ভাগ জায়গা ভেঙ্গে মধুমতিতে চলে গছে। কোনো ভাবে বসত ঘর দাঁড়িয়ে আছে। এখন শুষ্ক মওসুমে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ না করলে তারা কোথায় যাবো?   চাপুলিয়া গ্রামের কাঁচা রাস্তাটি প্রায় ২ বছর আগে নদী গর্ভে চলে গেছে। শওকাত এবং শাজাহান জানান নদী ভাঙনে নিঃস্ব লোকজন এখন কোথায় যাবে? বার বার নদী ভাঙ্গনে পড়ে ঘরবাড়ি সরাতে সরাতে তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এখন আর যাওয়ার জায়গা নেই। বুলু বিশ্বাস জানান তাদের কোন জমি নেই। অতিকষ্টে আছেন অল্প জায়গায়। তাদের বাড়ি ভেঙ্গে গেলে নতুন করে বাড়ি করার উপায় নেই। কোটাকোল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আবু হোসেন জানান তাদের প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙছে। ভাঙনের কবলে পড়ে তারা মধুমতি নদীর ও-পার থেকে এ-পারে চলে এসেছেন। এখন যেখানে বসবাস করছেন, সেখানেও ভাঙছে। ভাঙন প্রতিরোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ’র দাবি জানান। কাজলি বেগম বলেন তারা খুব কষ্টের মধ্যে আছেন। কোনো সাহায্য-সহযোগিতা পান না। নারগিস বেগম বলেন কেউ তাদের খোঁজ-খবর রাখে না। বসত ভিটা ছাড়া অন্য জায়গা-জমি নেই। সেটুকুও ভাঙ্গার উপক্রম। পানি উন্নয়ন বোর্ড নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহানেওয়াজ তালুকদার বলেন, লোহাগড়া উপজেলার মঙ্গলপুর ও চাপুলিয়া এলাকার ভাঙন প্রতিরোধে প্রস্তাব পাঠানো হবে। নির্দেশনা পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।


তাজাখবর২৪.কম: ঢাকা শনিবার ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৬ পৌষ ১৪২৪


এই বিভাগের আরো সংবাদ

advertisement

 




                                     সম্পাদক: কায়সার হাসান
                    নির্বাহী সম্পাদক: মো: সাইফুল ইসলাম চৌধূরী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আর কে ফারুকী নজরুল,সহকারি ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: জাহানারা বেগম,
সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
এই ঠিকানা থেকে সম্পাদক কায়সার হাসান কর্তৃক প্রকাশিত।
কপিরাইটর্ ২০১৩: taazakhobor24.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল: ০১৮১৮১২০৯০৮, ০১৯১২৪৬৩৪৭০, ০১৬৭২৩৭৭৬৬৬
ই-মেইল: taazakhobor24@gmail.com, facebook: taaza khobor

মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮