আপলোড তারিখ : 2017-12-05
আদালতের রিট মানছেনা সিন্ডিকেট, ডেমরায় অবাধে চলছে নিষিদ্ধ ইজিবাইক-অটোরিকশা
আদালতের রিট মানছেনা সিন্ডিকেট, ডেমরায় অবাধে চলছে নিষিদ্ধ ইজিবাইক-অটোরিকশা-ফাইল ফটো- সফিকুল ইসলাম,তাজাখবর২৪.কম,ঢাকা: ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা সরকারিভাবে নিষিদ্ধ। আর আদালতের রিট অনুযায়ী রাজধানীতে কোনভাবেই এসব যান চলাচলের সুযোগ নেই। তারপরও সারাদেশের ন্যায় রাজধানীর ডেমরায় বাধাহীনভাবে চলছে সরকার নিষিদ্ধ বিদ্যুৎ নির্ভর হাজারো ইজিবাইক ও অটোরিকশা। আর এসব অবৈধ যান চলাচলকে কেন্দ্র করে চলছে বিদ্যুৎ চুরির মহোৎসব। প্রশাসনের নাকের ডগায় ইজিবাইক-অটোরিকশা চললেও বিষয়টি যেন তাদের নজরেই আসেনা। এতে একদিকে যেমন রাস্তায় অসহনীয় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। এসব অবৈধ যানের অবাধ চলাচল দেখে মনে হয় অবৈধ ইজিবাইক ও অটোরিকশার বন্ধে বা নিয়ন্ত্রণ করার কোন বৈধ কর্তৃপক্ষ নেই এখানে। আর এ সুযোগে এক শ্রেণীর সুবিধাবাদী সিন্ডিকেট প্রশাসনের চোখের সামনে চুটিয়ে নিষিদ্ধ যানের  ব্যবসা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোন কর্তৃপক্ষ নয়, কতিপয় সরকার দলের কিছু নেতা আর পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে এসব ইজিবাইক ও অটোরিকশা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বাধাহীনভাবে এসব যানবাহন এখন দাবড়ে বেরাচ্ছে ডেমরার প্রধান প্রধান সড়ক, অলিগলিসহ ৩টি ইউনিয়ন অঞ্চলের সড়ক। আর প্রতিদিনই ডেমরার কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে এসব যানবাহন। এলাকার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে নিত্য যানজটের সৃষ্টি করছে ইজিবাইক-অটোরিকশা। বিশেষ করে ইজিবাইক অতিরিক্ত যানজট সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।  
রিকশা কম বেশি সবারই প্রিয় বাহন। খোলামেলা বলে চড়তেও আরাম। খুব বেশি দূরত্ব না হলে যে কোন গন্তব্যে সহজে যাওয়া যায়। ভাড়াও অনেক সময় নাগালে থাকে। পরিবেশ দূষণ হয়না। হাওয়া খেতে খেতে স্বাচ্ছন্দেই চলাচল করা যায়। এই রিকশা যাতায়াত অনেকের কাছে রোমাঞ্চকর বলেও মনে হয়। সব মিলিয়ে রিকশায় চড়তে পছন্দ করেনা এম লোক খুব কম পাওয়া যাবে। তবে ডেমরায় রিকশায় চড়ার বিপরীত দিক রয়েছে। যত্রতত্র পার্কিং, অতিরিক্ত ভাড়া হাকানো কিংবা রিকশাওয়ালার দুর্ব্যবহারসহ আছে নানা বিড়ম্বনা। এসব বিড়ম্বনার সঙ্গে ইদানিংকালে ডেমরায় যোগ হয়েছে বিদ্যুৎ নির্ভর ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা। সড়কে দ্রুত গতির বাস ট্রাকা, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকারের সামনে দিয়ে অপ্রতিরোধ্য গতিতে চলতে দেখা যায় ব্যাটারি চালিত রিকশা। রিচার্জেবল ব্যাটারি দিয়ে এসব অটোরিকশা চালাতে হয় বলে বিদ্যুতের অপচয় ঘটছে বেশি। মোট কথা দিন যতই যাচ্ছে ততই বাড়ছে অতিরিক্ত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার পরিমাণ। অটোরিকশা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিত্য দুর্ঘটনা। প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। আর বিভিন্ন এলাকার দুর্ঘটনার খবর পাওয়া অধিকাংশের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে-অটোরিকশার পরিমাণ বৃদ্ধি,অদক্ষ ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালক এবং অসাবধানতা। প্যাডেল চালিত রিকশা চালানো কষ্টসাধ্য বলে চালকেরা অটোরিকশা চালাতেই উৎসাহিত হচ্ছেন। দ্রুতগামী বিধায় যাত্রীরাও আরোহনে সাচ্ছন্দ মনে করছেন। চাহিদা বৃদ্ধির এ সুযোগটাকে কেন্দ্র করেই ডেমরায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ক্রমেই বাড়ছে। আর নিষিদ্ধ বলে অসাধু সিন্ডিকেট ও প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের পকেট ভারী হচ্ছে।
অটোরিকশার কুফল হিসেবে দেখা যায়, এ রিকশার চালকেরা হঠাৎ যে কোন জায়গায় শক্ত ব্রেক করে দাড়িয়ে পড়ছে। কোন লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই নির্বিঘেœ সড়কে চলছে। অটোরিকশার প্রচলনে মানুষের যাতায়াত কিছুটা সুবিধা হলেও অতিষ্টতা কম নয়। সব মিলিয়ে এসব রিকশার প্রচলন না থাকাটাই শ্রেয় বলে মনে করেন ডেমরার অভিজ্ঞ সচেতন মহল। ডেমরা, সারুলিয়া ও মাতুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ডেমরা-যাত্রাবাড়ী থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় দুই শতাধিক গ্যারেজ ভিত্তিক ৭ হাজারের বেশি ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশা চলাচল করছে। আর প্রতিনিয়ত বাড়ছে এদের সংখ্যা। তাছাড়া সারাদিন এসব যান চলাচল করার পর ব্যাটারিগুলো সারা রাত বৈদ্যুতিক চার্জে বসানো থাকে। এতে করে সর্বস্তরে বিদ্যুৎ খরচ বেড়েছে দ্বিগুণ ও অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট মানুষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে এবং একশ্রেণীর রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতাদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে এসব যানবাহন ডেমরায় অবাধে চলছে। নিষিদ্ধ করা সত্ত্বেও তা যেমন বন্ধ হয়নি, তেমনি প্রতিদিনই নতুন নতুন ইজিবাইক ও অটোরিকশা নামছে সড়কে। সিন্ডিকেটদের কাছ এককালীন টাকার বিনিময়ে সড়কে বৈধতা পাচ্ছে এসব যান। পরে মাসোহারা ভিত্তিক টাকা জমা দিলেই সারা বছর সড়কে চলতে পারে ইজিবাইক-অটোরিকশা। দেখা গেছে রানীমহল থেকে বড়ভাঙ্গা-ডগাইর বাজার হয়ে কোনাপাড়া বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত রাস্তার চীন থেকে আগত ইজিবাইকের দাপট বেশি। তাছাড়া হাজীনগর থেকে বড়ভাঙ্গা হয়ে সানার পর্যন্ত ইজিবাইকের চলাচল। বিশেষ করে অফিস ও ‘স্কুল টাইমে রাস্তায় হুমরি খেয়ে পড়ে ইজিবাইক। প্রশস্ত অনেক বেশি বলে সড়কে জায়গা নেয় অনেক বেশি। প্রতিযোগীতার ফলে ইজিবাইকের যানজট লেগেই থাকে স্কুল-কলেজের সামনেসহ রাস্তায় রাস্তায়। এদিকে নতুন ইজিবাইকের প্রথম অনুমোদন ৩ হাজার টাকা। পরে মাসভিত্তিক টাকায় চলে সারা বছর।
সূত্রে আরও জানা যায়,এসব ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে গিয়ে প্রতিদিন শত শত মেগাওয়াট সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ গ্রিড থেকে বেরিয়ে হয়ে যাচ্ছে, যা বিদ্যুৎ সংকটকে তীব্র করে তুলেছে। বিদ্যুতের জন্য মানুষের হাহাকারের শেষ নেই। বিদ্যুতের এই অপচয়ের পাশাপাশি প্রতিদিন দুর্ঘটনাও ঘটছে। নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর এই যানবাহন বন্ধে কোনো উদ্যোগ না থাকায় তা এখন বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। এই পরিবহনকে ঘিরে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি হচ্ছে।
জানা গেছে, এসব ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালকদের কোনো দক্ষতার প্রয়োজন হয় না। নেই ড্রাইভিং লাইসেন্সও। এতে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া ডেমরার অলিগলি ও সড়কে চলাচলের কারণে যানজট আরো তীব্র হচ্ছে। আর এসব অবৈধ যানবাহনের পেছনের শক্তি হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের একশ্রেণীর প্রভাবশালী নেতা ও পুলিশের কিছু সদস্যের যোগসাজস। আবার থানার কর্মকর্তারাও এগুলো প্রশ্রয় দিয়ে চলেছেন নিজেদের সুবিধার জন্য। ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা একটি শ্রেণীর অবৈধ আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবৈধভাবে এসব পরিবহনের ব্যাটারি চার্জ দিতে গিয়ে একদিকে যেমন বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে, অন্যদিকে সরকারও বিপুল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে।
সরেজমিনে জানা যায়, রানীমহল থেকে ডগাইর বাজার ইজিবাইকের ভাড়া যেখানে ছিল ১০ টাকা তা এখন ২০ টাকা। ডগাইর বাজার থেকে সাইনবোর্ড ও বড়ভাঙ্গা পর্যন্ত ভাড়া ১০ টাকা থেকে বেড়ে গিয়ে এখন ২০ টাকা। স্টাফ কোয়ার্টার থেকে বড়ভাঙ্গা যেখানে ছিল ৫ টাকা তা এখন ১০টাকা। তবে কোনাপাড়া স্ট্যান্ড থেকে ডগাইর বাজার পর্যন্ত ১০ টাকা ভাড়া ঠিক থাকলেও অতি বৃষ্টি বা পরিবহন কম থাকলে সুযোগ বুঝে চালকেরা ২০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে ফেলে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ভাড়া অনেক সময় তিনগুণ আদায় করছে চালকেরা। যেখানে রানীমহল থেকে ডগাইর বাজার ভাড়া ছিল ২০ টাকা, রাস্তা খারাপ বলে সেখানে এখন ভাড়া ৫০-৬০ টাকা। তবে বেশিরভাগ সময় দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করে থাকে চালকেরা। এতে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীসাধারণ। প্রয়োজনকে জিম্মি করে চালকেরা অধিক ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
বিদ্যুৎ অপচয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে পাওয়ার ডিস্ট্রিভিউশন কোম্পানির (এনওসিএস-ডেমরা)  প্রকৌশলী মো. ইব্রাহীম বলেন, জরুরী ভিত্তিতে সরকার নিষিদ্ধ ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক-অটোরিকশার গ্যারেজগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহের বৃহৎ স্বার্থকে এসব সামনে রেখে এসব অবৈধ যানবাহন কিছুতেই সড়কে চলাচল করতে দেয়া ঠিক হবেনা।
অভিজ্ঞমহল বলছেন, এসব ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এখানে কোনো ধরনের অনুকম্পা দেখানোর সুযোগ নেই। জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে। যারাই এর পেছনে জড়িত থাকুক না কেন, আইন লঙ্ঘনের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। রাস্তা থেকে এসব পরিবহন তুলে দিতে হবে। ইজিবাইকের আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। এসব অবৈধ পরিবহনের কারণে অলিগলিসহ রাস্তায় যানজট সৃষ্টি, দুর্ঘটনা ঘটা এবং মূল্যবান বিদ্যুতের অপচয় হয়। তাই সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং যাতায়াত মসৃণ করতে এসব নিষিদ্ধ পরিবহন নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই।
এ বিষয়ে রামপুরা ট্রাফিক জোনের টি আই বিপ্লব ভৌমিক বলেন, সড়কে যানজটের সৃষ্টি হলে সবাই ট্রাফিক পুলিশকেই দোষ দেয়। কিন্তু যানজট সৃষ্টির নেপথ্যে থাকে নিষিদ্ধ অবৈধ সব যানবাহনের অবাধ চলাচল। রাজধানীর ডেমরা থানা এলাকায় একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় নিষিদ্ধ করা এসব যানবাহন দাবড়ে বেরাচ্ছে। নিষিদ্ধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকায় এসব সিন্ডিকেট ট্রাফিক পুলিশের ওপর ক্ষিপ্ত। ডেমরার সড়কগুলোতে যানজট নিরসনে প্রয়োজনে ডেমরার নিষিদ্ধ সব যানবাহন আটক করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম কাওসার অহমেদ বলেন, জনগণের অবাধ চলাচলের সুবিধার্থে ডেমরার অভ্যন্তরীণ সড়কে কিছু নিষিদ্ধ ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক-অটোরিকশা চলছে বলে আমাদের কাছে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এসব যানবাহন সিন্ডিকেটদের সঙ্গে পুলিশের কোন সম্পর্ক নেই। তবে  প্রভাবশালী  যে কোন মহলই জড়িত থাকুক না কেন ডেমরা থানা পুলিশ এ বিষয়ে কোন আপশ করবেনা।



তাজাখবর২৪.কম: ঢাকা মঙ্গলবার ০৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪


এই বিভাগের আরো সংবাদ

advertisement

 




                                     সম্পাদক: কায়সার হাসান
                    নির্বাহী সম্পাদক: মো: সাইফুল ইসলাম চৌধূরী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আর কে ফারুকী নজরুল,সহকারি ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: জাহানারা বেগম,
সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান,নগর সম্পাদক: তাজুল ইসলাম।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
এই ঠিকানা থেকে সম্পাদক কায়সার হাসান কর্তৃক প্রকাশিত।
কপিরাইটর্ ২০১৩: taazakhobor24.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল: ০১৮১৮১২০৯০৮, ০১৯১২৪৬৩৪৭০, ০১৬৭২৩৭৭৬৬৬
ই-মেইল: taazakhobor24@gmail.com, facebook: taaza khobor

সোমবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৭