আপলোড তারিখ : 2017-09-29
সিরাজগঞ্জ শহরের স্বাধীনতা স্কয়ার চরম অবহেলায়
সিরাজগঞ্জ শহরের স্বাধীনতা স্কয়ার চরম অবহেলায়মোঃ আব্দুর রহমান,তাজাখবর২৪.কম,সিরাজগঞ্জ : ইদানিং আজকাল দেখা যাচ্ছে সিরাজগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্রে বিশেষ করে যেখানে উন্মুক্ত জনসমাবেশে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পরিকল্পনা এখানেই হরহামেশাই বসে। এই চত্ত্বরে সকল শ্রেণীর খোরাকপ্রিয় গণমানুষের কাছে একটা পরিচিত নাম ‘স্বাধীনতা স্কয়ার চত্ত্বর’। তো কথা হচ্ছে এখানে এই স্কয়ার চত্ত্বরে একেবারে অবহেলার শিকার। অধিকাংশ পাবলিকের কারণে স্কয়ার চত্ত্বরে ময়লা ও বিভিন্ন নষ্টদ্রব্যগুলো অনির্দিষ্টভাবে ফেলে রাখা হয়। আর যে কারণে এটাই যথেষ্ট নয়, এখানেও কিছু মানুষের বদঅভ্যাসের কারণে প্রস্রাব পর্যন্ত করে আসছে। যেখানে এই পবিত্র জায়গায় কোনো বাংলার মানুষেরা (?!) সচেতন হওয়ার কথা ছিল, সেখানেই কিনা এই জাতীয় উপদ্রব সৃষ্টি করে জায়গাটিকে অপবিত্র ও নোংরা জায়গায় পরিহাসের পাত্র হয়েছে।
ব্যাকগ্রাউন্ডে ফিরে গেলে জানা যায়, যে তদানিন্তন তত্ত্বাবধায় সরকারের সময় (১/১১) এই জায়গাতে কিছু অবৈধ স্থাপনা বসতি গড়েছিল। সেটাকে উচ্ছেদ করে দিয়ে একে অন্যভাবে সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টির অনুকূলে রাখতে সিরাজগঞ্জ পৌরসভা দ্বারা অনুমোদন নিয়ে সেখানে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনকল্পে স্থানীয় প্রশাসন সেভাবে আকর্ষণীয় মন্যুমেন্ট ও নতুন স্থাপনার নকশা তৈরি করা হয়। কাজেই প্রথমদিকে সুন্দরভাবে চললেও বর্তমানে হতশ্রী চেহারায় পরিণত হয়েছে। যে কারণে এখনকার মন্যুমেন্ট ও টাইলস ভেঙেচুরে একাকার হয়ে গেছে। সেই সাথে মানুষের মচ্ছব ও প্রস্রাবের কারণে দুর্গন্ধ টেকা দায়।
কিন্তু অতীত দুঃখের বিষয়, এই স্কয়ার চত্ত্বরে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও সেখানে পরিস্কার ও পরিচ্ছন্ন করার মতো পৌরসভা কর্তৃপক্ষ একবারও ভেবে দেখেন না। এ অবস্থার মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ নাকে খত নিয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে হয়। এমন জীর্ণশীর্ণ ও ভঙ্গুর দৃশ্য দেখে মনে হয়, এখানকার প্রশাসন কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করে চলেছে। তারা এখন নাক ডেকে ঘুমুচ্ছে। জেগে উঠলেও তারা আবারও বাংলা ‘দ’ এর মতো বসে বসে ঝিমুয়।  
অবাকের বিষয় হচ্ছে, সিরাজগঞ্জ পৌরসভা ১৮৩৫ সালে বৃটিশ আমলে ঝকঝকে ও তকতকে নতুন কাঠামো নিয়ে সিরাজগঞ্জ মহকুমাকে আকর্ষণীয় করতে রাণী এলিজাবেথের আগমন উপলক্ষে নানা রকম ব্যাপক আয়োজন করেছিল। আজ সেই সিরাজগঞ্জ জেলা হয়েও প্রথমশ্রেণীর পৌরসভার বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পেয়েও এই ডিজিটাল যুগে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীর সাথে। সেই বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর আজ ৪৪ বছরেও সিরাজগঞ্জ পৌরসভা কোনো উন্নতি করতে পারেনি। ফলে অন্যান্য স্থাপনার মতো এখানেও সরকারি কা মাল দারিয়ামে ডাল-এর কায়দায় এখনকার কর্তৃপক্ষ ঘুমিয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সিরাজগঞ্জবাসী মনে করে, সেই অর্জিত স্বাধীনতাকে সমুন্নত ও সুসংহতভাবে এবং দেশের স্বাধীনতাকে চিরদিন মনে রাখার মতো বর্তমান প্রজন্মকে স্মরণ দিতেই এই স্বাধীনতা স্কয়ারকে আবারো নতুন করে ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে। সেখানে গণমানুষের প্রস্রাব করা যাবে না। যত্রতত্র ময়লা ফেলা যাবে না। এবং কর্তৃপক্ষের উচিত প্রতি অনুষ্ঠানের শেষে চারপাশে ময়লা ও আবর্জনা অপসারণ করতে হবে। সবশেষে, সিরাজগঞ্জবাসীদের প্রাণের দাবি-স্বাধীনতা স্কয়ারকে পবিত্র করা হোক।

তাজাখবর২৪.কম: ঢাকা শুক্রবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৪ আর্শ্বিন ১৪২৪


এই বিভাগের আরো সংবাদ

advertisement

 




                                     সম্পাদক : কায়সার হাসান
                    নির্বাহী সম্পাদক: মো: সাইফুল ইসলাম চৌধূরী
সহকারি ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: জাহানারা বেগম, সহকারি সম্পাদক: জহির হাসান।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:  মডার্ণ ম্যানশন (১৫ তলা) ৫৩ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
এই ঠিকানা থেকে সম্পাদক কায়সার হাসান কর্তৃক প্রকাশিত।
কপিরাইটর্ ২০১৩ : taazakhobor24.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
ফোন: ০৮৮-০২-৫৭১৬০৭২০, মোবাইল : ০১৮১৮১২০৯০৮, ০১৯১২৪৬৩৪৭০, ০১৬৭২৩৭৭৬৬৬
ই-মেইল : taazakhobor24@gmail.com, facebook: taaza khobor

বৃহস্পতিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৭